Calcutta High Court

নাম-প্রতীক নিয়ে কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ, তবু তহবিল মমতা তৃণমূলেরই! ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত পুরনো নির্দেশ বহাল রাখল হাই কোর্ট

তাই ওই নির্দেশের ভিত্তিতে তহবিল সংক্রান্ত আগের আদালতের নির্দেশে এখনই কোনও পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দলীয় তহবিল থেকে টাকা খরচ করার অধিকার মমতা তৃণমূলের কাছেই থাকবে।

কলকাতা হাই কোর্ট ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:২১

অবিভক্ত তৃণমূলের প্রতীক ও দলের নাম হাতছাড়া হলেও আপাতত দলীয় তহবিলের নিয়ন্ত্রণ মমতা তৃণমূলের হাতেই থাকছে। নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশের পরেও তহবিল নিয়ে কলকাতা হাই কোর্ট আগের অবস্থান থেকে সরল না। ফলে বহাল রইল উচ্চ আদালতের পূর্বের নির্দেশই।

সোমবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য পর্যবেক্ষণ করেন, নির্বাচন কমিশন এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। উপনির্বাচনের কথা মাথায় রেখে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে। তাই ওই নির্দেশের ভিত্তিতে তহবিল সংক্রান্ত আগের আদালতের নির্দেশে এখনই কোনও পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দলীয় তহবিল থেকে টাকা খরচ করার অধিকার মমতা তৃণমূলের কাছেই থাকবে।

নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশ অনুযায়ী, আপাতত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। এই পরিস্থিতিতে কালীঘাট তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলা গ্রহণযোগ্য নয় বলে আদালতে সওয়াল করল রাজ্য।

রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদারের যুক্তি, মামলাটি ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’-এর নামে দায়ের করা হয়েছে। অথচ নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশের পর ওই নামে কোনও রাজনৈতিক দল নেই। কমিশনের নির্দেশে দলের নাম এবং প্রতীকই আপাতত ফ্রিজ় করা হয়েছে। রাজ্যের এই যুক্তির পর আদালত জানায়, নির্বাচন কমিশন যেহেতু এখনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিয়েছে, তাই তহবিল সংক্রান্ত বিষয়ে আদালত আগের অবস্থানেই থাকবে। তবে রাজ্যের তরফে পাল্টা আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, এই মুহূর্তে আদালত হস্তক্ষেপ করলে ভবিষ্যতে তার প্রভাব পড়তে পারে। কমিশন যদি পরবর্তীতে তৃণমূলের কোনও একটি পক্ষের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, সে ক্ষেত্রে আদালতের বর্তমান নির্দেশের কী প্রভাব পড়বে, সেই প্রশ্নও তোলা হয়।


Share