Bangladeshi

ভারতে চিকিৎসা করাতে কলকাতায় মোবাইল চুরি, গত পাঁচ বছরে মাত্র ন’জন বাংলাদেশি নাগরিক গ্রেফতার, খবর লালবাজার সূত্রের

লালবাজারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কারও থেকে ৫৩টি, কারও কাছ থেকে ৫৬টি, কারও কাছ থেকে ৩১টি, কারও কাছ থেকে ২২টি আবার কারও কাছ থেকে ১৭টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত পাওয়া গিয়েছে। এই মোবাইল ফোনের মধ‍্যে মাত্র ১০টির মতো আইফোন রয়েছে।

লাল বাজার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৮

কলকাতা চিকিৎসা করাতে অনেক বাংলাদেশি নাগরিকেরা এসে থাকেন। কলকাতায় ভ্রমণ করতেও বাংলাদেশি পর্যটকেরা আসেন। কিন্তু তার আড়ালেই শহরে মোবাইল চুরির সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। জানা গিয়েছে, গত পাঁচ বছরে এমন ন’জন বাংলাদেশি নাগরিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে দেড়শোর বেশি মোবাইল ফোন।

লালবাজার সূত্রের খবর, মোবাইল চুরির সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে। ধৃত বাংলাদেশি নাগরিকেরা স্থানীয় সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত হয়। তাদের সঙ্গেই বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় মোবাইল চুরির অপারেশন চালায়। কলকাতা পুলিশের দাবি, গত পাঁচ বছরে ন’জন বাংলাদেশি নাগরিককেরা বিভিন্ন এলাকা থেকে মোবাইল চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে। তবে তাঁরা শহরে কীভাবে এলেন? অনুপ্রবেশ না বৈধ ভিসা নিয়েই তিনি এখানে এসেছেন, তা নিয়ে তদন্ত করে পুলিশ জানতে পেরেছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বৈধ ভিসা নিয়ে তাঁরা এখানে এসেছেন। কেউ পর্যটন ভিসা নিয়ে এসেছেন ভারত ঘুরে দেখার জন্য আবার কেউ এ রাজ্যে চিকিৎসা করানোর দাবি নিয়ে এসেছে। এদের মধ্যে কেউ কেউ স্থানীয় মোবাইল চোরেদের সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত হয়। যুক্ত হওয়ার পরে নির্দিষ্ট জনবহুল স্থান নির্বাচন করে অপারেশন চালায়।

তবে বাংলাদেশি চোরেদের নিশানায় ছিল অ‍্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন। আইফোনের দিকে নিশানা তুলনামূলক ভাবে কম নিশানা করা হয়। লালবাজারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কারও থেকে ৫৩টি, কারও কাছ থেকে ৫৬টি, কারও কাছ থেকে ৩১টি, কারও কাছ থেকে ২২টি আবার কারও কাছ থেকে ১৭টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত পাওয়া গিয়েছে। এই মোবাইল ফোনের মধ‍্যে মাত্র ১০টির মতো আইফোন রয়েছে। বাকি সবই অ‍্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন। কেন অ‍্যানড্রয়েড মোবাইল ফোনকে বেশি নিশানা করা হয়, তার কারণ বলতে গিয়ে লালবাজারের এক কর্তা জানান, অ‍্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন দ্রুত খোলা যায়। সিকিউরিটি ফিচার আইফোনের তুলনায় অনেকটাই কম। আইফোন একবার লক হলে তা খেলার ঝামেলা রয়েছে। মালিকের অনুমতি ছাড়া হাতবদল হওয়া আইফোন খোলা কার্যত অসম্ভব। এই ঝামেলা এড়াতে চোরেরা অ‍্যানড্রয়েড মোবাইল ফোনকেই নিশানা করে।

তবে যে পরিমাণ মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে তার চেয়ে বেশি চুরি হয়েছে। এর অধিকাংশেরই হদিশ এখনও মেলেনি বলেই এক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন। তবে সেই মোবাইল ফোন গেল কোথায়? গত বছর পার্ক সার্কাস স্টেশন থেকে এক কলেজ ছাত্রীর মোবাইল পকেট থেকে চুরি হয়। সেই মোবাইল ফোনের ‘সুইচ অন’ হয় বাংলাদেশে। তাহলে শহর থেকে চুরি হয়ে যাওয়া মোট মোবাইল ফোনের মধ্যে কত মোবাইল বাংলাদেশে পাচার করা হয়েছে, তা নিয়ে স্পষ্ট করেনি লালবাজার। ওই পুলিশকর্তা জানিয়েছেন, ভারতের সীমানার মধ্যে চুরির মোবাইল চিহ্নিত করার প্রযুক্তি রয়েছে। যদি চুরি যাওয়া মোবাইল বাংলাদেশ বা অন‍্য কোনও দেশে সুইচ অন হয় তা চিহ্নিত করার প্রযুক্তি নেই। তা হলে ওই ছাত্রীর চুরি যাওয়া মোবাইল বাংলাদেশেই অন হল, কীভাবে তা চিহ্নিত করা হল, যুক্তি মিলছে না।

যে ন’জন বাংলাদেশি নাগরিক এই মোবাইল চুরির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিল তাদের মধ‍্যে চার জনের বাড়ি চট্টগ্রামে, দু’জন ঢাকার এবং তিন জন সিলেটের বাসিন্দা বলে লালবাজারের একটি সূত্র জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, সীমান্তে কাঁটাতার না দেওয়ার কারণে অনুপ্রবেশ বেড়েছে। এখানে এসে লাভ জিহাদ-সহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা জড়িত হয়ে পড়েছে। কলকাতাতেও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা আস্তানা গেড়েছে তা নিয়েও সরব হয়েছিলেন। তিনি এখন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি রাজ‍্যের পুলিশমন্ত্রীও। তাঁর দফতরই জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে মাত্র ন’জন বাংলাদেশি নাগরিক মোবাইল চুরির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন।


Share