Taratala Incident

এত বড় নির্মাণকাজে শ্রমিকদের উপস্থিতির কোনও খাতাই নেই! কত জন ছিলেন বোঝা যাচ্ছে না, জানাল লালবাজার

এ দিন কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, ঘটনায় মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ জন জখম হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে।

কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ০৮:০৩

সম্পূর্ণ অরাজকতা। তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামটিতে কত জন শ্রমিক কাজ করছিল, তার কোনও হিসেব পাওয়া যাচ্ছে না। ধৃতেরাও সঠিক ভাবে বলতে পারছেন না। নির্মাণকাজে নিযুক্ত শ্রমিকদের উপস্থিতির জন্য কোনও খাতাই সেখানে রাখা হয়নি। বৃহস্পতিবার প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে এমনটাই জানিয়েছে লালবাজার। এখনও উদ্ধারকাজ চলছে।

তারাতলার ঘটনার স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে কলকাতা পুলিশ। ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ঠিকাদার আসগর হোসেন ধ্বংসস্তূপেই চাপা পড়ে মারা গিয়েছে। অয়ন ট্রেডার্সের সুপারভাইজার মহম্মদ গুলজারকে গ্রেফতার হয়েছে। এই সংস্থাই গুদামের ছাদ নির্মাণ করার কাজ করছিল। পাশাপাশি, কলকাতা বন্দরের জমিটি লিজ নিয়ে যে সংস্থা সেখানে চায়ের গুদাম তৈরি করছিল, সেই সংস্থার মালিক শম্ভুনাথ বেহরাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেহরা ব্রাদার্সের মালিকের স্ত্রী-ও এই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। লোহার কাঠামো তৈরির কাজের সঙ্গে যুক্তকে কমল সামন্ত এবং শ্রমিক সরবরাহকারী দিবাকর ভান্ডারীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এ ছাড়াও, আব্দুল হামিদ নামে এক দালালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই আব্বুল হামিদই নকশার অনুমোদন পাইতে দিতে কলকাতা পুরসভার সঙ্গে দালালি করেছিলেন। আব্বুল হামিদ প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘনিষ্ঠ বলেই স্থানীয়েরা অভিযোগ করছেন।

এ দিন কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, ঘটনায় মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ১৯ জন জখম হয়েছে। তাঁরা বর্তমানে এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে।

অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, ধৃত মহম্মদ গুলজার এবং মৃত আসগর হোসেনের আগেও অপরাধ সংগঠিত করার রয়েছে। গুলজারের বিরুদ্ধে গত ২০১৮ সালে একবালপুর থানায় মারপিটের একটি মামলা রয়েছে। অন‍্য দিকে, মৃত তৃণমূলকর্মী আসগর হোসেনের বিরুদ্ধে দু’টি মামলা রয়েছে। একটি দক্ষিন বন্দর থানায় তোলাবাজির মামলা অন‍্যটি একবালপুর থানায় অপহরণের মামলা।

অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল আরও জানিয়েছেন, পুলিশ কলকাতা পুরসভার কাছ থেকে কিছু নথি চাওয়া হয়েছে। কাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে তাঁদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। পুরসভার কাছ থেকে যাবতীয় কাগজপত্র এলে তদন্তে আরও দ্রুততার সঙ্গে এগোবে।

এ দিন বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ওই গুদামের পুরসভা সংক্রান্ত নথিতে প্রক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, টাকার বিনিময়ে প্ল‍্যানে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পুরসভার প্রাক্তন মেয়রের প্রভাবশালী ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরও নাম করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কালীকে গ্রেফতার করলেই সব বেরিয়ে যাবে। সবাই জানে, কালীর কথা ছাড়া কোনও বিল্ডিং প্ল‍্যান পাস করা হত না। ওরে ক‍্যামাক স্ট্রিট বসিয়েছিল। টাকা তুলে ধাপার কাছে ২০০ কোটি টাকা খরচ করে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় তৈরি করা হচ্ছে। পুরসভা থেকে টাকা তুলে সেখানে পাঠায় সে।”

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কাগজে সই থাকা বেশ কয়েক জন ইঞ্জিনিয়ারদের নাম উল্লেখ করেন। তাঁদেরকেও লালবাজারে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে। ঘটনার ডেপুটি কমিশনার (অপরাধ) শ্রীকান্ত জগন্নাথ রাওয়ের নেতৃত্বে ছ’সদস‍্যের বিশেষ তদন্তকারীরা দল গঠন করা হয়ে। বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। সেই দলে, অ‍্যাসিস্টান্ট কমিশনার জয়সূর্য মুখোপাধ্যায়, হোমিসাইড শাখার ওসি দেবাশিস দত্ত, হিরক দলপতি, গুন্ডা দমন শাখার সারফারাজ আহমেদ, সাব-ইন্সপেক্টর মানস ভট্টাচার্য এবং সাব-ইন্সপেক্টর কুশল মন্ডল। এই মামলার তদন্তকারী অফিসার হিসেবে ইন্সপেক্টর হিরক দলপতিকে রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবারের সাংবাদিক বৈঠকে তাঁরাও উপস্থিত ছিলেন।


Share