Calcutta High Court

আরও পাঁচটি মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কা, হাই কোর্টে মামলা দায়ের নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন, মঙ্গলবার শুনানির সম্ভাবনা

সোমবার সকালে তাঁর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে বিষয়টি উত্থাপন করেন। তাঁর বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলা দায়েরের অনুমতি দেন। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা।

গ্রেফতারি আশঙ্কায় রক্ষাকবচ চেয়ে হাই কোর্টের দারস্থ মিলন প্রধান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:১৯

একটি মামলায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছেন। এ বার আরও পাঁচটি মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কা করছেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। সেই পাঁচ মামলায় ‘রক্ষাকবচ’ চেয়ে জেলবন্দি মিলন কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন। সোমবার সকালে তাঁর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য আদালতে বিষয়টি উত্থাপন করেন। তাঁর বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মামলা দায়েরের অনুমতি দেন। মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা।

শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে মিলনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ২০০৭ সালের একটি পুরনো মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন। সোমবার হাই কোর্টে মিলনের আইনজীবী জানান, একটি মামলায় ইতিমধ্যেই তাঁর মক্কেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু আরও পাঁচটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ওই পাঁচ মামলায় আগাম রক্ষাকবচ চেয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের আবেদন করেন তিনি।

আইনজীবীর বক্তব্য, ‘‘একটি মামলায় ইতিমধ্যেই আমার মক্কেলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও পাঁচটি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে। ওই পাঁচ মামলায় রক্ষাকবচ দেওয়া হোক। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।’’ সওয়াল শোনার পর বিচারপতি ভট্টাচার্য মিলনের আইনজীবীকে মামলা দায়ের করার অনুমতি দেন। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হবে।

মনোনয়ন পর্ব থেকেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন ঘিরে টানাপড়েন অব্যাহত। প্রতীক নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বিরোধের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কালীঘাট তৃণমূলের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-র সাক্ষাতের ছবি প্রকাশ্যে আসে। শুক্রবার দুপুরে সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার প্রায় ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করেন সঞ্চিতা। এর কিছু ক্ষণ পর সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা জানান, তাঁর নেতৃত্বাধীন ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করবে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান গ্রেফতার হন।

২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়কার একাধিক মামলায় নাম রয়েছে মিলনের। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর বিরুদ্ধে মোট চারটি খুনের মামলা ছিল। পাশাপাশি খুনের চেষ্টা, অস্ত্র আইন-সহ একাধিক ধারায় মামলাও রয়েছে। পুলিশের দাবি, খুন, খুনের চেষ্টা, খুনের উদ্দেশ্যে অপহরণ, প্রমাণ লোপাট, অনধিকার প্রবেশ এবং অস্ত্র ব্যবহার করে অশান্তি ছড়ানোর মতো অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলন পর্বে নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি এবং খেজুরি থানায় একটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। ওই মামলাগুলিতে দীর্ঘদিন ধরেই মিলনের বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে সেই পরোয়ানা কার্যকর করতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।

শনিবার মিলনকে হলদিয়া মহকুমা আদালতে হাজির করানো হলে আদালত তাঁকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেয়। এর পর রবিবার আরও একটি মামলা দায়ের হওয়ায় মিলনের বিরুদ্ধে মোট মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ।


Share