Manoj Kumar Agarwala

রাজনৈতিক চাপ নয়, নিয়ম মেনেই কাজ! নবান্নে প্রশাসনিক সংস্কারের ডাক নতুন মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালের

বৈঠকে মনোজ আগরওয়াল বলেন, “আমি সবাইকে বলব শিরদাঁড়া শক্ত করে কাজ করুন। কাজ করলে শিরদাঁড়া বাঁকাতে হয় না। আপনারা আইএএস অফিসার, নিজের দায়িত্ব পালন করে যান।”

রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ১০:৫৪

নবান্নে প্রশাসনিক সংস্কারের স্পষ্ট বার্তা দিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল। মঙ্গলবার সমস্ত দফতরের সচিবদের নিয়ে প্রথম বৈঠকেই ১৯৯০ ব্যাচের এই আইএএস আধিকারিক জানিয়ে দিলেন, নতুন প্রশাসনে কাজ হবে শুধুই নিয়ম মেনে, রাজনৈতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করে নয়।

মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দায়িত্ব সামলানোর পর মুখ্যসচিব পদে বসেই আমলাদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দেন তিনি। বৈঠকে মনোজ আগরওয়াল বলেন, “আমি সবাইকে বলব শিরদাঁড়া শক্ত করে কাজ করুন। কাজ করলে শিরদাঁড়া বাঁকাতে হয় না। আপনারা আইএএস অফিসার, নিজের দায়িত্ব পালন করে যান।”

একই সঙ্গে তিনি নির্দেশ দেন, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি দ্রুত চালু করতে হবে। বিজেপির ‘সংকল্প পত্রে’ ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়নের জন্যও প্রতিটি দফতরকে দ্রুত রূপরেখা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগেই সোমবার নবান্ন থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের তিনি স্পষ্ট নির্দেশ দেন, গরু পাচার, কয়লা ও বালি পাচারের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিতে হবে। পাশাপাশি সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি ও বেআইনি দখলদারির বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও বেআইনি নির্মাণ চোখে পড়লেই তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে প্রশাসনকে।

এছাড়া বিধায়কদের শপথ গ্রহণের পর জেলা প্রশাসনকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে দীর্ঘদিনের থমকে থাকা উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। মুখ্যসচিবের ‘শিরদাঁড়া শক্ত রাখার’ বার্তা এবং মুখ্যমন্ত্রীর ‘দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন’-এর ডাক দুটিই কার্যত আমলাতন্ত্রের উদ্দেশ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

উল্লেখ্য, বিধানসভা ভোটের সময় মনোজ আগরওয়াল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ছিলেন। সেই সময় থেকেই প্রশাসনিক মহলে জোর গুঞ্জন ছিল, সরকার বদল হলে তিনি ও অবসরপ্রাপ্ত আইএএস সুব্রত গুপ্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন। কারণ, তাঁদের তত্ত্বাবধানেই বহু বছর পর রাজ্যে তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ ভোট প্রক্রিয়া হয়েছে বলে মনে করা হয়। সেই জল্পনাই সত্যি হয়েছে। শনিবার সুব্রত গুপ্তকে মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয় এবং সোমবার মুখ্যসচিবের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় মনোজ আগরওয়ালের হাতে।


Share