Illegal Parking

অবৈধ পার্কিং রুখতে চালু হবে অ‍্যাপ! পুরসভার পরিকল্পনা নিয়ে জানালেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল

মঙ্গলবার পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, পার্কিং নিয়ে শহরে কোনও বেনিয়ম সহ্য করা হবে না। কলকাতা পুরসভার নির্দিষ্ট করে রাখা পার্কিংয়েই মোটরবাইক এবং গাড়ি রাখতে হবে।

যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে গাড়ি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৬ ০৪:৩৬

শহরের রাস্তায় যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে গাড়ি। অভিযোগ, যেখানে দাঁড়াচ্ছে সেই জায়গাটিকেই পার্কিংয়ের নামে টাকা তোলা হচ্ছে। এই অবৈধ পার্কিংয়ে রাশ টানতে এ বার অ‍্যাপ নির্ভর পার্কিং ব‍্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা পুরসভা। সেই পরিকল্পনার কথা নিজেই জানালেন পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, অ‍্যাপের মাধ্যমেই পার্কিং বাবদ টাকা মেটানো যাবে। 

গত ২০২৩ সালে তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম এই অ‍্যাপ নির্ভর পার্কিং ব্যবস্থা চালু করার কথা বলেছিলেন। বলা হয়েছিল, এই অ‍্যাপের মাধ্যমে একই সঙ্গে পরিবহণ দফতর, কলকাতা পুলিশকেও যুক্ত করার কথা বলা হয়েছিল। শহরের কোথায় গাড়ি পার্কিং করা হচ্ছে তা তার তথ্য একই সঙ্গে পরিবহণ দফতর, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার কাছে পৌঁছে যাবে। যদি কোথাও অবৈধ পার্কিং ধরা পড়ে তাহলে গাড়ির মালিককে মোবাইলে জরিমানার মেসেজ চলে যাবে। তাঁর দাবি ছিল, সেই জরিমানা সময় মতো না মেটালে সেই জরিমানার অঙ্ক বেড়ে যেতে পারে। তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। এক বছরের বেশি সময় যদি সেই জরিমানা না দেওয়া হয় তাহলে বছরের শেষে গাড়ির ছাড়পত্র পেতেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। যদিও পরে তা বাস্তবায়ন হয়নি।

মঙ্গলবার পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, পার্কিং নিয়ে শহরে কোনও বেনিয়ম সহ্য করা হবে না। কলকাতা পুরসভার নির্দিষ্ট করে রাখা পার্কিংয়েই মোটরবাইক এবং গাড়ি রাখতে হবে। মন্ত্রীর কথায়, কলকাতা পুরসভার ১৪টি পার্কিং রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি পার্কিং তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বাকি পার্কিংগুলিকে রাখা হবে কি না তা নিয়ে আধিকারিকেরা খতিয়ে দেখছেন।

তৃনমূল জমানায় কলকাতা পুরসভার পার্কিং সংক্রান্ত বিষয়টি দেখতেন দেবাশিষ কুমার। কারা পার্কিংগুলির বরাত পাবেন তা নিয়ে টেন্ডার ডাকা হয়েছিল। অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে সেই টেন্ডার বিক্রি করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি, সেই সমস্ত পার্কিংয়ে অসামঞ্জস্য ভাড়া আদায় করা হত। এক ঘন্টা না হওয়া সত্ত্বেও গাড়ির মালিকের কাছ থেকে পুরো ভাড়া আদায় করা হত। পার্কিং মালিকের নিজের পার্কিংয়ের জন‍্য বরাদ্দ জায়গা নিজের ইচ্ছেমতো বাড়িয়ে নিত। সেখানে গাড়ি রেখে টাকা তোলা হত। সেই টাকা যে শুধু তৃণমূল নেতাদের কাছে যেত তা নয়, পুলিশের একটা বড় অংশের কাছেও টাকার ভাগ পৌঁছে যেত।

এ দিন অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, এই অ্যাপের মাধ্যমেই গাড়ির মালিকের অনলাইনে টাকা দিতে পারবেন। মূলত নগদ লেনদেনে রাশ টানতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। কোন গাড়ির জন‍্য ঘন্টাপিছু কত টাকা দিতে হবে তা ওই অ‍্যাপের মধ‍্যে দেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, পার্কিংয়ে কর্মরত কর্মীদের জন্য বিশেষ পোষাক দিতে হবে। তাঁদের সবার পরিচয়পত্র ঝোলানো থাকবে।


Share