Calcutta High Court

নন্দীগ্রামে মিলনের পাঁচ মামলায় আপাতত রক্ষাকবচ নয়, হাই কোর্টে স্বস্তি-আশ্বাস! মঙ্গলবার দুই মামলায় জামিনের আবেদন

সোমবার উচ্চ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, এই মুহূর্তে কোনও নির্দেশিকার প্রয়োজন নেই। অন্য দিকে, যে দু’টি মামলায় বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন মিলন, সেই দু’টি মামলাতেই মঙ্গলবার জামিনের আবেদন করা হবে।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:৩৬

নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে থাকা আরও পাঁচটি মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট আপাতত কোনও পদক্ষেপ করল না। সোমবার উচ্চ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, এই মুহূর্তে কোনও নির্দেশিকার প্রয়োজন নেই। অন্য দিকে, যে দু’টি মামলায় বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন মিলন, সেই দু’টি মামলাতেই মঙ্গলবার জামিনের আবেদন করা হবে।

হলদিয়া মহকুমা আদালত মিলনকে আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। পরে কাঁথি আদালতও তাঁকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠায়। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ফের তাঁকে আদালতে হাজির করানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যেই নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের প্রচার শেষ হবে ৪ অক্টোবর। এই পরিস্থিতিতে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আরও পাঁচটি মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে রক্ষাকবচ চেয়ে মিলন কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান।

মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, ওই পাঁচটি মামলায় আপাতত আদালতের কোনও পদক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই। অন্য দিকে, মিলনের আইনজীবী দাবি করেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০৭ সালের একটি পুরনো মামলার পরোয়ানার ভিত্তিতে কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, উপনির্বাচনের আগে ১৭ বছর পুরনো মামলার পরোয়ানা হঠাৎ কার্যকর করা হয়েছে। মিলনের আইনজীবী আদালতে সওয়াল করে বলেন, ‘‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে কী ভাবে ব্যাহত করা যায়, তার একটি আদর্শ উদাহরণ।’’

তার পাল্টা রাজ্যের তরফে এএজি রাজদীপ মজুমদার জানান, গ্রেফতারি পরোয়ানা ২০০৭ সালের ঠিক কথা। নির্বাচনের সময় আদর্শ আচরণবিধি অনুযায়ী, শুধু মিলনের বিরুদ্ধেই নয়, অন্যদের বিরুদ্ধেও থাকা পরোয়ানা কার্যকর করা হয়েছে। রাজ্য এ-ও বলে, বাকি পাঁচ মামলায় মিলন প্রধান মূল অভিযুক্ত নন। তাই তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ করা হবে না। তখন উচ্চ আদালতও জানিয়েছে, আপাতত এ নিয়ে তারা কোনও নির্দেশিকা দিচ্ছে না। আগামী ১২ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের সঙ্গে সঙ্গে ভবানীপুরেও জয়ী হন শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর নিয়ম অনুযায়ী একটি বিধানসভা আসন ছাড়তে হয়। সেই নিয়ম মেনেই শুভেন্দু নন্দীগ্রাম কেন্দ্রটি ছেড়ে দেন। ওই কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন। বিজেপি প্রার্থী করেছে হাসিরানি রথকে। তিনি শুভেন্দুর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা। অন্য দিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরেই মিলন ১৭ বছরের পুরনো একটি মামলায় গ্রেফতার হন। এ বার মিলনের স্ত্রীর ভিডিয়োবার্তাকে সামনে রেখে নন্দীগ্রামে প্রচারে নেমেছে কংগ্রেস। ভিডিয়োবার্তায় তিনি বলেন, ‘‘প্রতিবার নির্বাচনে ভোট দিতে যান। পুজোয় বাড়ি যান। কোনও দিন পদক্ষেপ করেনি পুলিশ। এ বার প্রার্থী হয়েছেন বলে গ্রেফতার। নন্দীগ্রামবাসীকে বলব, আপনারা কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের সঙ্গে থাকুন।’’

তিন দশক আগে মুর্শিদাবাদের নবগ্রামের প্রার্থী অধীর চৌধুরী জেলে থাকাকালীন তাঁর বক্তব্যের ক্যাসেট নিয়ে প্রচার চালিয়েছিল কংগ্রেস। মিলনের গ্রেফতারি এবং তাঁর স্ত্রীর ভিডিয়োবার্তা সেই পুরনো কৌশলের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল।


Share