ISI Agent

কসবায় ভোটার বানিয়েছিলেন ধৃত পাক গুপ্তচর ওয়াহাব, ডাক পড়েছিল এসআইআরের শুনানিতেও, পুলিশের জেরায় উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য

অভিযোগ, ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের এক ধাক্কায় ৩৬-৩৭ হাজার ভোটার বেড়েছে। যা অস্বাভাবিক। নতুন এলাকা বাড়েনি কিন্তু উর্ধ্বমুখী হয়েছে ভোটারের সংখ্যা। ভুয়ো ভোটার ঢোকার অভিযোগে জাভেদ খানকে নিশানা করে এক নেতার দাবি, দিনের পর দিন ভুয়ো রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট দিয়ে ভোটার বাড়ানো হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কসবা
  • শেষ আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৬ ০৮:১৮

বনগাঁ সীমান্ত থেকে পাক গুপ্তচর সন্দেহে রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, কলকাতায় গা ঢাকা দিতে কসবাকে বেছে নিয়েছিল সে। রাজ‍্যের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের সময় শুনানির জন্য ডাকা হলেও সে যায়নি বলেই পুলিশ জানতে পেরেছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, কলকাতার ভোটার হয়েছেন পাক গুপ্তচর সন্দেহে ধৃত রানা রউফ। তার জন‍্য নাম বদল করে ওয়াহাব আলম রাখা হয়েছিল। তার ভোটার কার্ড অনুযায়ী, কসবা বিধানসভা কেন্দ্রের ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের ৩১ নম্বর অংশের তালিকায় ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। নাম ওয়াহাব আলম। ওই অংশের ভোটার তালিকার ক্রমিক সংখ্যা অনুযায়ী ৪১৬ নম্বরে ওয়াহাব আলমের নাম রয়েছে। সেখানে বাবার নাম জাবর আলম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাড়ির নম্বর ৫জে বলে উল্লেখ রয়েছে। বয়স দেওয়া হয়েছে ৩৬ বছর। সেখানে একটি এপিক নম্বরও উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তদন্তদারীদের দাবি, ২০১৮ সালে রানা রউফকে কলকাতার ভোটার কার্ড বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তা বানাতে সাহায্য করেছিল মহম্মদ ইজাজ। মহম্মদ ইজাজকে তোপসিয়া থেকে এসটিএফ গ্রেফতার করেছিল। রাজ‍্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) হয়েছিল। এসটিএফ সূত্রের খবর, তার নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়ে। শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু রানা রউফ যায়নি।

সিপিএমের অভিযোগ, ৬৬ নম্বর ওয়ার্ডের এক ধাক্কায় ৩৬-৩৭ হাজার ভোটার বেড়েছে। যা অস্বাভাবিক। নতুন এলাকা বাড়েনি কিন্তু উর্ধ্বমুখী হয়েছে ভোটারের সংখ্যা। ভুয়ো ভোটার ঢোকার অভিযোগে জাভেদ খানকে নিশানা করে এক নেতার দাবি, দিনের পর দিন ভুয়ো রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট দিয়ে ভোটার বাড়ানো হয়েছে। কাউন্সিলর বা এমএলএর সাহায্য ছাড়া এগুলো হতে পারে না।

সিপিএম নেতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জাভেদ খান বলেন, “আমি জানি না। আমরা যে কোনও সার্টিফিকেট আধার কার্ড, রেশন কার্ড ছাড়া দিই না। যে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়, তার ওপর রেফারেন্স লিখে দিই। কলকাতার নানা জায়গায় এই ধরনের মানুষ এসে থাকছে। পুলিশের কাজ তাদের ধরা। এ রকম কিছু দেখতে পেলে, তার পুরো তথ‍্য বের করা উচিত। ধৃতের কড়া থেকে কড়া শাস্তি হোক, সেটাই আমরা দাবি করি।”

উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে বনগাঁর সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে পাক গুপ্তচর সন্দেহে রানা রউফ ওরফে ওয়াহাব আলমকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। রানা আদলে পাকিস্তানের বাসিন্দা ফয়সলাবাদের বাসিন্দা। ২০১২ সালে ভারতে এসে বসবাস শুরু করেছিল। নেপাল সীমান্ত হয়ে এই রাজ‍্যে প্রবেশ করেছিল। তার পর থেকে কলকাতার তোপসিয়ায় বসবাস শুরু করে। তার কাছ থেকে পাকিস্তানের পাসপোর্টও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।


Share