Calcutta High Court

রাজ্যের আশ্বাসের পরেও নতুন মামলা! নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ‘রক্ষাকবচ’ হাই কোর্টের

বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন মামলায় মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না।

নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ‘রক্ষাকবচ’ হাই কোর্টের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৩৮

রাজ্যের আশ্বাসের পরেও নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়ের হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে তাঁর আইনজীবী কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটির শুনানি হয়। শুনানি শেষে আদালত নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন মামলায় মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না। এমনকি ওই মামলায় তাঁকে গ্রেফতারও দেখানো যাবে না।

রক্ষাকবচ চেয়ে মিলন হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন। বৃহস্পতিবার শুনানিতে তাঁর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, এর আগে আদালতের সামনে রাজ্য জানিয়েছিল, মিলনের বিরুদ্ধে আর কোনও মামলা বিচারাধীন নেই। কিন্তু সেই বক্তব্যের পরেও তাঁকে নতুন একটি মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, “এর আগে আদালত যে নির্দেশ ও বক্তব্য নথিবদ্ধ করেছিল, তা অমান্য করা হয়েছে। রাজ্য জানিয়েছিল, মিলনের বিরুদ্ধে আর কোনও মামলা বিচারাধীন নেই। তার পরেও তাঁকে আরও একটি মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। ওই মামলায় ৭ অক্টোবর পর্যন্ত হেফাজত হয়েছে।”

রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার বলেন, “শুনানির আগে ওই মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। ওই মামলাতে কংগ্রেস প্রার্থীকে ১৯ তারিখ গ্রেফতার করা হয়। আর ২১ তারিখে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয় এবং ২২ তারিখে শুনানি হয়। কংগ্রেস প্রার্থীর আইনজীবী অবশ্য আদালতে দাবি করেন, এই তথ্য সঠিক নয়।" তিনি জানান, বুধবারও তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে নতুন মামলা দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যের উদ্দেশ্যে বিচারপতি ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, “আমারও মনে আছে, রাজ্য আদালতকে জানিয়েছিল যে, গ্রেফতারির মামলাটি ছাড়া অন্য কোনও মামলা বিচারাধীন নেই। তা হলে পাঁচটি মামলা বাদে অন্য একটি মামলায় কেন তাঁকে (কংগ্রেস প্রার্থী) আটক করা হল?”

জবাবে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট মামলাটিতে কংগ্রেস প্রার্থীকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপরই হাই কোর্টে মামলাটির শুনানি হয় এবং আদালতে দেওয়া রিপোর্টেও সেই তথ্য উল্লেখ করা হয়েছিল। এমনকি নিম্ন আদালতের নির্দেশনামাতেও বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে বলে আদালতকে জানায় রাজ্য। এর পরেই তদন্তের সময়কাল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। তিনি বলেন, “যদি ২০২১ সালেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়ে থাকে, তা হলে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তদন্তকারী অফিসার কী করছিলেন?” রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, আগের সরকার ওই মামলাগুলি প্রত্যাহার করতে চেয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মামলাগুলি প্রত্যাহারের বিষয়ে তদন্তকারী আধিকারিকদের কোনও আগ্রহ ছিল না। তবে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী বর্তমানে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে আদালতে জানায় রাজ্য।

বিচারপতি আরও বলেন যে, “এর আগে রাজ্য জানিয়েছিল নতুন মামলায় পদক্ষেপ করা হবে না। এই অবস্থায় আদালতের প্রতি সম্মান জানিয়ে, যদি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আর কোনও মামলা বিচারাধীন থেকেও থাকে, তা হলে আপাতত সেই মামলাগুলিতে কোনও পদক্ষেপ করা উচিত নয়।” তাঁর কথায়, “কংগ্রেস প্রার্থী চারটি মামলায় জামিনের আবেদন করেছেন। বাকি ছ’টি মামলায় কোনও পদক্ষেপ করবেন না।

কংগ্রেস প্রার্থীর আইনজীবী আদালতের কাছে তাঁর মক্কেলের জন্য রক্ষাকবচের আবেদন জানান। তাঁর দাবি, মিলনের বিরুদ্ধে যাতে নতুন করে আর কোনও মামলা দায়ের করা না যায়, সেই নির্দেশ দেওয়া হোক। আইনজীবী বলেন, “আমার মক্কেলের আগামী ৭ তারিখ পর্যন্ত হেফাজত, অথচ নির্বাচন ৬ তারিখে। তাঁকে নির্বাচনে লড়াই করার সুযোগ দেওয়া হোক।”

বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, আদালতের সামনে এমন কোনও নথি নেই, যার ভিত্তিতে নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে কংগ্রেস প্রার্থী মিলনের ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’ কার্যকর হয়েছিল। ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’ কার্যকর করা হয়েছিল বলে রাজ্য যে দাবি করেছে, সেই বক্তব্য আদালত গ্রহণ করছে না।

উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন। তার আগে একাধিক মামলায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান আইনি জটিলতায় পড়েছেন। নন্দীগ্রাম থানার একটি মামলায় হলদিয়া আদালত তাঁকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি, খেজুরি থানার একটি মামলায় বুধবার কাঁথি আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক তাঁকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার হাই কোর্টে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছিল, মিলনের বিরুদ্ধে থাকা আরও ছ’টি মামলায় তিনি মূল অভিযুক্ত নন। সেই মামলাগুলিতে রক্ষাকবচ চেয়ে করা আবেদনের শুনানি বুধবারও হয় বিচারপতি ভট্টাচার্যের এজলাসে। ওই ছ’টি মামলার বাইরে মিলনের বিরুদ্ধে আরও কোনও মামলা রয়েছে কি না, তা জানতে তাঁর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্যকে বিচারপতি আদালতে ডেকে পাঠান। বুধবার শুনানিতে অয়ন জানান, মঙ্গলবার রাজ্যের তরফে দেওয়া আশ্বাসের পরেও তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে নতুন করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি আদালতের নজরে এনে কংগ্রেস প্রার্থীর আইনজীবী দ্রুত সেই মামলার শুনানির আর্জি জানান।

গত শুক্রবার ১৯ বছরের পুরনো মামলায় পুলিশ পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে মিলনকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলনের সময় তাঁর বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা, বেআইনি ভাবে লোকজন জড়ো করা এবং লুটপাট-সহ একাধিক অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল। নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি এবং খেজুরি থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু হয়।


Share