Suvendu Adhikari

বিএনএস আইনের চাপে বড় সিদ্ধান্ত, রাজ্যজুড়ে গড়ে উঠছে নতুন ফরেন্সিক সেন্টার, বাড়ছে মোবাইল ভ্যানও

এ বার এই কেন্দ্রগুলিকে আরও উন্নত করার পাশাপাশি খড়গপুর, সিঙ্গুর, ব্যারাকপুর, কল্যাণী এবং মুর্শিদাবাদে নতুন পাঁচটি রিজিওনাল ফরেন্সিক সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ১০:৩৮

রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, এখন থেকে সমস্ত মামলা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) আইনে রুজু করতে হবে। এই আইনে সাত বছরের বেশি সাজাযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে ফরেন্সিক তদন্ত বাধ্যতামূলক হওয়ায়, অতীতে একাধিক মামলায় সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল পুলিশকে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এ বার রাজ্যজুড়ে ফরেন্সিক পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য পুলিশ।

বর্তমানে কলকাতায় পূর্ণাঙ্গ ফরেন্সিক ল্যাব থাকলেও দুর্গাপুর, মালদহ ও জলপাইগুড়িতে রয়েছে রিজিওনাল ফরেন্সিক ইউনিট। এ বার এই কেন্দ্রগুলিকে আরও উন্নত করার পাশাপাশি খড়গপুর, সিঙ্গুর, ব্যারাকপুর, কল্যাণী এবং মুর্শিদাবাদে নতুন পাঁচটি রিজিওনাল ফরেন্সিক সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এতদিন জলপাইগুড়ির ফরেন্সিক কেন্দ্রে টক্সিকোলজি ও বায়োলজির মতো সীমিত পরিষেবা থাকলেও পূর্ণাঙ্গ ফরেন্সিক পরীক্ষার ব্যবস্থা ছিল না। খুব শীঘ্রই সেখানে নারকোটিক, ফিজিক্স, ব্যালিস্টিক এবং ডিএনএ পরীক্ষার পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। ইতিমধ্যেই প্রস্তাবিত কেন্দ্রগুলির জন্য উপযুক্ত জায়গা ও পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ।

তদন্তের কাজে দ্রুত ফরেন্সিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখে কয়েক মাস আগে প্রতিটি জেলা পুলিশ ও কমিশনারেটে একটি করে মোবাইল ফরেন্সিক ভ্যান দেওয়া হয়েছিল। তবে বড় জেলাগুলিতে সেই সংখ্যা যথেষ্ট না হওয়ায় সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আরও ২৫টি মোবাইল ফরেন্সিক ভ্যানের আবেদন জানিয়েছে রাজ্য পুলিশ।

উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে ফরেন্সিক পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্য পুলিশকে আট কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দিয়েছিল। এবার আরও অনুদানের আবেদনও পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে রাজ্য পুলিশের এডিজি তথা ফরেন্সিক বিভাগের প্রধান কালিয়াপ্পন জয়রামন বলেন, ‘ফরেন্সিক প্রক্রিয়াকে আধুনিকরণ করার চেষ্টা শুরু করেছি আমরা। সেই জন্য নিত্য নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কোনও ঘটনার তদন্তে দ্রুত তথ্য খুঁজে পেতে মোবাইল ভ্যান ব্যবহারের উপর জোর দিচ্ছি আমরা।’ আগামীতে অন্য জায়গাতেও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলা হতে পারে বলে জানান এডিজি।


Share