Price Hike

বাজারদরের ঊর্ধ্বগতিতে বাড়ল খুচরো মুদ্রাস্ফীতি, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির হার ১০৮ শতাংশের বেশি

সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৫৪ শতাংশে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির হার ৪৮.৭৮ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৮.০৯ শতাংশ। একইভাবে দাম বেড়েছে রসুন ও লেবুরও।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১০:১৬

বাজারে গেলেই বোঝা যাচ্ছে, সবজি থেকে পেঁয়াজ, শাকপাতা থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ছোটখাটো সামগ্রী—সব কিছুর দামই চড়া। দীর্ঘদিন ধরেই মূল্যবৃদ্ধির চাপে জেরবার সাধারণ মানুষ। এবার তারই প্রভাব পড়ল দেশের খুচরো মুদ্রাস্ফীতিতে। অগস্টে খুচরো মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৪.৮৩ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫.৫৪ শতাংশে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির হার ৪৮.৭৮ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ১০৮.০৯ শতাংশ। একইভাবে দাম বেড়েছে রসুন ও লেবুরও।

খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ছবিটি আরও স্পষ্ট হয়েছে কনজিউমার ফুড প্রাইস ইনডেক্স (সিএফপিআই)-এর পরিসংখ্যানে। অগস্টে খাদ্যপণ্যে মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৫.৯৭ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ৭.৭৪ শতাংশ। এর জেরে খুচরো মুদ্রাস্ফীতি রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (আরবিআই) নির্ধারিত ৪ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে। যদিও তা এখনও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ২ থেকে ৬ শতাংশের সহনসীমার মধ্যে রয়েছে।

খাদ্যপণ্যের মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি। অগস্টে পেঁয়াজের মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৪৮.৭৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮.০৯ শতাংশে। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। রসুনের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক নয়। অগস্টে রসুনের মুদ্রাস্ফীতির হার ৪৩.৬০ শতাংশ থাকলেও সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ৫৪.৬২ শতাংশ। অন্যদিকে, লেবুর ক্ষেত্রে এই হার ১৫.১৫ শতাংশ থেকে বেড়ে পৌঁছেছে ৩৬.৪১ শতাংশে।

শুধু খাবারদাবার নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও খরচের চাপ রয়েছে। ব্যক্তিগত পরিচর্যা, সামাজিক সুরক্ষা এবং অন্যান্য পণ্য ও পরিষেবা বিভাগে সেপ্টেম্বরে মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ১৩.৭৫ শতাংশ। রেস্তরাঁ ও হোটেলের আবাসন পরিষেবায় খরচ বেড়েছে ৯.৩৬ শতাংশ হারে। পরিবহণ ক্ষেত্রে মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৫.০১ শতাংশ। ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর খরচ বৃদ্ধির হার পৌঁছেছে ৭.৪৬ শতাংশে।

তবে সব ক্ষেত্রেই মূল্যবৃদ্ধির ছবি এক নয়। সেপ্টেম্বরে স্বাস্থ্য পরিষেবায় মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ১.৪০ শতাংশ। আবাসন ও ইউটিলিটি পরিষেবায় তা ২.৭৪ শতাংশ এবং শিক্ষাক্ষেত্রে ৩.৯৪ শতাংশ।

এদিকে, মুদ্রাস্ফীতির চাপের মধ্যেই গত সপ্তাহে রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করেছে আরবিআই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রেপো রেট বাড়লে ব্যাঙ্কগুলির ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়তে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে ঋণের সুদের হারেও। ফলে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাড়তি দাম সামলানোর পাশাপাশি ঋণের খরচ নিয়েও চিন্তায় পড়তে পারেন সাধারণ মানুষ।

সেপ্টেম্বরের পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট, খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিই সামগ্রিক খুচরো মুদ্রাস্ফীতিকে ঊর্ধ্বমুখী করেছে। বিশেষ করে পেঁয়াজ, রসুন ও লেবুর মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ায় দৈনন্দিন সংসার চালানোর খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


Share