Ram Navami Arson

বোমা মজুতের নির্দেশ দিয়েছিলেন, সাকিরের উসকানিতেই রামনবমীর মিছিলে হামলা, কার্তুজ পরীক্ষার জন্য ফরেন্সিকে পাঠাল এনআইএ

এই মামলায় আরও তদন্তের প্রয়োজন বলে এনআইএ আদালতকে জানিয়েছে। আদালত দু’দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেছে।

ধৃত তৃণমূল নেতাকে হাজির করানো হল আদালতে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ০৬:২০

২০২৩ সালের হুগলির রিষড়ায় রাম নবমীর মিছিলে হিংসার ঘটনায় উসকানি দিয়েছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর সাকির আলি। এমনকী, হিংসা ছড়ানোর জন‍্য দলবলকে বোমা মজুত করে রাখার জন‍্য নির্দেশ তিনিই দিয়েছিলেন। বুধবার আদালতে এমনটাই দাবি করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা, এনআইএ।

গতকাল দুপুরে রিষড়া পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সাকির আলিকে এনআইএ হেফাজতে নিয়েছে। তিনি আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ আফরিন আলির স্বামী। সাকির আদতে বিহারের মুঙ্গেরের বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০২৩ সালে ২ এপ্রিল রিষড়ার যে এলাকায় রামনবমীর মিছিলে হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, সেই এলাকার কাউন্সিলর সাকির আলি। তৃণমূল জমানায় অত‍্যন্ত প্রভাবশালী ছিল এই সাকির। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে এনআইএ তদন্তভার নেওয়ার পরে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। তার পরে এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। পুলিশের কাছ থেকেও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। 

বুধবার সাকির আলিকে বিচারভবনে হাজির করানো হয়। বিচারক তদন্তকারী আধিকারিকে ডেকে কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানতে চান। উত্তরে ডেপুটি সুপার পদমর্যাদার এনআইএয়ের আধিকারিক জানান, ঘটনার দিনের একাধিক সিসি ক‍্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, একটি গাড়ি বাদে বাকি সব গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। যে গাড়িটির শেষ চারটি নম্বর ৫৭৪৬। গাড়িটি চিন্ময় মন্ডল নামে এক ব্যক্তির নামে ছিল। এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক অভিযুক্ত ওই গাড়ি নিয়ে সাকিরকে পিকআপ করতেও গিয়ে ছিল। প্রমাণ লোপাট করতে সেই গাড়িটি দুর্গাপুরের বিক্রি করে দেওয়া হয়।

রামনবমীর মিছিল করে বিজেপির শক্তি বেড়ে যাচ্ছে। তাই কোনও ভাবে তা রুখতে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে এনআইএ। হিন্দুদের ধর্মীয় মিছিল যে কোনও মূল্যে আটকাতে দলবলকে বিপুল পরিমাণ বোমা মজুত করতেও সাকির নির্দেশ দিয়েছেন। এনআইএ আদালতকে জানিয়েছে, ২০২৩ সালের রামনবমী মিছিলে হিংসার ঘটনার অন‍্যতম মূল অভিযুক্ত এই তৃণমূল নেতা সাকিল আলি। তার নির্দেশেই অশান্তি ছড়িয়েছে বলেও কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি করেছে। 

এ দিন এনআইএ আদালতকে আরও জানিয়েছে, তল্লাশির সময় সাকিলের বাড়ি থেকে ৩৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর নিজের বাড়ির ছাদে উচ্ছ্বাস করে তিন রাউন্ড গুলি চালিয়েছিল। তাঁদের দাবি, যে জায়গায় তিনি থাকেন, তা যথেষ্ট জনবহুল এলাকা। তাই লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক থাকলেও এ ভাবে গুলি চালানো যায় না। তা করার জন্য বিভিন্ন বন্দুক ব্যবহার করেছিল। যে ৩৬ রাউন্ড গুলি সাকিলের বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়ে তা পরীক্ষার জন‍্য সিএফএসএলে পাঠানো হয়েছে।

এই মামলায় আরও তদন্তের প্রয়োজন বলে এনআইএ আদালতকে জানিয়েছে। আদালত দু’দিনের হেফাজত মঞ্জুর করেছে। 

উল্লেখ্য, গতকাল সাকিলকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। সাকিলের দলবল পুলিশকে বাধা দেয় বলে অভিযোগ। পুলিশের সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ, স্ত্রী আফরিন আলি। তাঁর বিরুদ্ধেও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে শ্রীরামপুর থানার পুলিশ। আফরিনকে বুধবার দুপুর ১২টার থানায় তলব করা হলেও তিনি যাননি। আফরিন বিচারভবনে ছিলেন।


Share