Census 2027

‘স্কুল করার পরে বাড়ি যাবেন কখন,’ জনগণনার কাজে শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে বিকল্প ভাবতে রাজ‍্যকে পরামর্শ দিল কলকাতা হাই কোর্ট

শিক্ষকদের দাবি, তাঁরা জনগণনার কাজ করতে প্রস্তুত। সেই কাজকে প্রশাসনিক ভাবে ‘অন ডিউটি’ দেখাতে বলে দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে জনগণনার কাজে নিযুক্ত করলে শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিকল্প ভাবা হোক।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৬ ০৫:১৬

জনগণনার কাজে শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে শুনানি হয়েছে। কলকাতা হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, এক সঙ্গে এতগুলি শিক্ষককে জনগণনার কাজে নিযুক্ত নাও করা যেতে পারত। সে ক্ষেত্রে কয়েক জনকে এই কাজে নিলে বাকিরা স্কুল পরিচালনা করতে পারতেন বলে কলকাতা হাই কোর্ট মনে করছে।

অভিযোগ, শিক্ষকদের কর্মস্থলদের অনেকটা দুরে গিয়ে জনগণনার কাজ করতে হচ্ছে। এর ফলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। স্কুল পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। জনগণনার পরে বাড়ি ফিরতেও সমস্যা হচ্ছে। এই সময় যাবতীয় অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করে শিক্ষকদের একাংশ। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের রাজ্যের কাছে জানতে চান, শিক্ষকদের নিয়েগ করার আগে তাঁদের বায়োডাটা নেওয়া হয়েছিল কি না। তাঁরা কোথা থেকে আসছেন তা কেন রাজ্য জানার চেষ্টা করেনি তা নিয়ে প্রশ্ন করেন বিচারপতি।

রাজ‍্য সরকারের আইনজীবী জানান, দেশের সব রাজ‍্যে জনগণনার কাজ চলছে। কোথাও কোনও সমস্যা নেই। এই সমস‍্যা এই রাজ্যেই তৈরি হয়েছে। এর পাল্টা বিচারপতি জানান, শনিবারও শিক্ষকেরা স্কুলে ক্লাস নেন। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ক্লাস চলে। তাহলে কখন ক্লাস করবে আর কখনই বা জনগণনার কাজ করবেন? এর প্রেক্ষিতে রাজ্যের আইনজীবী জানান, শিক্ষকেরা বিকেল ৪টে পর্যন্ত স্কুলে থাকেন না। রাজ‍্যের এই বক্তব্য নথিভুক্ত করা হবে কি না জানতে চান বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। 

যদিও শিক্ষকদের দাবি, তাঁরা জনগণনার কাজ করতে প্রস্তুত। সেই কাজকে প্রশাসনিক ভাবে ‘অন ডিউটি’ দেখাতে বলে দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষককে জনগণনার কাজে নিযুক্ত করলে শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিকল্প ভাবা হোক। 

শিক্ষকদের কথা বিবেচনা করে রাজ্য সরকারকে রোটেশন পদ্ধতিতে চার থেকে পাঁচ জনকে নিয়োগ করে জনগণনার কাজ করানোর প্রস্তাব দেন। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে একদিন অন্তর এই কাজ করানো যেতে পারে বলে বলেও রাজ্য সরকারকে প্রস্তাব দেন। রাজ‍্য সরকারকে বিচারপতি বলেন, “আপনারা বিকল্প বন্দোবস্ত করুন। শিক্ষকেরা বাড়ি কখন যাবেন?” এ দিন মামলাকারী শিক্ষকদের কর্মস্থল, বাড়ির ঠিকানা রাজ্যের অ‍্যাডভোকেট জেনারেলকে জানানোর জন‍্য নির্দেশ দেন। আগামী মঙ্গলবার এই মামলাটির আবার শুনানি হবে। ওই দিনই শিক্ষকদের আবেদনের ভিত্তিতে নির্দেশ দেবেন।


Share