Laxmir Bhandar

লক্ষীর ভান্ডারের তালিকায় নারায়ণের নাম! অন্নপূর্ণা যোজনার তালিকা যাচাই করতে গিয়ে উঠে এল তৃণমূল নেতার নাম, শোরগোল রাজ্য-রাজনীতিতে

লক্ষ্য করা গিয়েছে, লক্ষীর ভান্ডারের তালিকায় 'নারায়ণের' নাম, অর্থাৎ গ্রামের তৃণমুল নেতা ঠিকাকর্মী উত্তম কুমার সাউ-এর নাম।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ১১:৫৮

রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার আগেই ঘোষণা করেছিল অন্নপূর্ণা যোজনার। সেই মোতাবেকই পয়লা জুন থেকে রাজ্যে চালু হতে চলেছে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা মহিলাদের অ্যাকাউন্টে ঢোকা। বিধানসভা নির্বাচনের আগেই লক্ষীর ভান্ডারকে টক্কর দিতে বিজেপি অন্নপূর্ণা যোজনার কথা ঘোষণা করেছিল। আর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি জেতার পর থেকেই মহিলাদের মধ্যে এই প্রকল্পের চরম উৎসাহ দেখা গিয়েছে।

রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, পূর্বে যারা লক্ষীর ভান্ডার পেতেন তাদের নতুন করে আবেদন করার দরকার নেই। তবে বর্তমানে নতুনভাবে যারা এই আবেদন করবেন তাদের তালিকা যাচাই করা দেখা হবে। এই তালিকা যাচাইয়ের সময় উঠে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। লক্ষ্য করা গিয়েছে, লক্ষীর ভান্ডারের তালিকায় 'নারায়ণের' নাম, অর্থাৎ গ্রামের তৃণমুল নেতা ঠিকাকর্মী উত্তম কুমার সাউ-এর নাম। সোমবার সেই তালিকা প্রকাশ্যে এনেছেন স্থানীয় বিজেপির নেতা-কর্মীরা। যা নিয়ে শোরগোল পড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

মহিলাদের আর্থিক সহায়তার জন্য প্রদান করা এই প্রকল্পে তৃণমূল নেতার নাম কেন এল? তা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে বিজেপি। দলের চন্দ্রকোণা ৫ নম্বর মণ্ডল সভাপতি সবুজ মজুমদার বলেন, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা চালুর জন্য লক্ষ্মীর ভান্ডারের তালিকা যাচাই করা হয়েছে মনোহরপুর-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে। প্রধান যে তালিকা দিয়েছেন সেখানে উত্তম কুমার সাউ নামে একজন তৃণমূল নেতার নাম রয়েছে। একজন পুরুষের নাম লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে থাকবে কেন? অবিলম্বে নেতার নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। যারা এ জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে প্রধানকে। এ ভাবেই তৃণমূলের একের পর এক দুর্নীতি সামনে আসবে।’

সূত্রের খবর, তালিকায় সমস্ত তথ্য যেমন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল নম্বর সব কিছুই উত্তমের স্ত্রী মুনমুন সামন্ত সাউ-এর। তালিকায় স্বামীর নাম থাকলেও লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা পাচ্ছিলেন মুনমুন। তৃণমূল নেতা দাবি করেন, ২০২১ সালে দুয়ারে সরকারে স্ত্রী মুনমুন লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে আবেদন করেছিলেন। তখন থেকেই লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ঢুকছে। যদিও ঘটনা সামনে আসতেই তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ দিতে পঞ্চায়েত ও ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন উত্তম। চন্দ্রকোণা-১ বিডিও অফিসে গিয়ে নিজের নাম বাদ দেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘আমি বা আমার স্ত্রী কখনও তালিকা খতিয়ে দেখিনি। স্ত্রী লক্ষ্মীর ভান্ডার পাওয়ার যোগ্য। সেইমত আবেদন করেছিল। কিন্তু তালিকায় আমার নাম কী করে এল বলতে পারব না। উপভোক্তার জায়গায় আমার নাম থাকলেও বাকি সব তথ্য স্ত্রীর। যারা সেই সময় দায়িত্বে ছিল তারাই বলতে পারবে। যদি আমাদের কোনও ভুল থাকে তাহলে আইনি ভাবে যা করার ওরা করতে পারে।’

চন্রকোণা-১ এর বিডিও কৃষ্ণেন্দু বিশ্বাস বলেন, ‘এ কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে এমনটা হয়ে থাকতে পারে। আমরা দেখছি।’ পঞ্চায়েত প্রধান মাধুরী সিংহ দোলই বলেন, ‘২০২১–এ এটা এন্ট্রি হয়েছে। তখন অনেক উপভোক্তার চাপ ছিল। টেকনিক্যাল ভুলের কারণেও এমনটা হয়ে থাকতে পারে। বিজেপির তরফেও আমাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


Share