TMC Political Crisis

রাস্তা আটকে ধর্মতলায় ২১ জুলাইয়ের সভা করার অনুমতি দেওয়া হবে না, তৃণমূলের দুই শিবিরকেই জানিয়ে দিল কলকাতা পুলিশ

২১ জুলাই ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ‘শহিদ দিবস’-এর কর্মসূচি করতে চেয়ে কলকাতা পুলিশকে চিঠি দেয় কালীঘাটের তৃণমূল শিবির। সেখানেই ২১ জুলাই সভা করতে চেয়ে পাল্টা কলকাতা পুলিশকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল’ তৃণমূল শিবির চিঠি দেয়।

(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ০৩:২৮

ধর্মতলাতার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে তৃণমূলের ‘জমি-যুদ্ধে’ ইতি পড়ল। ওই এলাকায় রাস্তা আটকে কোনও সভা করা যাবে না। মঙ্গলবার এমনটাই জানিয়েছেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয়কুমার নন্দ। তিনি জানিয়েছেন, সেখানে রাস্তা আটকে সভা করতে দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। সেখানে আপাতত ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি আছে।

২১ জুলাই ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে ‘শহিদ দিবস’-এর কর্মসূচি করতে চেয়ে কলকাতা পুলিশকে চিঠি দেয় কালীঘাটের তৃণমূল শিবির। সেখানেই ২১ জুলাই সভা করতে চেয়ে পাল্টা কলকাতা পুলিশকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল’ তৃণমূল শিবির চিঠি দেয়। তবে কোন শিবিরকে সভা করতে অনুমতি দেওয়া হবে তা নিয়ে দড়ি টানাটানি চলছে। কোন গোষ্ঠীকে সেখানে সভা করার অনুমতি দেওয়া হবে?, এমন প্রশ্নের উত্তরে কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয়কুমার নন্দ স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনও রাজনৈতিক ভাগ হয়ে যাওয়া পুলিশের বিষয় নয়। তা স্পিকার বা নির্বাচন কমিশন ঠিক করবেন। পুলিশের কাছে রাজনৈতিক দল থেকে সমাজকর্মী সংগঠন সবাই সভা-সমিতির করার অনুমতি চাইতেই পারে। ওই সংশ্লিষ্ট জায়গায়র পরিস্থিতির বিবেচনা করে দেখার পরে পুলিশ সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সভা করার জন্য তৃণমূলের কোনও গোষ্ঠীকেই অনুমতি দেওয়া হবে না তা কার্যত স্পষ্ট। চলতি বছরের ২১ জুলাই মঙ্গলবার পড়েছে। এমন ব‍্যাস্ততম দিনে রাস্তা অবরুদ্ধ করে রাজনৈতিক সভা করানো নিয়ে একাধিক বার প্রশ্ন উঠেছিল। তিন রাস্তার মোড়ে সভা করা হলে শুধু যে ওই এলাকা অবরুদ্ধ হয় তা নয়, আশেপাশের রাস্তার ওপরেও ট্র্যাফিকের চাপ বাড়ে। ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়। বিগত দিনগুলিতে এমনটাই পরিলক্ষিত হয়েছে। অফিসগুলিতে কর্মী অভাবে ভুগতে হয়।

জনসাধারণের কথা মাথায় রেখে ওই এলাকার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। তাই ওই এলাকায় কোনও মিটিং বা মিছিল করার অনুমতি দেওয়া হয় না। এ দিন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয়কুমার নন্দ বলেন “সেখানে সভা করতে দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। কোনও দলই সেখানে মিটিং মিছিল করতে পারবে না।” তিনি এ-ও জানান, তাঁরা বিকল্প জায়গার জন্য লিখিত ভাবে আবেদন করতে পারেন। তার পরে পরিস্থিতি বুঝে পুলিশ বিবেচনা করবে।

ধর্মতলায় সভা করা নিয়ে সোমবার বিধানসভায় ক্ষোভপ্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কুণালদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ফিতে নিয়ে মাপতে চলে গিয়েছেন! কোথায় (সভা) করবেন বলে দেব।” একই সঙ্গে তাঁর খোঁচা, “আপনাদের সভায় অনেক লোক হবে। লক্ষ লক্ষ। ব্রিগেডে চলে যান! গিয়েছিলেন তো এক বার!”


Share