Rail Project

চালু হতে চলেছে তৃণমূল জমানায় আটকে থাকা রেল প্রকল্প, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠকের পরে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

রেলমন্ত্রীর বক্তব্য, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি ও শিল্পোন্নয়নে বড়সড় গতি আসবে। বৈঠকের শেষে রাজ্য সরকার রেল প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণ, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত ক্ষেত্রে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

(বাঁ দিক থেকে) রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৬ জুন ২০২৬ ০৪:১০

তৃণমূল জমানায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল রাজ‍্যের রেল প্রকল্প। এ বার সেই প্রকল্পগুলির জট কাটিয়ে পরিকাঠামো উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। নবান্নের রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠকের পরে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে এই কাজ হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। রেলের প্রকল্পগুলিতে এক লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

শনিবার নবান্নে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের উপস্থিতিতে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পরেই মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদ বৈঠক করেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিকে দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে একাধিক কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প রাজ্যে কার্যকর করা হয়নি। এর ফলে উন্নয়ন থমকে গিয়েছে। উন্নয়ন থমকে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

বৈঠকে মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল জানান, চিংড়িঘাটা ফ্লাইওভারের কাজ রেলের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। প্রসঙ্গত, এই প্রকল্প কেন্দ্র-রাজ‍্য সংঘাতের কারণে দীর্ঘদিন আটকে ছিল। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা সেবক-রংপো রেল প্রকল্পের জন্য ক্ষতিপূরণমূলক বনসৃজনের উদ্দেশ্যে ২০ একর জমির দ্রুত অনুমোদন রাজ্য সরকার দিয়েছে। এ ছাড়াও, আরও ৭০টির বেশি রেল ওভারব্রিজ এবং আন্ডারপাস প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন খুব অল্প সময়ের মধ্যে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান রাজ‍্যের মুখ্যসচিব।

শনিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে রেল পরিকাঠামোর উন্নয়নের সুবিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে। রাজ্যে ১০২টি অমৃত ভারত প্রকল্পের স্টেশনগুলির আধুনিকীকরণ এবং ৫৩৮টি ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাস নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।”কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পগুলির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করতে প্রস্তুত বলেও তিনি জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে রেল ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিগত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে রেল খাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্যের জন্য ১৪ হাজার ২০৫ কোটি টাকার রেলের বাজেটে বরাদ্দ হয়েছে।“ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, ঝাড়গ্রাম, দক্ষিণ দিনাজপুর, সুন্দরবন-সহ একাধিক এলাকা এখনও রেলের মানচিত্রে যুক্ত করা হয়নি। নতুন প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে সেই সমস্যার সমাধান হবে।”

রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও রাজ্য সরকারের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। রেলমন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে এ রাজ‍্যে এখন উন্নয়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের যে সদিচ্ছা রয়েছে তার প্রমাণ রেল বাজেটেই মিলেছে। এ দিন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, “রাজ্যে ইতিমধ্যেই দশটি অমৃত ভারত স্টেশনের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে ন’টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস এবং একাধিক অমৃত ভারত ট্রেন পশ্চিমবঙ্গে চলাচল করছে।

আগামী পাঁচ বছরে কলকাতা মেট্রোর কী পরিকল্পনা রয়েছে তা-ও জানান রেলমন্ত্রী। শনিবার তিনি ৬০টি ‘নতুন প্রজন্মের ট্রেন’ চালুর পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন। এ ছাড়াও, দিল্লি-লখনউ-বারাণসী-পাটনা হয়ে শিলিগুড়ি পর্যন্ত সম্ভাব্য বুলেট ট্রেন করিডর এবং ডানকুনি থেকে শুরু হওয়া পূর্ব-পশ্চিম ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডরের কথাও উল্লেখ করেন রেলমন্ত্রী।

রেলমন্ত্রীর বক্তব্য, এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি ও শিল্পোন্নয়নে বড়সড় গতি আসবে। বৈঠকের শেষে রাজ্য সরকার রেল প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণ, প্রশাসনিক অনুমোদন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত ক্ষেত্রে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে রেলভিত্তিক শিল্প, কর্মসংস্থান এবং কলকাতা-হাওড়ার নগর পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও কেন্দ্রের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।


Share