Calcutta High Court

ওবিসি-এ, ওবিসি-বি আর নয়! তৃণমূল জমানার সব শংসাপত্র বাতিল, ‘সাধারণ শ্রেণি’ হিসাবেই গণ্য হবেন প্রাপকেরা, নির্দেশ হাই কোর্টের

পাশাপাশি নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে ওবিসি তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। হাই কোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে তৎকালীন রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে শীর্ষ আদালতও হাই কোর্টের নির্দেশ বহাল রাখে।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ ০৯:২৯

তৃণমূল সরকারের আমলে নতুন নিয়মে জারি হওয়া সমস্ত ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি) শংসাপত্র বাতিল করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবার বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অনুজ সিংহের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি হিসেবে যে বিভাজন করা হয়েছিল, তা আর কার্যকর নেই। ফলে ওই নিয়মে জারি হওয়া ওবিসি শংসাপত্রগুলিরও আর বৈধতা থাকছে না। এই শংসাপত্রধারীদের ‘সাধারণ শ্রেণি’ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

২০১০ সালের পর রাজ্যে ওবিসি সম্প্রদায়কে ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছিল। তৃণমূল সরকারের আমলে ওবিসি শংসাপত্র প্রদান নিয়ে একাধিক অভিযোগ ওঠে। শংসাপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা গড়ায়। ২০২৪ সালে সেই মামলার রায়ে হাই কোর্ট রাজ্যের ওবিসি তালিকা থেকে ৬৬টি সম্প্রদায়কে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং সংশ্লিষ্ট শংসাপত্রগুলিও বাতিল করে। পাশাপাশি নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে ওবিসি তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়। হাই কোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে তৎকালীন রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। তবে শীর্ষ আদালতও হাই কোর্টের নির্দেশ বহাল রাখে।

আদালতের নির্দেশের পর নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে ওবিসি শ্রেণিবিন্যাসের ‘এ’ এবং ‘বি’ তালিকায় কিছু পরিবর্তন করে তৃণমূল সরকার। তবে সেই সমীক্ষা নিয়েও কলকাতা হাই কোর্ট আপত্তি তোলে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, মাত্র আড়াই হাজার নমুনা সংগ্রহ করে সমীক্ষা চালানো হয়েছিল এবং তার ভিত্তিতেই নতুন ওবিসি তালিকা তৈরি করা হয়। ওই তালিকায় মোট ১৪২টি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি-র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। হাই কোর্টের আপত্তির পর রাজ্য ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেও এ বার শীর্ষ আদালত মামলায় কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি। ফলে নতুন নিয়ম মেনে ওবিসি শংসাপত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল। কিন্তু কলকাতা হাই কোর্ট পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই নতুন শংসাপত্রগুলিও বাতিলের নির্দেশ দিল।

পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পর বিজেপি ওবিসি-এ এবং ওবিসি-বি এই দুই শ্রেণির সংরক্ষণ ব্যবস্থা তুলে দিয়ে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির জন্য একটিই সংরক্ষণ চালু করে। এই সংক্রান্ত হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা করেছিল, পরবর্তীতে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার তা-ও প্রত্যাহার করে। এর ফলে তৃণমূল সরকারের আমলে চালু হওয়া নিয়ম অনুযায়ী জারি করা ওবিসি শংসাপত্রগুলি বৈধতা হারায়। সেই কারণেই বিচারপতি মান্থা ওই শংসাপত্রগুলি বাতিলের নির্দেশ দেন। তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর যাঁরা নতুন করে ওবিসি শংসাপত্রের জন্য আবেদন করে তা সংগ্রহ করেছিলেন, তাঁরাও এই সিদ্ধান্তের ফলে সমস্যায় পড়লেন। সংরক্ষণের সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে ওই শংসাপত্র আর বিবেচিত হবে না। তাঁদের সাধারণ শ্রেণির নাগরিক হিসাবেই গণ্য করা হবে। ওবিসি শংসাপত্রের বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, এই নির্দেশের ফলে সেই সমস্যা অনেকটাই মিটবে বলে মনে করা হচ্ছে।


Share