Cyber Fraud

এনজিও-র আড়ালে চলছিল সাইবার প্রতারণা সিন্ডিকেট, গ্রেফতার অভিযুক্ত আইনজীবী তাপস মান্না

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, কম্বোডিয়া ও মায়ানমারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের সঙ্গেও যোগসূত্রের ইঙ্গিত মিলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশদে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুরো নেটওয়ার্ক, সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্ট, সহযোগী এবং মূলচক্রীদের শনাক্ত করার কাজ চালাচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ০৫:০৪

এনজিও-র আড়ালে চলছিল সাইবার প্রতারণার সিন্ডিকেট। আন্তঃরাজ‍্যে সাইবার সিন্ডিকেটের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের থেকে পাওয়া গোয়েন্দাতথ‍্যের ভিত্তিতে এই সিন্ডিকেটের পর্দাফাঁস করা সম্ভব হয়েছে। ঘটনায় এক আইনজীবীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

গত বছর জাতীয় সাইবার ক্রাইম পোর্টালে বিবেকানন্দ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট নামে একটি এনজিও-র অ‍্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ৪১টি অভিযোগ দায়ের হয়। সাইবার অপরাধ দমন শাখায় দশটির বেশি এফআইআর হয়েছে। অভিযোগ, এই বিবেকানন্দ ট্রাস্ট বিভিন্ন লোককে ডিজিটাল গ্রেফতারি দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত তিন কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার প্রমাণ সামনে এসেছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

এর পরেই উত্তর ২৪ পরগনার মধ‍্যমগ্রাম থানায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, এই বিবেকানন্দ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের। সেখানকার একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট। তদন্তকারীরা এ-ও জানতে পারেন, এই রাজ্যের তিন জনের কাছ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার বেশি প্রতারকেরা হাতিয়ে নিয়েছে।

ঘটনার তদন্তে এক আইনজীবীর নাম সামনে আসে। তাঁকে গত ২১ মে গ্রেফতার করেছে। ধৃতের নাম তাপস মান্না। তিনি এই এনজিও-র সম্পাদক ছিলেন। অভিযোগ, তাপস অন‍্য একটি রাজ‍্যে বসে এই সিন্ডিকেটকে পরিচালনা করছিলেন। প্রতারণা চক্রের সঙ্গে জড়িতদের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করতেন। তাঁকে কোথা থেকে গ্রেফতার করা হয়ে তা নিয়ে স্পষ্ট করেনি পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৬ (সি) ও ৬৬ (ডি) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। 

প্রাথমিক তদন্তে, কম্বোডিয়া ও মায়ানমারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণা চক্রের সঙ্গেও যোগসূত্রের ইঙ্গিত মিলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে আর্থিক লেনদেনের তথ্য বিশদে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুরো নেটওয়ার্ক, সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্ট, সহযোগী এবং মূলচক্রীদের শনাক্ত করার কাজ চালাচ্ছে তদন্তকারী সংস্থা।

পুলিশ সূত্রের খবর, বিধাননগরের বেশ কয়েক জন আইনজীবীর নাম এই সিন্ডিকেটের জড়িত থাকার সন্দেহ করছে তদন্তকারীরা। তাঁদেরও কী ভূমিকা রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের ওপরেও তদন্তকারীরা নজরে রাখছে। 


Share