SIR Tribunal

এসআইআর ট্রাইবুনাল থেকে ফের ইস্তফা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির! ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব ছাড়লেন বিশ্বজিৎ বসু

এই মর্মে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগেকে চিঠি লিখে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।

কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ০২:৫৯

রাজ্যের এসআইআর সংক্রান্ত ট্রাইবুনাল থেকে ইস্তফা দিলেন কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েই তিনি ট্রাইবুনালের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই মর্মে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগেকে চিঠি লিখে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা নামগুলির নিষ্পত্তির দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাই কোর্টের উপর ন্যস্ত করেছিল। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ছিল, হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়ে ট্রাইবুনাল গঠন করবেন। সেই নির্দেশ মেনেই ট্রাইবুনাল গঠিত হয়। বর্তমানে বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা নামগুলি খতিয়ে দেখে নিষ্পত্তির কাজ চলছে সেখানে। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু এই ট্রাইবুনালেরই সদস্য ছিলেন। তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার বিবেচনাধীন ভোটারদের নাম সংক্রান্ত আবেদনের নিষ্পত্তির দায়িত্বে ছিলেন।

এর আগে, প্রায় মাসখানেক আগে কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দ্রজিৎ চট্টোপাধ্যায় একই ট্রাইবুনাল থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। প্রধান বিচারপতিকে লেখা চিঠিতে তিনি জানিয়েছিলেন, সল্টলেকের বাড়ি থেকে জোকার ট্রাইবুনালে যাতায়াত করতে তাঁকে প্রতিদিন যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে দীর্ঘ পথ যাতায়াতের ধকল সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছে। সেই কারণে দীর্ঘদিন ট্রাইবুনালের দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয় বলে তিনি জানিয়েছিলেন। এ বার ব্যক্তিগত কারণ আরও এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দেখিয়ে সরে দাঁড়ালেন।

এসআইআর নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ট্রাইবুনালে জমে থাকা আবেদনের সংখ্যা এবং সেগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিচারপতির সংখ্যা বাড়ানোর দাবিও উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে। তার মধ্যে আরও এক বিচারপতির ইস্তফায় নিষ্পত্তির কাজে গতি কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ১৭ জন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ট্রাইবুনালে রয়েছেন। সূত্রের খবর, প্রতিদিন ট্রাইবুনালের কাজও হচ্ছে না। ফলে বিবেচনাধীন ভোটারদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


Share