Jadavpur University

‘হয় ওরা থাকবে, নয় আমরা’, যাদবপুরে দাঁড়িয়ে কমিউনিস্টদের উৎখাতের ডাক মুখ্যমন্ত্রীর, ‘হিসেব শেষ পর্যায়ে’ বলে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

শুক্রবার রাখি বন্ধন উৎসব উপলক্ষ্যে যাদবপুরে হাজার কন্ঠে বন্দেমাতরম গান গাওয়ার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ৮বি বাসস্ট্যান্ডে সেই অনুষ্ঠান হয়। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যাদবপুরের কমিউনিস্টদের একহাত নেন। একের পর এক আক্রমণ করেন তিনি। তিনি কেন যাদবপুরে গিয়েছেন তা-ও বুঝিয়ে দিয়েছেন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬ ১২:৫৭

আর সমঝতা নয়। পূর্বতন সিপিএম এবং তৃণমূল যেটা করেছে, সেটা বিজেপি সরকার করবে না। যাদবপুরে দাঁড়িয়ে কমিউনিস্টদের হুঁশিয়ারি দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জানালেন, হয় ‘বেয়াদপেরা’ থাকবে, নয় ‘রাষ্ট্রবাদীরা’। ‘হিসেব একে বারেই শেষ পর্যায়ে’ বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

শুক্রবার রাখি বন্ধন উৎসব উপলক্ষ্যে যাদবপুরে হাজার কন্ঠে বন্দেমাতরম গান গাওয়ার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ৮বি বাসস্ট্যান্ডে সেই অনুষ্ঠান হয়। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যাদবপুরের কমিউনিস্টদের একহাত নেন। একের পর এক আক্রমণ করেন তিনি। তিনি কেন যাদবপুরে গিয়েছেন তা-ও বুঝিয়ে দিয়েছেন।

সেই উদ্দেশ্যের কথা জানাতে গিয়েই মুখ্যমন্ত্রী পূর্বতন সিপিএম এবং তৃণমূল সরকারের দিকে বার বার আঙুল তোলেন। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ দিন ধরে যাদবপুরে বিদেশি প্রভাবযুক্ত কমিউনিস্টদের রাজত্ব ছিল। তাঁরা বাড়িতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবি থাকে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর অভিযোগ, সেই কমিউনিস্টরাই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের স্বাধীনতা দিবস, সাধারণতন্ত্র দিবস, হিন্দু সংস্কৃতি, ভারতীয় সংস্কৃতি, বাঙালিদের পরম্পরা, মুনি-ঋষিদের পরম্পরা থেকে বিচ্যুত করেছে।

শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তৃণমূল সরকারের আমলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আক্রান্ত হয়েছেন। তৎকালীণ রাজ্যপাল তথা আচার্যকে অপমান করা হয়েছে। র‍্যাগিংয়ের সময়ে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। শুভেন্দু জানান, সে সময় তাঁর গাড়ির উপরে উঠেও লাফিয়েছিলেন কয়েক জন। তাঁর কথায়, “জানলার কাচ নামিয়ে জিজ্ঞেস করলাম। বলল, আমরা মাওবাদী। আপনাকে গোব্যাক বলতে এসেছি।”সেই ঘটনায় দু’জনকে আটক করা হলেও তৎকালীন পুলিশমন্ত্রীর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) নির্দেশে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়, দাবি শুভেন্দুর।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, সিপিএমের পরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে তৃণমূল মদত দিয়েছে। কমিউনিস্টদের সঙ্গে সমঝোতা করেছে নিজেদের স্বার্থে। তাঁর কথায়, “৩৪ বছরের কমিউনিস্টরা খোলাখুলি রাষ্ট্রবিরোধী কাজ, সনাতনবিরোধী কাজ, ভারতীয় বাঙালি পম্পরাকে ধ্বংস করতে মদত করেছে। পরে তৃণমূলও এদের সঙ্গে সমঝোতা করে চলত।” কেন সমঝোতা করত, তা-ও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “ডিভিডেন্ড একটাই দিত। নির্বাচন এলে এরা (কমিউনিস্টরা) বলত, নো ভোট টু বিজেপি। নোট ভোট টু নরেন্দ্র মোদী। তার সুফল ঘুরিয়ে পেতেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, যিনি দু’বার আমার কাছে হেরেছেন। তাই এই শক্তিকে এর ভিতরে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে।”

শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, বর্তমান সরকারের আমলে এ সব চলবে না। তাঁর কথায়, দিল্লিতে নিট-আন্দোলনের সময় সেখানে যে স্লোগান ওঠেনি, তা যাদবপুরে দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু এ-ও জানিয়েছেন, ওই মিছিলে হোস্টেল থেকে জোর করে পড়ুয়াদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছে। সেই পড়ুয়াদের অধিকাংশেরই অভিভাবকেরা ‘রাষ্ট্রবাদী’ সরকারের পক্ষে। কিন্তু তাঁদের বক্তব্যকে আমল না দিয়েই পড়ুয়াদের জোরে করে শৈরাচারী কমিউনিউস্ট নেতা চে গেভারার টি-শার্ট পরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর বলেন, “না যেতে চাইলে বলা হয়, রানাঘাটের দরিদ্র পরিবারের ছাত্রের যে পরিণতি হয়েছিল, তাদেরও তা-ই হবে। সেই মিছিলে নিট নিয়ে স্লোগান নেই। ভারতকে সমৃদ্ধ করার স্লোগান নেই। মমতা ২৬ হাজার চাকরি চুরি করলেন, সেই নিয়ে স্লোগান নেই তাঁর বিরুদ্ধে। স্লোগান কী? আজাদি।”

সেখানেই থামেননি শুভেন্দু। পড়ুয়াদের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, “কিসের আজ়াদি চান? হেরোইন খাওয়ার আজাদি? গাঁজা খাওয়ার, ড্রাগ নেওয়ার আজাদি? টুকরে টুকরে গ্যাংয়ের আজাদি?” তিনি বলেন, “সিআরপিএএফ-কে যখন জঙ্গিরা মারে, বিতান অধিকারীদের যখন হিন্দু বলে পহেলগাঁওয়ে খুন করা হয়, সে দিন এদের মিছিল হয় না। অপারেশন সিঁদুর হলে মিছিল বার করে। বলে, যুদ্ধ নয় শান্তি চাই। অবিলম্বে পাকিস্তানে ভারতীয় হানা বন্ধ করো!”

তার পরেই শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “হিসাবের শেষ পর্যায়ে এসে গিয়েছে। নয় এরা থাকবে, নয় আমরা। মাঝে আর কিছু হবে না! কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি? এই বেয়াদবেরা শুনে রাখো, অপারেশন সিঁদুরে মাসুদ আজহারের বংশকে নির্বংশ করেছে ভারতীয় বাহিনী। আমরা পাক অধিকৃত কাশ্মীরও দখল করব।’’ তাঁর আরও হুঁশিয়ারি, নন্দীগ্রাম থেকে যে ভাবে ‘কমিউনিস্টদের সাফাই’ করা হয়েছে, জঙ্গলমহল থেকে যে ভাবে ‘মাওবাদীদের সাফাই’ করা হয়েছে, সে ভাবে যাদবপুরেও অভিযান চলবে। শুভেন্দুর কথায়, “এত সাহস, আর্টস হোস্টেলের দেওয়ালে লিখছেন রেড স্যালুট কিষেণজি? লিখছেন ফ্রি কাশ্মীর? ড্রোন ওড়াব। কোথায় ফেনসিডিল, নেশার দ্রব্য নিয়ে যাচ্ছেন, কোথায় পাতা পুড়িয়ে টানছেন, আমি দেখব। আমি পুলিশমন্ত্রী। আমি জঞ্জাল সাফাই করতে জানি।”

বক্তৃতার আগে হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম্‌’ গান যখন গাওয়া হয়, তখন খালি পায়ে জাতীয় পতাকা হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রবাদের বন্ধনকে অটুট করার জন্য ১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরমের আহ্বান করি। হাজার হাজার মানুষ ভিজছিলেন। জাতীয় পতাকাকে সম্মান দিয়ে আমিও শামিল হলাম।” তিনি এ-ও জানান, ‘রাষ্ট্রবাদের বন্ধনকে সুদৃঢ়’ করতেই তাঁর সরকারের তরফে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


Share