Sakir Ali

রামনবমীর মিছিলে হিংসা ছড়ানোর ‘মূলচক্রী’ সাকির আলির জামিন মঞ্জুর করল আদালত, থানার বাইরে মাথা ঘুরে পড়েলেন স্ত্রী আফরিন

সাকিরের আইনজীবীর দাবি, ঘটনায় তিনি যে মদত দিয়েছেন তার কোনও প্রমাণ তদন্তকারী সংস্থা দেওয়া দিতে পারেনি। যদিও এনআইএয়ের দাবি, তিনিই সেদিনের ঘটনার ‘মূলচক্রী’।

রিষড়া পুরসভার কাউন্সিলর সাকির আলি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ০৬:২৯

২০২৩ সালে রামনবমীর মিছিলে হিংসায় মদত দেওয়ার অভিযোগে রিষড়া পুরসভার কাউন্সিলর সাকির আলিকে গ্রেফতার করেছিল এনআইএ। তাঁকেই ‘মূলচক্রী’ হিসেবে দাবি করেছিল। ৪৮ ঘন্টা মধ্যেই সাকিরের জামিন মঞ্জুর করল আদালত। সাকিরের আইনজীবীর দাবি, ঘটনায় তিনি যে মদত দিয়েছেন তার কোনও প্রমাণ তদন্তকারী সংস্থা দেওয়া দিতে পারেনি। যদিও এনআইএয়ের দাবি, তিনিই সেদিনের ঘটনার ‘মূলচক্রী’।

গত মঙ্গলবার রামনবমীর মিছিলে হিংসার মামলার তদন্তে রিষড়ার বাড়িতে গিয়ে যান এনআইএয়ের তদন্তকারীরা। সেদিনই সাকিরকে গ্রেফতার করে। সাকির আরামবাগের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ আফরিন আলির স্বামী। বুধবার আদালত সাকিরকে দু’দিনের হেফাজতের নির্দেশ দেন। শুক্রবার তাঁর হেফাজতের মেয়াদ শেষ হলে ফের বিচারভবনে বিশেষ আদালতে পেশ করা হয়।

এ দিন আদালতে সাকিরের আইনজীবী জানান, হিংসা ছড়ানোর ঘটনায় সাকিরের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ নিয়ে এসেছে তার সাপেক্ষে কোনও তথ‍্যপ্রমাণ এনআইয়ে আদালতে জমা দেয়নি। এনআইএয়ের দাবি ছিল, ঘটনার দিনে ঘটনাস্থলে তিনি সশরীরে তিনি উপস্থিত ছিলেন। তিনিই হিংসায় সরাসরি মদত দিয়েছেন। তাই তার জামিন মঞ্জুর না করা হোক বলে আদালতের কাছে আর্জি জানায়। এর পরেই সাকিরের আইনজীবী দাবি করেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তিনি হিংসায় মদত দেননি। বরং তিনি ঝামেলা থামাতে গিয়েছিলেন।

বিচারক দু’পক্ষের সওয়াল-জবাব শেষে রিষড়ার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সাকির আলির জামিন মঞ্জুর করেছে। পাশাপাশি, কিছু শর্তও আরোপ করেছে। জামিনের জন্য সাকিরকে ১০ হাজার টাকা বন্ড দিতে হবে। তিনি আদালতের নির্দেশ ছাড়া রাজ‍্যের বাইরে যেতে পারবেন না।

অন‍্য দিকে, পুলিশকে কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শ্রীরামপুর থানায় প্রাক্তন সাংসদ আফরিন আলিকে জিজ্ঞাসাবাদের তলব করেছিল। প্রথম তলবে হাজিরা এড়িয়েছিলেন। শুক্রবার সকালেই তিনি শ্রীরামপুর থানায় কালো কোর্ট পরে হাজির হন। বেরোনোর সময় আচমকা তিনি মাথা ঘুরে মাটিতে পড়ে যাওয়ার ‘নাটক’ করেন। পরে সেখানে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা তাঁকে একটি টোটোতে তুলে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়। কিন্তু মাঝপথেই টোটো ঘুরিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে যেতে থাকে। অবশেষে বাড়িতে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন।

উল্লেখ্য, বুধবার বিচারক তদন্তকারী আধিকারিকে ডেকে কেন তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে জানতে চান। উত্তরে ডেপুটি সুপার পদমর্যাদার এনআইএয়ের আধিকারিক জানান, ঘটনার দিনের একাধিক সিসি ক‍্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, একটি গাড়ি বাদে বাকি সব গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। যে গাড়িটির শেষ চারটি নম্বর ৫৭৪৬। গাড়িটি চিন্ময় মন্ডল নামে এক ব্যক্তির নামে ছিল। এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া এক অভিযুক্ত ওই গাড়ি নিয়ে সাকিরকে পিকআপ করতেও গিয়ে ছিল। প্রমাণ লোপাট করতে সেই গাড়িটি দুর্গাপুরের বিক্রি করে দেওয়া হয়।

রামনবমীর মিছিল করে বিজেপির শক্তি বেড়ে যাচ্ছে। তাই কোনও ভাবে তা রুখতে এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে এনআইএ। হিন্দুদের ধর্মীয় মিছিল যে কোনও মূল্যে আটকাতে দলবলকে বিপুল পরিমাণ বোমা মজুত করতেও সাকির নির্দেশ দিয়েছেন। এনআইএ আদালতকে জানিয়েছে, ২০২৩ সালের রামনবমী মিছিলে হিংসার ঘটনার অন‍্যতম মূল অভিযুক্ত এই তৃণমূল নেতা সাকিল আলি। তার নির্দেশেই অশান্তি ছড়িয়েছে বলেও কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি করেছিল।


Share