Chor Bagan Incident

পুজো মন্ডপের নিয়ন্ত্রণে এ বার ফোমের লাঠি! ময়দানে নেমে ভিড় নিয়ন্ত্রণে নবান্নের নির্দেশে আসা আইপিএস কর্তারা

পুলিশকর্তারা এ-ও মনে এই লাঠিটি ফোম দিয়ে তৈরি। মূলত প‍্যাকিং করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এই লাঠিতে কারও গায়ে আঘাত লাগবে না। তবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

ফোমের লাঠি দিয়ে ভিড় নিয়ন্ত্রণ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০১:১৫

চোরবাগান সর্বজনীনে পদপৃষ্ঠ হয়ে ১৯ জনের মৃত্যু ও বহু মানুষ আহতর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে অভিনব উদ্যোগ নিল পুলিশ। মূলত নবান্ন নিযুক্ত আইপিএস কর্তারা মাঠে নেমেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করছেন। মন্ডপের ভিতরে যাতে কোনও ভাবেই যাতে জমায়েত না থাকে তার জন্য ফোমের লাঠি ব্যবহার করছেন। ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মানুষের লাইন সর্বদা সচল থাকে তাই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে এক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন।

জমায়েত হতে পারে এমন পুজো মন্ডপেই এই ধরণের লাঠি ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশকর্তারা মনে করছেন, মন্ডপে প্রবেশ এবং বাইরে যাওয়ার পথ একটি চক্রের মতো। যেখানে এক পথ দিয়ে দর্শনার্থীরা আসবেন। মায়ের দর্শন করবেন। তার পরে বাইরে যাওয়ার পথ দিয়ে মন্ডপের বাইরে বেরিয়ে যাবেন। এ বার যদি এই ভিড় মধ‍্যে একসাথে অনেক দর্শনার্থী মোবাইলে ছবি তুলতে ব‍্যস্ত হয়ে পড়েন তা হলে পিছনে থাকা একটা বড় সংখ্যক দর্শনার্থীদের ভিড় থমকে যাবে। ফলে হুড়োহুড়ির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তা থেকে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টির আশঙ্কা থাকছে। তাই অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে চক্রটিকে সর্বদা সচল রাখার প্রয়োজন বলে মনে করছেন আইপিএস অফিসারেরা।

পুলিশকর্তারা এ-ও মনে এই লাঠিটি ফোম দিয়ে তৈরি। মূলত প‍্যাকিং করার কাজে ব্যবহার করা হয়। এই লাঠিতে কারও গায়ে আঘাত লাগবে না। তবে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

গত শনিবার চোরবাগান সর্বজনীনের ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার খানিকক্ষণ আগেই তাঁরা আনন্দ করছিলেন। ওই পুজো মন্ডপে প্রতিমা-দর্শনের পরে তাঁরা কোন দিকে যাবেন তা হয়তো ঠিক করেও রেখেছিলেন। একটা ‘ভুল’ ঘোষণা, এবং চরম অব‍্যবস্থা কলকাতার দুর্গাপুজোর ইতিহাসে ডেকে নিয়ে আসে কালো অধ্যায়। পদপিষ্ট হয়ে বেঘোরে প্রাণ হারান ১৯ জন দর্শনার্থী। ঘটনায় ৩৫ জন জখম হন।

সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নবান্ন ন’জন আইপিএস অফিসারকে কলকাতার দুর্গাপুজোর দায়িত্বে পাঠায়। কলকাতার দুর্গাপুজো মন্ডপে কীভাবে ভিড় করতে হবে, পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থাও কীভাবে সচল থাকবে তা খতিয়ে দেখবে এই এই ন’জন আইপিএস আধিকারিক। এই ন’জন আইপিএস আধিকারিকদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলেন, আইজি মিরাজ খালিদ, ডিআইজি, রূপেশ কুমার, ডিআইজি শুভঙ্কর ভট্টাচার্য, পুলিশ সুপার প্রিয়ব্রত রায় এবং পুলিশ সুপার দীপক সরকার।

মিরাজ খালিদ বর্তমানে রাজ্য পুলিশের (ট্রাফিক)-এর আইজি। তিনি কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (সদর দফতর) থাকাকালীন আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব সামলেছেন। রূপেশ কুমার বর্তমানে রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফের ডিআইজি। তিনি এর আগে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের যুগ্ম কমিশনার ছিলেন। কলকাতার ট্রাফিক ব‍্যবস্থাকে তিনি হাতের তালুর মতো চেনেন। অন‍্য দিকে, প্রিয়ব্রত রায় এবং দীপক সরকার যথাক্রমে ডেপুটি কমিশনার দক্ষিণ ও উত্তরের দায়িত্ব সামলেছেন। তৃণমূলস্তরে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায় তা নিয়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁদের। তাঁদের অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগাতে চাইছে রাজ্য সরকার, এমনটাই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


Share