Calcutta High Court

উপনির্বাচনে মিলনকে লড়তে দিন, অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশ হাই কোর্টের! পুরনো মামলা ঘিরে রাজ্যের বিরুদ্ধে আদালতের প্রশ্ন

তিনি জানান, মিলনকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হবে, যাতে তিনি উপনির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি শুনানির উপর নির্ভর করবে। শুক্রবার বিকেল চারটেয় মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।

উপনির্বাচনে মিলনকে লড়তে দিন, অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশ হাই কোর্টের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:০৪

উপনির্বাচনের আগে পুরনো মামলায় গ্রেফতার হওয়া নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে নির্বাচনে লড়তে দেওয়ার কথা জানাল কলকাতা হাই কোর্ট। বৃহস্পতিবার তাঁর জামিনের আবেদনের শুনানিতে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘‘মিলন প্রধানকে নির্বাচনে লড়তে দিন।’’ তিনি জানান, মিলনকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হবে, যাতে তিনি উপনির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। তবে মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি শুনানির উপর নির্ভর করবে। শুক্রবার বিকেল চারটেয় মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।

জামিন চেয়ে বুধবার হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মিলন। তাঁর আইনজীবীরা জানান, তিনি আসন্ন উপনির্বাচনের প্রার্থী। জামিনের আবেদনের শুনানিতে সময় লাগতে পারে, তাই দ্রুত মামলাটি শুনে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়। আইনজীবীদের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি ঘোষ জামিনের মামলা দায়েরের অনুমতি দেন। বৃহস্পতিবার শুনানিতে তিনি স্পষ্ট করেন, আসন্ন নির্বাচনে মিলনকে লড়াইয়ের সুযোগ দেওয়া হবে এবং সেই কারণে তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হবে।

গত শুক্রবার ১৯ বছরের পুরনো মামলায় পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলনের সময় খুন, খুনের চেষ্টা, বেআইনি ভাবে জমায়েত, লুটপাট-সহ একাধিক অভিযোগে নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি এবং খেজুরি থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। দু’টি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি পাঁচটি মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে এর আগে মিলন কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। যদিও বিরোধীদের অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মিলনের আইনজীবীর দাবি, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন, অথচ একটি মামলায় তাঁকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত হেফাজতে রাখা হয়েছে। রাজ্যের আশ্বাসের পরেও নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও তাঁরা আদালতে অভিযোগ করেন। নির্বাচনে মিলনকে লড়ার সুযোগ দেওয়ার আবেদন জানানো হয় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে। বৃহস্পতিবার সেই মামলায় হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন মামলায় মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করতে পারবে না। এমনকি, ওই মামলায় তাঁকে গ্রেফতারও দেখানো যাবে না।

এই নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিঙ্গল বেঞ্চের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ মামলাটি দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে। শুক্রবার মামলাটির শুনানি হতে পারে। এর আগে আদালত শুনানি চলাকালীন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিচারপতি ভট্টাচার্য প্রশ্ন করেন, ২০২১ সালে জারি হওয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তদন্তকারী আধিকারিকেরা কী করছিলেন?

জবাবে রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, আগের সরকার মামলাগুলি প্রত্যাহার করতে চেয়েছিল। তবে বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনেই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। রাজ্যের এই যুক্তিতে আদালত অবশ্য সন্তুষ্ট হয়নি। বিচারপতি জানান, কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান চারটি মামলায় জামিনের আবেদন করেছেন। বাকি ছ’টি মামলায় আপাতত কোনও পদক্ষেপ না করার জন্য তিনি রাজ্যকে নির্দেশ দেন। আদালতের সামনে এমন কোনও নথিও নেই, যা থেকে প্রমাণ হয় যে মিলনের বিরুদ্ধে ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’ কার্যকর ছিল।

এর আগে হলদিয়া মহকুমা আদালত মিলন প্রধানকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল। পরে কাঁথি আদালতও তাঁকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত জেল হেফাজতে পাঠায়। খেজুরি থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলায় বুধবার ফের মিলনকে কাঁথি আদালতে হাজির করানো হয়। সেখানেই তাঁর হেফাজত সংক্রান্ত পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলে।


Share