Laxmir Bhander

একই ব্লকে ১৭৩ জন পুরুষ ‘লক্ষ্মীর’ হদিশ! নদিয়ার জেলাশাসককে জানালেন বিডিও, শোকজ দফতরের এক কর্মী

রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা তো পাচ্ছেন, তার সাথে সাথে হাজার হাজার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা যাঁরা মহিলা নন, বা এই কর্মসূচির আওতায় পড়েন না, তাঁদের অ‍্যাকাউন্টেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকেছে। সরকারি টাকা যে লুঠ হয়েছে সেটা আমরা পেয়েছি। আমরা কাউকে ছাড়ব না।”

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর
  • শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ১০:১৮

পালাবদল হয়েছে। চালু হয়েছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে কারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতেন তা নিয়ে তদন্ত শুরু হতেই বেআব্রু হয়ে পড়েছে তৃণমূল জমানার দুর্নীতি। এ বার নদিয়ার কৃষ্ণনগরে একই সঙ্গে শতাধিক পুরুষ ‘লক্ষ্মী’ হদিশ পাওয়া গেল। অবৈধ ভাবে এদের নাম নথিভুক্ত করানোর অভিযোগে বিডিও অফিসের এক কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

নদিয়ার কৃষ্ণনগর-২ ব্লকে এই ভুয়ো উপভোক্তাদের হদিশ মিলেছে। সূত্রের খবর, সেখানে অন্তত ১৭৩ জন পুরুষ 'লক্ষ্মী'র হদিশ মিলল। তাঁরা এতোদিন ধরে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পেয়ে এসেছিল। ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের দফতর সূত্রের খবর, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে এই ব্লকে অন্তত ১৭৩ জন পুরুষের নাম তালিকায় ঢোকানো হয়েছে। তাঁরা গত তিন মাস ধরে এই প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন। এর ফলে সরকারের সাড়ে সাত লক্ষ টাকার বেশি কার্যত জলে চলে গিয়েছে। রাজ‍্যের প্রথম বিজেপি পরিচালিত সরকার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প শুরুর আগে লক্ষ্মীর ভান্ডার কারা পান সেই তালিকা ঝাড়াই বাছাই করা শুরু করেছে। আর তাতেই বেরিয়ে পড়েছে এমন ঘটনা।

ইতিমধ্যেই এই ১৭৩ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের তালিকা তৈরি করে নাম বাতিলের জন্য জেলাশাসকের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কৃষ্ণনগর-২ নম্বর ব্লকের বিডিও এই পুরুষ ‘লক্ষ্মী’-দের নাম অবিলম্বে বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্য দিকে, এই ঘটনায় ভোলা শীল নামে বিডিও অফিসের এক কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে। যদিও ভোলার বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ তাঁর পরিবার অস্বীকার করেছে। তাঁর মায়ের দাবি, ভোলা তৃণমূল করে। তাই ভোলাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

যাঁরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার লুঠ করেছেন, কাউকে ছাড়া হবে না বলে সোমবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তকে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করতে নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই এই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা তদন্ত শুরু করে দিয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

২০২১ সালে ভোটে জিতে এই প্রকল্প শুরু করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখনও অভিযোগ ছিল, ঘটা করে ব্লকে ব্লকে আয়োজন করা দুয়ারে সরকার ক‍্যাম্পে প্রভাব খাটিয়ে তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা  নিজের নাম লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে নথিভুক্ত করিয়েছেন। এটা যে একটা সংগঠিত অপরাধের অংশ তা-ও মেনে নিচ্ছেন কেউ কেউ। বিপুল পরিমাণ সরকারি টাকা লুঠ হয়েছে বলেও কেউ কেউ দাবি করছেন।

রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা তো পাচ্ছেন, তার সাথে সাথে হাজার হাজার তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা যাঁরা মহিলা নন, বা এই কর্মসূচির আওতায় পড়েন না, তাঁদের অ‍্যাকাউন্টেও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকেছে। সরকারি টাকা যে লুঠ হয়েছে সেটা আমরা পেয়েছি। আমরা কাউকে ছাড়ব না।”

উল্লেখ্য, বহরমপুরের রাকিবুল শেখের অ‍্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা ঢোকার খবর প্রথম সামনে আসে। তার পরে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা, পরে রঘুনাথগঞ্জের তারিকুর রহমান, মুস্তাফিজুর রহমানের নাম আসে। যত দিন যাচ্ছে তালিকা আরও লম্বা হচ্ছে। জেলায় জেলায় গ্রেফতার হচ্ছেন অনৈতিক ভাবে লক্ষ্মীর ভান্ডার পাওয়া তৃণমূলের পুরুষ নেতারা।


Share