Arrest

অভিষেকের ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে অশান্তির ঘটনায় গ্রেফতার আরও এক, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪

ফলে, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় পুলিশের গ্রেফতারি সংখ্যা আরও বাড়ল। নতুন করে গ্রেফতার হওয়া তৌফিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে অশান্তির ঘটনায় তাঁর ভূমিকা এবং অন্য কোনও ব্যক্তির যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ ০২:৩৩

ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতরের সামনে অশান্তির ঘটনায় আরও এক জনকে গ্রেফতার করল কলকাতা পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় কলকাতা পুলিশের দুষ্কৃতীদমন শাখা তৌফিক নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ, ক্যামাক স্ট্রিটে পুলিশ এবং অভিষেকের অনুগামীদের সংঘর্ষের সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। অশান্তিতে তাঁরও ভূমিকা ছিল বলে পুলিশের অভিযোগ। গ্রেফতারের পর তৌফিককে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

এই নিয়ে ক্যামাক স্ট্রিটের অশান্তির ঘটনায় মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হল। এর আগে গ্রেফতার হওয়া ১৩ জনকে শুক্রবার আদালতে হাজির করানো হয়। তাঁদের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়ে আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিচারক বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে, ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনায় পুলিশের গ্রেফতারি সংখ্যা আরও বাড়ল। নতুন করে গ্রেফতার হওয়া তৌফিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে অশান্তির ঘটনায় তাঁর ভূমিকা এবং অন্য কোনও ব্যক্তির যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর থেকে একটি বিলবোর্ড খুলতে যায় কলকাতা পুরসভার একটি দল। পুরসভার দাবি, তৃণমূলের নামাঙ্কিত ওই বিলবোর্ডটি অবৈধ ভাবে বসানো হয়েছিল এবং বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলছিল। সেই কারণেই সেটি খুলে নিতে গিয়েছিলেন পুরকর্মীরা।

পুরসভার আধিকারিকেরা পুলিশের সহযোগিতায় দফতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, অভিষেক এবং তাঁর অনুগামীরা পুরকর্মীদের কাজে বাধা দেন। সেই সময় পুলিশ ও পুরকর্মীদের উপর মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার পুলিশ মোট তিনটি এফআইআর দায়ের করে। মামলাগুলিতে অভিষেক ছাড়াও তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, হুমায়ুন কবীর-সহ বেশ কয়েক জনের নাম রয়েছে। সরকারি আধিকারিকদের কাজে বাধা, মারধর, মহিলাদের হেনস্থার চেষ্টা এবং ভয় দেখানোর অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ১৩ জনকে শুক্রবার আদালতে হাজির করানো হয়। তাঁদের হয়ে  কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের আইনজীবীরা জামিনের আবেদন করেন। তবে বিচারক সেই আবেদন খারিজ করে দেন। ধৃতদের আগামী ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পুরসভার বিলবোর্ড খুলে ফেলার নির্দেশের কপিটিই অবৈধ। পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে বেআইনি ভাবে হস্তক্ষেপ এবং অনধিকার প্রবেশের অভিযোগও তোলা হয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের দাবি, ক্যামাক স্ট্রিটের ওই দফতর তৃণমূলের নামে ভাড়া নেওয়া হয়েছে এবং নিয়মিত ভাড়াও দেওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, ওই এলাকায় একই ধরনের আরও একাধিক বিলবোর্ড থাকলেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই শুধুমাত্র তৃণমূলের বিলবোর্ড খুলে ফেলা হচ্ছে। এমনকি, তৃণমূলকে ভয় পেয়েই শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার এই পদক্ষেপ করছে বলেও অভিষেক দাবি করেন। পুরকর্মীরা বিলবোর্ড খুলে নিয়ে যাওয়ার পর শুক্রবার রাতে ওই জায়গাতেই ফের তৃণমূলের নাম লেখা একটি ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়।


Share