TMC

অভিষেকের পর এ বার ডেরেক, ক্যামাক স্ট্রিটের অশান্তিতে দু’জনকেই থানায় হাজিরার নোটিশ

সেই সূত্রেই পুলিশ ডেরেককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়। রবিবার সকালে তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ নোটিশ ধরিয়ে দিয়ে আসে।

ক্যামাক স্ট্রিটের অশান্তির ঘটনায় ডেরেক ও’ব্রায়েনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চেয়ে নোটিশ দিল পুলিশ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬ ০৬:০৫

রবিবার সকালে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের বাড়িতে পৌঁছোল শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর থেকে বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনায় ডেরেকের নাম জড়িয়েছে। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া এফআইআরেও তাঁর নাম রয়েছে। সেই সূত্রেই পুলিশ ডেরেককে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়। রবিবার সকালে তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ নোটিশ ধরিয়ে দিয়ে আসে।

সূত্রের খবর, শনিবারও ডেরেক ও’ব্রায়েনের বাড়িতে শেক্সপিয়র সরণি থানার পুলিশ নোটিশ দিতে গিয়েছিল। তবে সে সময় ডেরেক বাড়িতে ছিলেন না বলে নিরাপত্তাকর্মীরা পুলিশকে জানান। ফলে তখন নোটিস দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর পর রবিবার সকালে পুলিশকর্মীরা ফের প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে ডেরেকের বাড়িতে পৌঁছোন। বাড়ির নীচে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ তাঁরা কথা বলেন। পরে এক নিরাপত্তারক্ষীর হাতে নোটিশ দিয়ে পুলিশ সেখান থেকে চলে যায়। সূত্রের খবর, সোমবার ডেরেককে শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে।

অন্য দিকে, শনিবার রাতেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতেও একই নোটিশ নিয়ে পৌঁছেছিল পুলিশ। তবে নোটিশ নিতে অভিষেককে বাড়ির বাইরে আসতে দেখা যায়নি। তাঁর দফতরের এক কর্মীর হাতে পুলিশ নোটিশটি তুলে দিয়ে ফিরে যায়। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা নাগাদ অভিষেককে শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, ডেরেককে সোমবার এবং অভিষেককে মঙ্গলবার থানায় তলব করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার বিকেলে। কলকাতা পুরসভার আধিকারিকেরা ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর থেকে একটি বিলবোর্ড খুলতে যান। অভিযোগ, তৃণমূলের নামাঙ্কিত ওই বিলবোর্ডটি অনুমতি ছাড়াই অবৈধ ভাবে বসানো হয়েছিল। পুরসভার দাবি, বিলবোর্ডটি বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলছিল। তাই সেটি সরাতেই পুরকর্মীরা সেখানে গিয়েছিলেন। অভিযোগ, পুরকর্মীদের কাজে বাধা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীরা। পুলিশের সহযোগিতায় দফতরে ঢোকার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ ও পুরকর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

এই ঘটনায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় মোট তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। একটি অভিযোগ করেছেন কলকাতা পুরসভার এক আধিকারিক। অন্যটি করেছেন পার্ক স্ট্রিট থানার এক সার্জেন্ট। সরকারি আধিকারিকদের কাজে বাধা দেওয়া ও তাঁদের মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি, মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থা এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগেও মামলা রুজু হয়েছে। এফআইআরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং হুমায়ুন কবীরের নাম রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবারই বৈশ্বানর, হুমায়ুন-সহ অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ দেওয়া হতে পারে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই ধরপাকড় শুরু করেছে। এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বার ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও ডেরেক ও’ব্রায়েনকেও তলব করা হচ্ছে।


Share