Sumit Roy

সুমিতের গ্রেফতারিতে আপাতত ‘না’, রক্ষাকবচ বহাল সুপ্রিম কোর্টের! তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ শীর্ষ আদালতের

জমি দুর্নীতি মামলায় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ সুমিতের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুমিত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। শীর্ষ আদালত তাঁকে আপাতত রক্ষাকবচ দিয়েছে এবং তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে।

সুমিত রায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৬ ০২:০৪

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে আপাতত গ্রেফতার করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্ট তাঁর রক্ষাকবচ বহাল রাখল। তবে আদালতের নির্দেশ, সুমিতকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। আগামী বুধবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে ফের মামলাটির শুনানি হতে পারে।

জমি দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ সুমিতের খোঁজ করছিল। তদন্তকারীরা তাঁর সন্ধানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও হানা দিয়েছিলেন। পরে রক্ষাকবচ চেয়ে সুমিত কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। চাকরি দুর্নীতির একটি মামলায় হাই কোর্ট তাঁকে রক্ষাকবচ দিলেও তিনি জমি দুর্নীতি মামলায় সেই সুবিধা পাননি। জমি দুর্নীতি মামলায় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ সুমিতের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুমিত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। শীর্ষ আদালত তাঁকে আপাতত রক্ষাকবচ দিয়েছে এবং তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে।

শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ছ'টা পর্যন্ত তদন্তকারী সংস্থা সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। সেই নির্দেশ মেনে তিনি ভবানী ভবনে হাজিরা দেন। শনিবার থেকে সিআইডি টানা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে সুমিতের আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেল তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। তবে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, সুমিত তদন্তে সহযোগিতা করছেন কি না, তা সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে জানতে হবে। এ বিষয়ে তিনি সংস্থার কাছে রিপোর্টও চাইবেন বলে জানান। এর পরেই সুমিতের অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ বহাল রাখে শীর্ষ আদালত। অর্থাৎ, আগের নির্দেশই আপাতত কার্যকর থাকবে। তাঁকে এখনই গ্রেফতার করা যাবে না এবং তদন্তে তাঁকে সহযোগিতা করতে হবে।

পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে ভুয়ো নথি তৈরি করে সরকারি জমি দখল ও বিক্রির অভিযোগ উঠেছিল সুমিতের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, টাকার বিনিময়ে সরকারি জমি বিক্রি করা হত। সুমিতের সম্মতিতেই ওই জমি সংক্রান্ত ভুয়ো নথি তৈরি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তবে সুমিতের আইনজীবীর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই পুরনো একটি ঘটনায় তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে পুলিশ এফআইআর করেছে। আদালতে আইনজীবী জানান, ২০২১ সালের ঘটনার অভিযোগে ২০২৬ সালের জুনে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। সুমিতের খোঁজে মধ্যরাতে অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতেও শালবনি থানার পুলিশ হানা দিয়েছিল। তদন্তকারীরা তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে তল্লাশি চালালেও সেখানে সুমিতকে পাওয়া যায়নি। পরে শীর্ষ আদালতের রক্ষাকবচ পাওয়ার পর সুমিত সিআইডির মুখোমুখি হন। মামলাটির তদন্ত এখনও চলছে।


Share