Special Intensive Rivision

ইআরও-র ঘাটতি, আটকে হাজার হাজার আবেদন! এসআইআর ট্রাইবুনাল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ বিরোধীরা

সেই সময় বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই নামগুলি পুনর্বিবেচনার জন্য এসআইআর ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলেও এখনও বহু আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
অরুণিমা কর্মকার, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০২৬ ১১:১৭

রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের কর্মীসংকট, ট্রাইব্যুনালের সীমিত সংখ্যা এবং ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও)-এর ঘাটতির কারণে বহু আবেদন এখনও নিষ্পত্তি হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রের খবর, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা হালনাগাদের লক্ষ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছিল। এই প্রক্রিয়ায় অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত, ডুপ্লিকেট এবং বাতিলযোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করার কাজ হয়। সেই সময় বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে বলে অভিযোগ ওঠে। ওই নামগুলি পুনর্বিবেচনার জন্য এসআইআর ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হলেও এখনও বহু আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

অভিযোগ, বর্তমানে জোকা এলাকায় মাত্র একটি আঞ্চলিক এসআইআর ট্রাইব্যুনাল রয়েছে। ফলে কোচবিহার-সহ রাজ্যের দূরবর্তী জেলার বাসিন্দাদের শুনানিতে হাজির হওয়া বা প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে। এ দিকে, রাজ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন বলে দাবি বিরোধীদের।

পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে ইআরও-র ঘাটতি। জানা গিয়েছে, বর্তমানে প্রায় ৩০টি বিধানসভা কেন্দ্রে ইআরও নেই। বিভিন্ন জায়গায় আধিকারিকদের বদলি ও নতুন দায়িত্ব দেওয়ার ফলে এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের সময় যাঁরা রিটার্নিং অফিসার (আরও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তাঁদের অনেককেই ইআরও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের কারণে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বহু কাজ পিছিয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধিদলে বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান, প্রবীণ বিধায়ক অরূপ রায়, সন্দীপন সাহা-সহ একাধিক বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জেলায় জেলায় এবং ব্লকে ব্লকে স্থানীয় এসআইআর ট্রাইব্যুনাল গঠন করা প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই আবেদন জমা দিতে ও শুনানিতে অংশ নিতে পারেন। পাশাপাশি আবেদন জমার সময়সীমা অন্তত ছয় মাস বাড়ানোরও দাবি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, সরকার এই দাবি না মানলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে বিরোধীরা।

অন্য দিকে, বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান দাবি করেন, রাজ্যে প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষ ভোটার তালিকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তিনি বলেন, ভুয়ো ভোটারদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়ায় কোনও বৈধ নাগরিকের নাম যেন বাদ না যায়, সেটাই তাঁদের মূল দাবি। মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই প্রায় সাত লক্ষ মানুষ আবেদন করেছেন। তবে বিরোধীদের দাবি, এখনও প্রায় ২০ লক্ষ মানুষ পুরো প্রক্রিয়াটি বুঝে উঠতে পারেননি। তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে প্রয়োজন হলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন আখরুজ্জামান।


Share