Kolkata Municipal Corporation

কলকাতা পুরসভায় প্রশাসনিক জট! অধিবেশন কক্ষে তালা, ক্লাব রুমেই সভা করলেন মালা রায় ও ফিরহাদ হাকিম, কটাক্ষ বিজেপির

অভিযোগ, নতুন সেক্রেটারি দায়িত্ব গ্রহণ না করার কথা জানান। তিনি চাবি দিতে অস্বীকার করেন। এরপর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ক্লাব রুমেই অধিবেশন শুরু করা হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ০৮:৩০

কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশনকে ঘিরে শুক্রবার তৈরি হল নজিরবিহীন পরিস্থিতি। নির্ধারিত সময়ে কাউন্সিলরেরা পুরসভায় পৌঁছোযন। কিন্তু অধিবেশন কক্ষের দরজায় তালা ঝুলতে দেখা যায়। ফলে কেউই ভিতরে ঢুকতে পারেননি। পরে বাধ্য হয়ে পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় কাউন্সিলর্‌স ক্লাব রুমেই সভার আয়োজন করেন। সেখানে মেয়র ফিরহাদ হাকিম-সহ তৃণমূলের একাধিক কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।

বিরোধী দলের কাউকে ওই সভায় দেখা যায়নি। জানা গিয়েছে, অধিবেশন কক্ষ খুলে দেওয়ার জন্য চেয়ারপার্সনের তরফে অনুরোধ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তালা খোলা হয়নি। অভিযোগ, নতুন সচিব দায়িত্ব গ্রহণ না করার কথা জানান। তিনি চাবি দিতে অস্বীকার করেন। এরপর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ক্লাব রুমেই অধিবেশন শুরু করা হয়।

তবে সেখানে পর্যাপ্ত বসার ও মাইকেরও ছিল না।কাউন্সিলরেরাই চেয়ার-টেবিল সরিয়ে ঘরটিকে সভার উপযোগী করে তোলেন। প্রথম দিকে মাইক ছাড়াই বক্তব্য রাখেন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ। পরে মেয়রের বক্তব্যের সময় একটি মাইকের ব্যবস্থা করা হয়।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন, অধিবেশন কক্ষ খোলা ও বন্ধ রাখার দায়িত্ব চেয়ারপার্সনের। এ দিনের ঘটনাকে তিনি “অপমানজনক” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজ করতে না দিলে সাংবিধানিক সঙ্কট তৈরি হতে পারে। বর্ষার আগে শহরের পরিষেবা ও নাগরিক সমস্যার প্রশ্নও তোলেন তিনি।

অন্য দিকে, মালা রায় জানান, কার নির্দেশে অধিবেশন কক্ষ বন্ধ রাখা হল এবং কেন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হল না, সে বিষয়ে লিখিত ভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে। তবে এখনও কোনও উত্তর মেলেনি। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে আগে কখনও ঘটেনি।

উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। তবে কলকাতা পুরসভা এখনও তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। 

যদিও এ বিষয়ে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বিজেপি কাউন্সিলর সজল ঘোষ বলেন, “এটা পুরসভার। মেয়রের জলসা করার ঘর নয়। এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। ক্ষমতা থেকে চলে গেলেও জমিদারি যায়নি। আমরা সচিবের কাছে অভিযোগ জানাব।”


Share