TMC Political Crisis

ত্রিপুরা নয় এনসিপিআই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দল, রাজ‍্য রাজনীতিতে নতুন দলের ‘অভিষেক’, তুঙ্গে চর্চা

নির্বাচন কমিশনের নথি বলছে, এনসিপিআই ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি একটি ‘রেজিস্টার্ড আনরেকগনাইজড পলিটিক্যাল পার্টি’ বা রেজিস্টার্ড অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়েছে। হাওড়ার সাঁকরাইল থানার বানিপুরের হাটগাছা গ্রামে দলটির ঠিকানা দেওয়া রয়েছে।

(বাঁ দিক থেকে) উত্তিয় কুন্ডু এবং শিউলি কুণ্ডু।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ ১১:৩৪

ত্রিপুরা নয়, ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)’ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দল। নির্বাচন কমিশনের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এই রাজনৈতিক দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২০২৬ সালে তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ ২০ জন সাংসদ এই এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়ার কথা কথা ঘোষণা করেছেন। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে আরও একটি নতুন রাজনৈতিক দলের অভিষেক হল বলেও মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

নির্বাচন কমিশনের নথি বলছে, এনসিপিআই ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারি একটি ‘রেজিস্টার্ড আনরেকগনাইজড পলিটিক্যাল পার্টি’ বা রেজিস্টার্ড অস্বীকৃত রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত করা হয়েছে। হাওড়ার সাঁকরাইল থানার বানিপুরের হাটগাছা গ্রামে দলটির ঠিকানা দেওয়া রয়েছে।

জানা গিয়েছে, এই দলের আর্থিক অবস্থাও অত্যন্ত সীমিত ছিল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য এ-ও বলছে, দলটির মোট অনুদান হিসেবে মাত্র এক লক্ষ ১৩ হাজার টাকা পেয়েছিল। এই দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে রয়েছেন শিউলি কুন্ডু। শিউলি একই ঠিকানায় নিবন্ধিত দুটি সংস্থারও পরিচালক। একটি বিশ্ববাজার প্রাইভেট লিমিটেড এবং অপরটি পশ্চিমবঙ্গ অসংগঠিত মহিলা কর্মী অ্যাসোসিয়েশন।

এই দলের তৈরি করেছিলেন শান্তনু দে। আপাতত যে তথ্য পাওয়া গিয়েছে, শান্তনু দে সংঙ্ঘের স্বয়ংসেবক। দলের সভাপতি উত্তিয় কুন্ডু। তিনি শিউলির স্বামী। ইতিমধ্যেই উত্তিয়ের সঙ্গে রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবি ভাইরাল হয়েছে। গত ১০ মে ছবিটি আপলোড করা হয়েছিল।

পশ্চিমবঙ্গে এই দলটির আবির্ভাব হলেও ২০২৩ সালে ত্রিপুরার বিধানসভা নির্বাচনে দলটি কয়েকটি কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়েছিল। চাওমানু কেন্দ্রে এনসিপিআইয়ের প্রার্থী পায় ৫৩৬টি ভোট। কৈলাসহর কেন্দ্রের প্রার্থী পেয়েছিলেন ২৮৬টি ভোট। দলটি মোট ৮২২টি ভোট পায়। অন্যদিকে, আমবাসা কেন্দ্রে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়া কৃষ্ণকুমার দেববর্মা পান ৩৭৬টি ভোট। সব মিলিয়ে এনসিপিআই-সমর্থিত প্রার্থীরা এক হাজার ১৯৮টি মোট ভোট পেয়েছিল। ওই নির্বাচনে কোনও প্রার্থীই জয়ের ধারেকাছেও পৌঁছোতে পারেননি।

ত্রিপুরায় এনসিপিআইয়ের টিকিটে লড়া প্রাক্তন প্রার্থীদের অভিযোগ, নির্বাচনের পর দলটি কার্যত অদৃশ্য হয়ে যায়। কৈলাসহরের প্রার্থী জাহাঙ্গির আলি বলেন, কলকাতা থেকে এসে শিউলি কুন্ডু তাঁদের প্রার্থী করেছিলেন। কিন্তু ভোটের পর তাঁদের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ রাখা হয়নি। আরেক প্রাক্তন প্রার্থী বরজেদা ত্রিপুরা জানান, তাঁকে স্থানীয় সূত্রের মাধ্যমে শান্তনু দে-র সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দল প্রচারেও বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি। শুধু প্রার্থী দাঁড় করাতেই বেশি আগ্রহী ছিল তাঁরা।

এনসিপিআই নেতা শান্তনু দে দাবি করেছেন, ত্রিপুরার উপজাতি অধ্যুষিত এলাকাগুলির বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধিত্ব করাই ছিল দলের মূল লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যে দলটি সাতটি আসনে প্রার্থী দেয়। তবে চারটি আসনে মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত মাত্র দুটি আসনে দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এনসিপিআইয়ের প্রার্থীরা। শান্তনু দে আরও জানান, ২০২৩ সালের পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত নির্বাচনে লড়ার পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ত্রিপুরা নির্বাচনের পর আর্থিক বিষয় নিয়ে অভ্যন্তরীণ কিছু দেখা দেয়। তার পর থেকে দল কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। পরে ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতির প্রস্তাব দিলেও অর্থের অভাবে তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, এই সীমিত রাজনৈতিক অস্তিত্ব থাকা সত্ত্বেও এখন এনসিপিআই জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। রবিবার তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদেরা দলত্যাগের পর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করে আলাদা আসন বিন্যাসের দাবি জানান। পরবর্তীতে কলকাতা উত্তরের তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নিশ্চিত করেন যে ‘বিদ্রোহী গোষ্ঠী’ এনসিপিআই-এর সঙ্গে জুড়তে চলেছে। তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ কাকলী ঘোষ দস্তিদার জানান, তাঁদের পক্ষ থেকে পৃথক সংসদীয় গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির আবেদনও স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

অন‍্য দিকে, তৃণমূল ভাঙনের আগে রবিবার লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিলেন তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন পাতার চিঠিতে অভিষেক লিখেছেন, তৃণমূল একটি অখন্ড রাজনৈতিক দল। আইনত তৃণমূল একটাই। চিঠিতে অভিষেক লিখেছেন, “তৃণমূল একটি অখণ্ড রাজনৈতিক দল। লোকসভায় যে সংসদীয় দল রয়েছে, সেটিও মূল রাজনৈতিক দলের উপরেই নির্ভরশীল এবং তা ওই রাজনৈতিক দলেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। আইনত তৃণমূল একটিই। একইভাবে একজন করেই লোকসভার দলনেতা এবং এক হুইপ আছেন। তাঁরা সকলেই মূল রাজনৈতিক দল এবং তার সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে নিজ নিজ পদে থাকেন। সাংসদেরা কখনও একই দলের মধ্যে নিজেদের ইচ্ছামতো কোনও সমান্তরাল ‘গোষ্ঠী’ তৈরি করে লোকসভায় পৃথক স্বীকৃতির দাবি করতে পারেন না।”


Share