Citizenship

মতুয়া-উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বে কেন্দ্রের বড় সিদ্ধান্ত, আর নয় দীর্ঘ অপেক্ষা! জেলাশাসকের দফতরেই মিলবে শংসাপত্র

কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে মতুয়া ও উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিজেপি এবং তৃণমূল-প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের পদাধিকারীরাও কেন্দ্রের এই সরলীকরণকে স্বাগত জানিয়েছেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৬ ০৮:০০

উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্বের শংসাপত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সরল করল কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এ বার থেকে নাগরিকত্বের আবেদনপত্র খতিয়ে দেখা এবং শুনানির পর আবেদনকারীকে যোগ্য মনে হলে জেলাশাসকের মাধ্যমেই ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়া যাবে। অর্থাৎ, মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ-সহ উদ্বাস্তুরা সরাসরি জেলাশাসকের দফতর থেকেই নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেতে পারবেন। নতুন নিয়মে পুরো প্রক্রিয়াটি এক মাসের মধ্যে শেষ করে জেলাশাসক নাগরিকত্বের শংসাপত্র তুলে দিতে পারবেন। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তে মতুয়া ও উদ্বাস্তু সম্প্রদায়ের মধ্যে সন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিজেপি এবং তৃণমূল-প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের পদাধিকারীরাও কেন্দ্রের এই সরলীকরণকে স্বাগত জানিয়েছেন।

ধর্মীয় অত্যাচারের শিকার হয়ে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মতুয়া ও উদ্বাস্তু ভারতে এসে বসবাস শুরু করেছেন। গোটা রাজ্যেই তাঁদের বসবাস থাকলেও বনগাঁ মহকুমা ও নদিয়া জেলায় মতুয়া সম্প্রদায়ের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে বেশি। প্রতিটি নির্বাচনের আগে সিএএ কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিজেপি মতুয়াদের সমর্থন আদায় করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও নাগরিকত্ব না মেলায় মতুয়া সম্প্রদায়ের বড় অংশের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেশজুড়ে শুরু হওয়া এসআইআর-এর জেরে কয়েক লক্ষ মতুয়ার নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ। এর ফলে ভোটাধিকার হারানোর পাশাপাশি তাদের মধ্যে সরকারি বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এত দিন নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেতে উদ্বাস্তুদের কেন্দ্রের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হত। এরপর পোস্ট অফিসে তাঁদের আবেদনের শুনানি হত। শুনানি শেষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে নথিপত্র পাঠানো হত। সেখানে আরও এক দফা যাচাই-বাছাইয়ের পর কেন্দ্র নির্ধারিত দপ্তর থেকে মতুয়া ও উদ্বাস্তুরা নাগরিকত্বের শংসাপত্র হাতে পেতেন। দীর্ঘ এই প্রক্রিয়ার কারণে আবেদন থেকে শংসাপত্র হাতে পাওয়া পর্যন্ত এক থেকে দেড় বছর পর্যন্ত সময় লেগে যেত। ফলে নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদনকারীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছিল।

জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত গোটা রাজ্যে প্রায় ২৩ লক্ষ মানুষ ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্রের জন্য আবেদন করেছেন। তাঁদের মধ্যে মাত্র ২৩ হাজারের হাতে এখনও পর্যন্ত শংসাপত্র পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকায় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সরল করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এ বার থেকে জেলাশাসকের মাধ্যমেই নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়া হবে। জেলাশাসকের দফতরেই আবেদনপত্র খতিয়ে দেখা এবং শুনানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের পর শুনানিতে আবেদনকারীর বিষয়ে জেলাশাসক সন্তুষ্ট হলে তাঁর মাধ্যমেই নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়া হবে। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যেই শংসাপত্র পাওয়া সম্ভব হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির গাইঘাটা বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর। তিনি বলেন, “সরলীকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।”

বিজেপি-প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক সুকেশ গাইন বলেন, জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত গোটা রাজ্যে প্রায় ২৩ লক্ষ মানুষ ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্রের জন্য আবেদন করেছেন। তাঁদের মধ্যে মাত্র ২৩ হাজারের হাতে এখনও পর্যন্ত শংসাপত্র পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকায় নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সরল করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এ বার থেকে জেলাশাসকের মাধ্যমেই নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়া হবে। জেলাশাসকের দফতরেই আবেদনপত্র খতিয়ে দেখা এবং শুনানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাইয়ের পর শুনানিতে আবেদনকারীর বিষয়ে জেলাশাসক সন্তুষ্ট হলে তাঁর মাধ্যমেই নাগরিকত্বের শংসাপত্র দেওয়া হবে। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যেই শংসাপত্র পাওয়া সম্ভব হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির গাইঘাটা বিধায়ক সুব্রত ঠাকুর। তিনি বলেন, “সরলীকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।”


Share