Transfer Policy

স্কুল শিক্ষকদের বদলি নীতিতে বড়সড় বদলের ভাবনা রাজ্যের! শুধু পছন্দের স্কুলে শূন্যপদ থাকলেই মিলবে না বদলি, পড়ুয়াদের স্বার্থে নতুন নিয়মের পথে বিকাশ ভবন

এত দিন বদলির ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত পছন্দ ও সংশ্লিষ্ট স্কুলে শূন্যপদকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও, এ বার সেই প্রক্রিয়ায় স্কুলের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং পড়ুয়াদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বিকাশ ভবন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ ০৫:২৪

সরকারপোষিত স্কুলের শিক্ষকদের বদলি নীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ভাবনাচিন্তা শুরু করল রাজ্য সরকার। এত দিন বদলির ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত পছন্দ ও সংশ্লিষ্ট স্কুলে শূন্যপদকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও, এ বার সেই প্রক্রিয়ায় স্কুলের সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং পড়ুয়াদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, বদলির নিয়মে একাধিক পরিবর্তন আনার পাশাপাশি গোটা প্রক্রিয়ায় স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে স্কুলশিক্ষা দফতরকেও।

দফতর সূত্রে খবর, নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষকদের বদলির আবেদন স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে জমা পড়লেও স্কুলশিক্ষা দফতরের অনুমোদন ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না কমিশন। অর্থাৎ, কোনও শিক্ষক তাঁর পছন্দের স্কুলে বদলি হতে চাইলেই তা নিশ্চিত হবে না। সংশ্লিষ্ট স্কুলের প্রয়োজন এবং রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষক-সঙ্কটের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। দফতরের কর্তাদের বক্তব্য, শিক্ষকদের বাড়ির কাছাকাছি কর্মস্থলে থাকার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পেলেও তার পাশাপাশি পড়ুয়াদের স্বার্থও দেখতে হবে।

বর্তমানে উৎসশ্রী পোর্টালের মাধ্যমে বদলির আবেদন করেন শিক্ষকরা। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এই পোর্টালের কার্যকারিতা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বদলির বর্তমান নিয়ম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শিক্ষকদের একাংশ। এত দিন কোনও শিক্ষক নিজের বাড়ির কাছাকাছি অন্য এলাকা বা জেলায় যেতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শূন্যপদ থাকা সাপেক্ষে স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে আবেদন করতে পারতেন। কিন্তু প্রস্তাবিত নতুন ব্যবস্থায় শুধুমাত্র পছন্দের স্কুলে শূন্যপদ থাকলেই বদলির অনুমতি মিলবে না।

ধরা যাক, বাঁকুড়ার কোনও স্কুলের ইতিহাসের শিক্ষক কলকাতার যাদবপুরে বাড়ির কাছাকাছি বদলি হতে চান। যাদবপুরের কোনও স্কুলে ইতিহাসের শিক্ষকের পদ ফাঁকা থাকলেও তাঁর বদলি নিশ্চিত নাও হতে পারে। পরিবর্তে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন স্কুলে ইতিহাসের শিক্ষকের চাহিদা কতটা, কোথায় শিক্ষক-সঙ্কট বেশি, তা খতিয়ে দেখবে স্কুলশিক্ষা দফতর। কোন স্কুলে শিক্ষক পাঠালে পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় থাকবে, সেই হিসাবেই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভাবনা রয়েছে।

শুধু সাধারণ বদলি নয়, পারস্পরিক বা আপস বদলির নিয়মেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে দু’জন শিক্ষকের মধ্যে পারস্পরিক বদলির সুযোগ রয়েছে। এবার সেই প্রক্রিয়ায় দু’জনের পরিবর্তে তিনজন শিক্ষককে যুক্ত করে বদলির ব্যবস্থা চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে।

এ দিকে, প্রস্তাবিত বদলি নীতি কার্যকর করতে বিধানসভায় আইন সংশোধনের প্রয়োজন হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সম্প্রতি সরকারপোষিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বদলি নীতি সংক্রান্ত বিল বিধানসভায় পাশ করিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে সেই বিল এখনও আইনে পরিণত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।

স্কুলশিক্ষা দফতরের এক কর্তার কথায়, “ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা এবং স্কুলের সার্বিক উন্নতিই প্রাধান্য পাবে। শিক্ষকদের স্বার্থ অবশ্যই দেখা হবে। কিন্তু সেই সঙ্গে শিক্ষার স্বার্থটাও দেখতে হবে।”

প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতিও। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “শিক্ষকের চাহিদা এবং পড়ুয়াদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই বদলি হলে তবেই এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হবে। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছি। কিন্তু পাশাপাশি এটাও মনে রাখতে হবে যে শিক্ষকেরা ইতিমধ্যেই বদলির আবেদন করেছেন, তাঁদের আবেদনের যেন নিষ্পত্তি হয়।”

সব মিলিয়ে, নতুন নীতি কার্যকর হলে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত পছন্দের পাশাপাশি রাজ্যের স্কুলগুলিতে শিক্ষক-সঙ্কট ও পঠনপাঠনের প্রয়োজনীয়তা বদলির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নিতে পারে।


Share