Janatar Darbar

‘সরকারি কাজ পাই না, হলও পাই না!’ জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রীর সামনে বিস্ফোরক ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়, সাংস্কৃতিক জগতে সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগ

তাঁর অভিযোগ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি এবং এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তিনি জনতার দরবারে এসেছেন।

(বাঁ দিকে) ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে) ইন্দ্রনীল সেন
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ০৫:০২

মঙ্গলবার ‘জনতার দরবার’-এর তৃতীয় দিনে সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যা শুনবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই কারণে সকাল থেকেই সেখানে ভিড় জমিয়েছেন বহু মানুষ। মুখ্যমন্ত্রীর পৌনে ১০টা নাগাদ দফতরে পৌঁছোনোর কথা।

এ দিন জনতার দরবারে হাজির হন সঙ্গীতশিল্পী ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, রাজ্যের সাংস্কৃতিক পরিসরে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ ছিল এবং যোগ্য শিল্পীদের অনেক ক্ষেত্রে কাজ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শিল্পী নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি এবং এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তিনি জনতার দরবারে এসেছেন।

এর আগেও তিনি তৃণমূল সরকারের আমলে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অনিয়ম, লবিবাজি এবং কাটমানির অভিযোগ তুলেছিলেন। তাঁর অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। তবে এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও উত্তর মেলেনি।

ঋদ্ধি বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলিতে প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক শিল্পী বারবার অনুষ্ঠান করার সুযোগ পেলেও অন্যদের কাজের সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাঁর আরও অভিযোগ, সরকারি অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক পরিকাঠামো ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে।

এ ছাড়াও কয়েকজন সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধেও অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, 'সরকারি আধিকারিকরা ইনভলভড। আমি আমার রাজ্যে সরকারি কাজ পাই না। আমার নাম দেখলে, আমি সরকারি হলও পাই না। আমাকে দেওয়া হবে না, এটা মনোপলি? কারও বাবার সম্পত্তি? রবীন্দ্রসদন কি ইন্দ্রনীল সেনের বাবা এসে তৈরি করে গিয়েছিলেন? পরের দিকে সমস্ত কিছু নবান্ন থেকে বলে দেওয়া হত, কে (হল) পাবে, কে পাবে না। আমাদের এই ফ্রেটারনিটিগুলো পচে গিয়েছে! চারিদিকে কীটপতঙ্গের মতো লোকজন ঘুরপাক খাচ্ছে। নিজেরটা হয়ে গেল নিজের ধান্দাটা হয়ে গেল, চুপ।'


Share