Animal Slaughter

প্রকাশ্যে পশু হত‍্যা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, বিজ্ঞপ্তি জারি করে হাই কোর্টের নির্দেশ মনে করিয়ে দিল রাজ‍্য সরকার

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি কোনও প্রাণী (ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মহিষ, মহিষের বাছুর এবং নপুংসক মহিষ) জবাই করতে হলে তার জন্য উপযুক্ত শংসাপত্র দেখাতে হবে।

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ১১:৪৮

আর প্রকাশ‍্যে পশু জবাই করা যাবে না। সরকার অনুমোদিত কসাইখানাতেই পশু জবাই করা যাবে। ২০১৮ সালের ৬ অগাস্টের কলকাতা হাই কোর্টের রায় এবং সে সংক্রান্ত ২০২২ সালের ৮ জুনের নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। এই আইন যদি কেউ না মেনে চলে তাহলে সংশ্লিষ্ট ব‍্যক্তির এক বছরের জেল পর্যন্ত হতে পারে বলে আইন মনে করিয়ে দিয়েছে রাজ‍্য সরকার।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও ব্যক্তি কোনও প্রাণী (ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মহিষ, মহিষের বাছুর এবং নপুংসক মহিষ) জবাই করতে হলে তার জন্য উপযুক্ত শংসাপত্র দেখাতে হবে। যদি না থাকে তাহলে ওই পশুটিকে জবাই করা যাবে না। কোনও পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং এক জন সরকারি পশুচিকিৎসক যৌথ ভাবে কোনও প্রাণীর জবাই-উপযোগিতা সংক্রান্ত শংসাপত্র প্রদান করতে পারবেন। যদি তাঁরা লিখিত ভাবে মত দেন যে, প্রাণীটি শ্রমসাধ্য কাজ বা প্রজননের জন্য ১৪ বছরের অধিক বয়স্ক, অথবা বয়স, আঘাত, বিকৃতি বা কোনও রোগের কারণে স্থায়ী ভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছে, তা হলে উপযুক্ত হতে পারে।

রাজ‍্যের স্বরাষ্ট্র এবং পার্বত্য বিষয়ক দফতর জানিয়েছে, এই ধরনের শংসাপত্র প্রদানে অস্বীকৃতির ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি উক্ত অস্বীকৃতির সংবাদ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানাতে পারবেন। যে প্রাণীর ক্ষেত্রে শংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে, সেই প্রাণীকে কেবল মাত্র পুরসভার জবাইখানা বা স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত অন্য কোনও জবাইখানায় জবাই করা যাবে। যে সব প্রাণীর জন্য জবাইয়ের শংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে, সে সব প্রাণীকে কোনও উন্মুক্ত জনসমাগমস্থলে জবাই করা কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ।

রাজ‍্য সরকার আরও জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০-এর বিধি কার্যকর করার উদ্দেশ্যে পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, অথবা সরকারি পশুচিকিৎসক কর্তৃক অনুমোদিত কোনও ব্যক্তি পরিদর্শনে (কসাইখানা) গেলে কেউ বাধা দিতে পারবেন না। উপরোক্ত আইনগত বিধিগুলির কোনওটি লঙ্ঘন করলে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সর্বোচ্চ ছ’মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। ১৯৫০ সালের আইনে সকল অপরাধই ‘গুরুতর’ হিসাবে গণ্য হবে। সুপ্রিম কোর্ট এবং কলকাতা হাই কোর্টে এ সংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক রায়গুলি সরকারের সরকারি ওয়েবসাইটে রয়েছে।


Share