Census

২০২৭ সালের জনগণনায় বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরাও গণনাকারী, ১৯৯০ সালের নিয়মে বড় সংশোধন কেন্দ্রের

নতুন নিয়মে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের পাশাপাশি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরও গণনাকারী হিসেবে নিয়োগ করতে পারবে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রশাসন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:৩১

২০২৭ সালের জনগণনা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে ১৯৯০ সালের সেন্সাস রুলস বা জনগণনার নিয়মে বড়সড় সংশোধন আনল কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নিয়মে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের পাশাপাশি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরও গণনাকারী হিসেবে নিয়োগ করতে পারবে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির প্রশাসন। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এই মর্মে সম্প্রতি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ।

আইনি জটিলতা এড়াতেই কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের জনগণনার কাজে নিয়োগের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ‘হরিয়ানা প্রোগ্রেসিভ স্কুলস কনফারেন্স’। মামলাকারীদের দাবি ছিল, ১৯৪৮ সালের জনগণনা আইন কিংবা তার অধীনে তৈরি বিধিতে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের গণনাকারী বা সুপারভাইজার হিসেবে নিয়োগের কোনও আইনি সংস্থান নেই। তাঁদের যুক্তি, এই কাজে শুধুমাত্র স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিক ও কর্মীদেরই ব্যবহার করা যেতে পারে। বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরা সেই পরিধির মধ্যে পড়েন না।

গত ৮ অক্টোবর এই মামলায় হরিয়ানা সরকারের জারি করা দুটি চিঠির উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন হাই কোর্টের বিচারপতি হরপ্রীত সিং ব্রার। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ২০২৭ সালের ২৯ এপ্রিল। এই পরিস্থিতির মধ্যেই জনগণনার কর্মী নিয়োগের নিয়মে সংশোধন আনল কেন্দ্র।

নতুন বিজ্ঞপ্তিতে গণনাকারী নিয়োগের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। আগে শিক্ষক, ক্লার্ক, আধিকারিক কিংবা অন্য কোনও ব্যক্তিকে সেন্সাস অফিসার হিসেবে নিয়োগের কথা বলা থাকলেও, সংশোধিত নিয়মে সরকারি, স্থানীয় প্রশাসনের অধীন, অনুদানপ্রাপ্ত এবং অনুদানহীন বেসরকারি সংস্থা, সোসাইটি বা ট্রাস্ট পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, সাংবিধানিক সংস্থা, ব্যাঙ্ক, কোম্পানি এবং ট্রাস্টের ক্লার্ক ও কর্মীদেরও এই কাজে নিয়োগ করা যাবে। প্রয়োজন অনুযায়ী রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন অন্য ব্যক্তিদেরও সেন্সাস অফিসার হিসেবে নিয়োগ করতে পারবে।

স্বাধীনতার পর এটি দেশের অষ্টম জনগণনা। কোভিড মহামারীর কারণে ২০২১ সালে এই প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছিল। আসন্ন জনগণনার জন্য ইতিমধ্যেই ১১ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন থাকায় উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, গোয়া ও উত্তরাখণ্ডের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ২০২৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারির মধ্যে জনগণনার কাজ শুরু হওয়ার কথা। অন্য দিকে, লাদাখ, জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত অঞ্চলে গত সেপ্টেম্বরেই এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। দেশের বাকি অংশে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জনগণনার কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পরিবারের জনসংখ্যা, আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি, অভিবাসন এবং জন্মহার সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। সংশোধিত নিয়মের ফলে গণনাকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে কর্মী সংকট অনেকটাই মেটানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন আধিকারিকরা। তবে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে চলা আইনি বিতর্কের নিষ্পত্তি কীভাবে হয়, এখন সেদিকেও নজর থাকবে।


Share