Nikhil Sabalok Murder Case

নিখিলের নিখুঁত অবস্থান দিয়েছিল ধৃত অয়ন গুপ্ত, খুনের মামলায় ঝাড়খণ্ড পুলিশের নজরে লালবাজারের গোয়েন্দারা বিভাগের এক আধিকারিক

লালবাজার সূত্রের খবর, অয়ন গুপ্ত ট্রাফিক সার্জেন্ট ছিলেন। তাঁর পক্ষে কেনও ব‍্যক্তির মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন বের করা সম্ভব নয়। এই ‘টাওয়ার ডাম্প’, সিডিআর বা আইপিডিআর সংক্রান্ত তথ্য লালবাজারের সাইবার অপরাধ দমন শাখার এবং গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিক ছাড়া দেওয়া সম্ভব নয়।

কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন সার্জেন্ট অয়ন গুপ্ত।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ঝাড়খণ্ড
  • শেষ আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৫৪

ঝাড়খণ্ডের হোটেল ব‍্যবসায়ী নিখিল সবলোককে খুনের মামলায় গত দু’সপ্তাহ আগে বেলেঘাটা ট্রাফিক গার্ডে কর্মরত এক ট্রাফিক সার্জেন্টকে পুলিশ গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পুলিশ সূত্রের খবর, অয়ন গুপ্ত ঘটনার মূল অভিযুক্ত অশোক সিংহ রাঘবকে নিখিল সবলোকের ফোনের টাওয়ার লোকেশন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করে পাচার করেছেন। সেই টাওয়ার লোকেশন দেখেই আতোতায়ীরা নিখিলকে চিহ্নিত করে হত‍্যা করেছে।

লালবাজার সূত্রের খবর, অয়ন গুপ্ত ট্রাফিক সার্জেন্ট ছিলেন। তাঁর পক্ষে কেনও ব‍্যক্তির মোবাইল ফোনের টাওয়ার লোকেশন বের করা সম্ভব নয়। এই ‘টাওয়ার ডাম্প’, সিডিআর বা আইপিডিআর সংক্রান্ত তথ্য লালবাজারের সাইবার অপরাধ দমন শাখার এবং গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিক ছাড়া দেওয়া সম্ভব নয়। তাই এই তথ‍্য পেতে কোনও গোয়েন্দা বিভাগের কোনও আধিকারিক তাঁকে সাহায্য করেছে বলে ঝাড়খন্ড পুলিশ মনে করছে। সূত্রের খবর, তাঁদের নজরে গোয়েন্দা বিভাগের এক আধিকারিক নজরে আছেন।

তবে নিখিল সবলোককে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়ার পরে সার্জেন্ট অয়ন গুপ্তকে কলকাতা পুলিশ সাসপেন্ড করে দিয়েছে। ‘টাওয়ার ডাম্প’ সংক্রান্ত তথ্য অয়ন কী করে পেল তা নিয়ে অভ‍্যন্তরীণ তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনার অজয়কুমার নন্দ। অয়নের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। একই সাথে টুইঙ্কেল দাস নামে ওই ট্রাফিক গার্ডে কর্মরত এক সিভিক ভলান্টিয়ার গ্রেফতার হয়। তার কী ভূমিকা ছিল তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।

তবে অয়নের সঙ্গে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অশোক সিংহ রাঘবের সঙ্গে সমাজমাধ‍্যমে পরিচয় হয় বলে সূত্রের খবর। তাঁকে ব‍্যবহার করে পুলিশের নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল অশোক— এমনটাই জানতে পেরেছে ঝাড়খণ্ড পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। তবে এই সুরক্ষিত ‘টাওয়ার ডাম্প’ সংক্রান্ত তথ্য পেতে আর্থিক লেনদেন হয়েছিল কি না তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।


Share