Chor Bagan Incident

চোরবাগানের পুজো মণ্ডপের ১৬টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করা করতে পারেনি পুলিশ, যান্ত্রিক ত্রুটি বলে দাবি লালবাজারের

ডিভিআরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ফুটেজ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে লালবাজার সূত্রে খবর। ইতিমধ্যেই ৫০-৬০ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার তিন প্রত্যক্ষদর্শীকেও ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৫৬

চোরবাগানের দুর্গাপুজো মণ্ডপ থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হলেও তা সম্পূর্ণ ভাবে বিশ্লেষণ করা যায়নি। পুলিশ সূত্রের খবর, এই রকম প্রায় ১৬টি ক‍্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করা যায়নি। তবে সেই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না এমন তথ্য খারিজ করেছে লালবাজার। পুলিশের বক্তব্য, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তা উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিশ্লেষণ করাও সম্ভব হয়নি। তবে এই বিষয়ে আশাবাদী পুলিশ। 

গত ১৭ অক্টোবর, শনিবার, প্রথম দুর্গাসপ্তমীর সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট নাগাদ চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২৫ জন দর্শনার্থী গুরুতর জখম হয়েছিলেন। সেই ঘটনার পরে ডিসি ডিডি (স্পেশাল)-এর নেতৃত্বে আট সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়। ঘটনার তদন্তে পুজো মন্ডপ থেকে ৩২টি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন এক পুলিশকর্তা। তার মধ্যে ১৬টি ক‍্যামেরার ফুটেজ উদ্ধার করে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হলেও ১৬টি ক‍্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করাই সম্ভব হয়নি। পুলিশ সূত্রের খবর, এই ১৬টি ক‍্যামেরার ফুটেজ একটি ডিভিআর-এ রেকর্ড হয়েছে। সেই ডিভিআরটি আপাতত কাজ করছে না। তাতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তবে এই ত্রুটি সাময়িক বলেও দাবি করেছে ওই পুলিশ সূত্রটি। দাবি, কলকাতা পুলিশের কাছে এমন ত্রুটিপূর্ণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে তথ্য উদ্ধার করার বন্দোবস্ত রয়েছে। বিষয়টির ওপরে ক্রমাগত বিশেষজ্ঞরা কাজ করেছেন। এই ১৬টি ক‍্যামেরার ফুটেজ দ্রুতই ডিভিআর থেকে উদ্ধার করে আনা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী পুলিশ। 

পুলিশ সূত্রে খবর, ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়ছে’ বলে মাইকে ঘোষণা হওয়ার পরই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তার ওপর বৃষ্টিও একটি কারণ ছিল। এই দু’টি ঘটনার মিশেলেই দর্শনার্থীদের হুড়োহুড়ি শুরু হয়। তার পরেই বিপর্যয়ের ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় মোট ন’জন গ্রেফতার করা হয়েছে। দুই ঘোষণাকারী— কুশল মজুমদার ওরফে কালিয়া এবং সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে রবিবার এক ঘোষণাকারী সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টুকে নিয়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেছে পুলিশ। 

কীভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল এবং কী কারণে বড় বিপর্যয়ের ঘটল, তা জানতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তদন্তকারীরা। কোন সময় এমন ঘোষণা হয়েছিল, তার সঙ্গে পদপিষ্ট হওয়ার মূহূর্ত তদন্তকারীরা মিলিয়ে দেখতে চাইছেন। তার পরেই একটি সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হবে বলে পুলিশ মনে করছে। ইতিমধ্যেই ৫০-৬০ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আহত ব্যক্তি, হোমগার্ড, সিভিক ভলান্টিয়ার, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা রয়েছেন। এ ছাড়াও, ঘটনার দিনে সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়ো পুলিশ বিশ্লেষণ করেছে। 

এ ছাড়াও, ঘটনার সময় মণ্ডপের বাইরে এবং প্রবেশ ও বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার পথে মোতায়েন থাকা ১২ জন পুলিশকর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। সোমবার তিনজন প্রত্যক্ষদর্শীকেও লালবাজারে ডেকে তাঁদের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে।


Share