Abhishek Banerjee

‘কী ঔদ্ধত্য রে বাবা!’ অভিষেকের রক্ষাকবচ মামলা থেকে সরে দাঁড়ান কল‍্যাণ, বিক্ষুব্ধ আরও এক তৃণমূল সাংসদ

সম্প্রতি অভিষেকের বিরুদ্ধে সরব হয়ে দলের একাধিক সাংসদ এবং বিধায়ক বিদ্রোহী হয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি জন্য তৃণমূলের একাধিক নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জমিদারি নীতিকে’ কাঠগড়ায় তুলেছেন।

(বাঁ দিক থেকে) অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ০২:৫৯

তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচ মামলা থেকে সরে যান প্রবীণ সাংসদ তথা আইনজীবী কল‍্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেকের বিরুদ্ধে ‘ঔদ্ধত্যের’ অভিযোগ এনে রক্ষাকবচ মামলা থেকে সরে দাঁড়ান তিনি। একই সঙ্গে কল্যাণের অভিযোগ, “ওর জন্যই দলটা শেষ হয়ে গিয়েছে।” সই জালিয়াতি কান্ডে অভিষেকের রক্ষাকবচের মামলাটি আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য লড়েছেন।

বৃহস্পতিবার কলকাতা হাই কোর্টে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের সই জালিয়াতি কাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে এই মামলাটিতে  আইনজীবী হিসাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সওয়াল করার কথা ছিল। জানা গিয়েছে, শুনানির আগেই শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ মামলা থেকে সরে দাঁড়ান। এই মামলায় আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য অভিষেকের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন। শুধু কল্যাণ নন, কল্যাণের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্য জুনিয়র আইনজীবীরাও মামলা থেকে সরে দাঁড়ান বলে জানা গিয়েছে। 

 

এই প্রসঙ্গে আইনজীবী তথা শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি অভিষেকের মামলা ছেড়ে দিয়েছি। কী ঔদ্ধত‍্য রে বাবা! কাল (বুধবার) আমি ওর মামলার কথা আদালতে উল্লেখ করলাম। মমতাদির বাড়িতে সিআইডির আধিকারিকের যাওয়ার বিষয়টিও তুললাম।” কল‍্যাণের কথায়, অভিষেকের মামলাটি কোনও কারণে বুধবার কলকাতা হাই কোর্ট শোনেনি। এর পরেই মামলাটিকে জরুরি ভিত্তিতে শোনার জন্য কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দকে তাঁরা জানান। সেই মামলাটির শুনানি বৃহস্পতিবার হয়েছে। 

তার পরেই কল্যাণের সংযোজন করে বলেন, “কাল রাত সাড়ে ১২টায় আমার ছেলেকে ফোন করে বলা হয়েছে, জুনিয়রস্য জুনিয়র অয়ন এই মামলায় সওয়াল করবে। আমি বলে দিয়েছি এর (অভিষেক) সঙ্গে থাকব না। এই পেশায় ৪৫ বছর আছি। তাঁর এমন ঔদ্ধত্য মনোভাব মেনে নেব না। আমি মমতাদিকে বলব, হয় অভিষেককে রাখুন, আমাদের ছেড়ে দিন। নয় আমাদের রাখুন, অভিষেককে সরান।” একই সঙ্গে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে নিশানা করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ওর জন্য দলটা শেষ হয়েছে। তার পরেও ঔদ্ধত‍্য ভাব যায়নি।”

সম্প্রতি অভিষেকের বিরুদ্ধে সরব হয়ে দলের একাধিক সাংসদ এবং বিধায়ক বিদ্রোহী হয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি জন্য তৃণমূলের একাধিক নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জমিদারি নীতিকে’ কাঠগড়ায় তুলেছেন। কিন্তু দলের দুর্দিনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রয়েছেন কল্যাণ। প্রায় নিয়ম করে প্রতিদিন দলের বিদ্রোহীদের আক্রমণ শানাচ্ছেন। এই অবস্থায় অভিষেকের ‘ঔদ্ধত্যে’ চটলেন মমতার আস্থাভাজন হিসাবে পরিচিত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাহলে কি সংসদেও বিদ্রোহী সাংসদদের পথেই হাঁটতে চলেছেন এই প্রবীণ নেতা?— তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।


Share