Aftab Ansari

প্রেসিডেন্সি জেলে ইসলামিক জঙ্গির নেটওয়ার্ক, আবতাব আনসারির সেল থেকে উদ্ধার আইফোন, রাউটার

পাশাপাশি দু’টি জিও রাউটার, তিনটি জিও-র সিমকার্ড, তিনটি ওটিজি পেনড্রাইভ, ১২৮ জিবির একটি সাধারণ পেনড্রাইভ এবং একটি হেডফোন মিলেছে। এ ছাড়াও, আফতাব আনসারির সেল থেকে ৩১ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে।

ইসলামিক জঙ্গি আফতাব আনসারি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ ০১:১৫

প্রেসিডেন্সি জেলে আফতাব আনসারির সেল থেকে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রিক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। আমেরিকান সেন্টারে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত এই ইসলামিক জঙ্গি আফতাব আনসারি। গত ২৩ অগস্ট দমদমের প্রেসিডেন্সি জেলে ডিআইজি পদমর্যাদার নেতৃত্বে অভিযান চলে। নগদ টাকাও এই অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর। কী ভাবে সংশোধনাগারের মধ‍্যে এই বিপুল পরিমাণ আইফোন, রাউটার ঢুকল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, গত রবিবার ৬টা ২০ মিনিট নাগাদ এক ডিআইজি পদমর্যাদার এক আধিকারিকের নেতৃত্বে অভিযান চালায় পুলিশ। প্রতিটি আসামীদের সেলে পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে তল্লাশি চালানো হয়। রাত ৮টা ২০ মিনিট পর্যন্ত তল্লাশি অভিযান চলে। সেই সময় আবতাব আনসারির সেল থেকে দু’টি স্মার্টফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তার মধ্যে একটি আইফোন রয়েছে। পাশাপাশি দু’টি জিও রাউটার, তিনটি জিও-র সিমকার্ড, তিনটি ওটিজি পেনড্রাইভ, ১২৮ জিবির একটি সাধারণ পেনড্রাইভ এবং একটি হেডফোন মিলেছে। এ ছাড়াও, আফতাব আনসারির সেল থেকে ৩১ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে।

২০০২ সালে কলকাতার আমেরিকান সেন্টারে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে কলকাতা পুলিশের চার কনস্টেবল বীরগতি প্রাপ্ত হয়েছিলে। সেই ঘটনার চার দিন পরে ঝাড়খন্ডের হাজারিবাগে সেলিম এবং জাহিদ নামে দু’জন ইসলামিক জঙ্গিকে এনকাউন্টার করে পুলিশ। তারা মৃত‍্যুর আগে ঘটনার মূল অভিযুক্ত ইসলামিক জঙ্গি আফতাব আনসারির নাম নেয়। আফতাব হরকত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামির জঙ্গি। এ ছাড়াও, জুতো প্রস্তুতকারক সংস্থা খাদিমের কর্তাকে অপহরণের ঘটনায়ও আফতাবের নাম জড়িয়েছিল। তাকে দুবাই থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল। পরে সুপ্রিম কোর্ট মৃত্যুদণ্ডের সাজা মুকুব করে আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।

তার পর থেকেই দমদমের সংশোধনাগারে বিশেষ নজরদারিতে আফতাবকে রাখা হয়। এর আগেও জেলে বসে বাইরে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ আফতাবের বিরুদ্ধে উঠেছিল। তার সেল থেকে এই বিপুল পরিমান ইলেকট্রিক সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় প্রমাণিত হয় যে ইসলামিক জঙ্গি আফতাব জেলে বসেই নেটওয়ার্ক চালাত। অভিযোগ, জেলে বসেই পাকিস্তানের জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত।

জেলবন্দিদের কড়া নিরাপত্তায় রাখা হয়। বাইরের জগতের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক যাতে না থাকে তা নিশ্চিত করতে হয়। এমন এক ‘হাই ভ‍্যালু’ জঙ্গির সেল থেকে বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী এবং নগদ টাকা উদ্ধার নিয়ে জেল কর্তৃপক্ষের কর্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কে এই সামগ্রী তার কাছে পৌঁছে দিল, কীভাবে এতদিন ধরে নজরদারি এড়িয়ে অবাধে এই ডিভাইস ব্যবহার করল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলের কোনও আধিকারিকের সাহায‍্য ছাড়া যে এই বিপুল সামগ্রী ঢোকানো সম্ভব নয় তা কার্যত নিশ্চিত।

এর আগে গত ২০ অগস্ট রাত পৌনে ৮টা থেকে প্রেসিডেন্সি জেলে আর এক বার তল্লাশি চালানো হয়। বিচারাধীন বন্দি আব্দুল মইনুদ্দিনের কাছ থেকে সে দিন মিলেছে স্মার্টফোন এবং সিমকার্ড। দু’টি ঘটনাতেই কারা কর্তৃপক্ষ হেস্টিংস থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এই বিষয়ে এক সংশোধনাগারে শীর্ষ কর্তাকে ফোন করা হলে তিনি ফোন তোলেননি। জড়িত জেল আধিকারিকের বিরুদ্ধে আদৌ কোনও পদক্ষেপ করা হয়েছে কি না তা-ও জানা যায়নি।


Share