RG Kar Case

‘মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য চুপ ছিলাম’, আরজি কর-কাণ্ডে বিস্ফোরক শান্তনু সেন, মুখ্যমন্ত্রীকে সাহায্যের প্রস্তাব

শান্তনুর কথায়, ‘মেয়ের কেরিয়ারের কথা ভেবে মুখ বন্ধ রেখেছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চাইলে তাকে আরজি করের ঘটনা নিয়ে অনেক তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারি। মেয়ে এখন ডাক্তার হয়ে গিয়েছে। আমার আর কোনও পিছুটান নেই।’

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও শান্তনু সেন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ১১:৪০

আরজি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নতুন রাজ্য সরকারকে সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন। বুধবার তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চাইলে আরজি কর-কাণ্ড সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তিনি তুলে ধরতে প্রস্তুত। শান্তনুর কথায়, ‘মেয়ের কেরিয়ারের কথা ভেবে মুখ বন্ধ রেখেছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চাইলে তাকে আরজি করের ঘটনা নিয়ে অনেক তথ্য দিয়ে সাহায্য করতে পারি। মেয়ে এখন ডাক্তার হয়ে গিয়েছে। আমার আর কোনও পিছুটান নেই।’

বুধবার একাধিক সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন শান্তনু সেন। চিকিৎসক অভীক দে, বিরূপাক্ষ বিশ্বাস, সুদীপ্ত রায় এবং আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তোলেন তিনি। শান্তনুর দাবি, অতীতেও সন্দীপ ঘোষের নানা অনিয়ম ও কুকীর্তির কথা তিনি সামনে এনেছিলেন। তাঁর আক্ষেপ, ‘সেদিন আমার দেওয়া তথ্য সঠিক ভাবে দেখা হলে, এ দিনের সামনা সামনি হতে হতো না।’

সন্দীপ ঘোষের পিছনে প্রভাবশালী কারও মদত ছিল বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন শান্তনু সেন। যদিও কারও নাম তিনি স্পষ্ট করে বলেননি। তাঁর অভিযোগ, ‘সন্দীপ ঘোষকে প্রাথমিক পর্যায় সাসপেন্ড না করে অন্য মেডিক্যাল কলেজে প্রিন্সিপাল করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। এতে তো প্রমাণ হয় যে, সন্দীপ ঘোষের মাথার উপর কারও ছত্রছায়া ছিল, যাঁরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সন্দীপ ঘোষকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে।’

নিজের পরিবারের উপরও চাপ তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন শান্তনু। তিনি জানান, তাঁর মেয়ে আরজি কর মেডিকেল কলেজে পড়াকালীন নানা সমস্যার সম্মুখীন হন। অনার্স পাওয়ার পরেও তাঁকে ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। শান্তনুর দাবি, তিনি প্রতিবাদ করায় তাঁর বিরুদ্ধেও সাসপেনশনের খাঁড়া নেমে এসেছিল। সেই কারণেই মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে দীর্ঘদিন চুপ ছিলেন বলে জানিয়েছেন তিনি।


Share