Shatadru Dutta

‘মেসি হাঁসফাঁস করছিল’, যুবভারতীর বিশৃঙ্খলা নিয়ে বিস্ফোরক শতদ্রু, কাঠগড়ায় পুলিশ-প্রশাসন

এই বিশৃঙ্খলার জেরে লিওনেল মেসিও অস্বস্তিতে পড়েছিলেন বলে দাবি শতদ্রুর। তাঁর বক্তব্য, অনেকে এসে মেসির গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

শতদ্রু দত্ত ও লিওনেল মেসি
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ মে ২০২৬ ০৪:২২

লিওনেল মেসির ভারত সফর ঘিরে সল্টলেক স্টেডিয়ামের বিশৃঙ্খলা নিয়ে বিতর্ক এখনও থামেনি। এ বার সরাসরি প্রশাসন ও পুলিশের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন ‘গোট ট্যুর’-এর অন্যতম আয়োজক শতদ্রু দত্ত। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, গোটা ঘটনার দায় এড়াতেই তাঁকে বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।

শতদ্রুর কথায়, ‘আমাকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। তাই এতদিন চুপ ছিলাম। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে আমাকে টার্গেট করা হয়েছে। এটা প্রশাসন আর পুলিশের ব্যর্থতা। আমি আয়োজক হতে পারি, কিন্তু আইনরক্ষক নই। নিরাপত্তা সামলাবে পুলিশ, এটাই ভেবেছিলাম।’

তাঁর দাবি, তিন বছর ধরে এই সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু কলকাতা পর্বে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, মাঠে ঢুকে পড়েন একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, আমলা এবং এমন কিছু পুলিশ অফিসারও, যাঁদের সেখানে থাকার কথা ছিল না।

শতদ্রুর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর সম্ভাব্য উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে জেড-প্লাস নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হলেও বাস্তবে ফিল্ড অফ প্লে কার্যত ভিড়ে ভরে যায়। তাঁর অভিযোগ, অনেকে মাঠে নেমে শুধুমাত্র ছবি তুলতেই ব্যস্ত ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ে তিনি নাকি কলকাতার পুলিশ কমিশনার এবং ডিজিপিকেও সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু যেসব পুলিশ কর্মীর মাঠে থাকার কথা নয়, তাঁরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, কোনও আমলাকে গিয়ে ছবি তুলতে বাধা দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না, কারণ সেটা নিরাপত্তা ব্যবস্থারই অংশ।

এই বিশৃঙ্খলার জেরে লিওনেল মেসিও অস্বস্তিতে পড়েছিলেন বলে দাবি শতদ্রুর। তাঁর বক্তব্য, অনেকে এসে মেসির গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, ফলে আর্জেন্তিনার তারকা ফুটবলার অত্যন্ত অস্বস্তিতে পড়েন। এমনকি আর্জেন্তিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো ডি পল সেলফি তুলতে গিয়ে কারও আঁচড়ের শিকার হন বলেও অভিযোগ তাঁর।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি উঠে এসেছে শতদ্রুর গ্রেফতারি নিয়ে। তাঁর বক্তব্য, সফরের পরবর্তী গন্তব্যে রওনা দেওয়ার আগে বিমানবন্দরে তাঁকে আটক করা হয়। সেই সময় নাকি মেসি পুরো ঘটনাটি দেখেছিলেন এবং আপত্তিও জানান। যদিও এই দাবির সরকারি কোনও স্বীকৃতি মেলেনি। তবু শতদ্রু জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, হায়দরাবাদ, মুম্বই ও দিল্লিতে সফরের অন্যান্য অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। তাই সমস্যার মূল কারণ আয়োজন নয়, বরং কলকাতার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা বলেই তাঁর মত। তাঁর বক্তব্য, প্রস্তুতিতে ত্রুটি থাকলে অন্য শহরেও একই ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা যেত।

এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, অতিরিক্ত ভিআইপি সংস্কৃতি এবং সেলফি-রাজনীতি কি শেষ পর্যন্ত পুরো অনুষ্ঠানকেই বিশৃঙ্খলার মুখে ঠেলে দিয়েছিল? ফুটবল তারকাদের উপস্থিতির চেয়ে ক্যামেরার সামনে থাকার প্রতিযোগিতাই কি বড় হয়ে উঠেছিল? মেসির ভারত সফর ঘিরে এখন সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।


Share