Mamata Banerjee

মমতার জখম পায়ের রিপোর্ট প্রকাশ্যে! এসএসকেএম এবং স্বাস্থ্য ভবনকে আইনি নোটিস, উপনির্বাচনে ভোটের আগে তুঙ্গে বিতর্ক

মমতার জখম পায়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসায় আইনি নোটিস পাঠালেন তাঁর আইনজীবী। এসএসকেএম হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য ভবনের কাছে ব্যক্তিগত মেডিক্যাল তথ্য প্রকাশের কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:০৬

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জখম পায়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসা নিয়ে এবার আইনি পথে হাঁটলেন তিনি। ব্যক্তিগত মেডিক্যাল রিপোর্ট কীভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে এল, সেই প্রশ্ন তুলে এসএসকেএম হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য ভবনকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী। উপনির্বাচনের আগে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এই নোটিসকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিগত কয়েকদিন ধরে মমতার পায়ের আঘাতের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা চলছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠক করে ২০২১ সালের ১১ মার্চ বাঙুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সের ডিপার্টমেন্ট অব রেডিও ডায়াগোনস্টিকের রিপোর্ট তুলে ধরেন। সেই রিপোর্টে ‘নো এভিডেন্স অব ফ্র্যাকচার’ লেখা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে মমতার পায়ের আঘাত সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথাও জানান।

এরপরই আইনি নোটিস পাঠানোর সিদ্ধান্ত মমতার। নোটিসে বলা হয়েছে, কোনও সরকারি সংস্থা বা তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ আইন মেনে কোনও ব্যক্তির মেডিক্যাল নথি সংগ্রহ করলেও, সেই নথি সাধারণ মানুষের সামনে প্রকাশ করার স্বয়ংক্রিয় অধিকার তাদের তৈরি হয় না। আইনসঙ্গতভাবে কোনও রিপোর্ট হাতে পাওয়া এবং তা প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া-দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয় বলেই উল্লেখ করা হয়েছে।

মমতার আইনজীবী সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারকে সামনে এনেছেন। সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ের কথাও নোটিসে উল্লেখ রয়েছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ব্যক্তিগত তথ্য বলেও দাবি করা হয়েছে।

এছাড়াও Indian Medical Council (Professional Conduct, Etiquette and Ethics) Regulations, ২০০২-এর উল্লেখ করে বলা হয়েছে, রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখা চিকিৎসকের দায়িত্ব। নির্দিষ্ট আইনি অনুমতি ছাড়া সেই তথ্য প্রকাশ করা উচিত নয়।

নোটিসে আরও বলা হয়েছে, মমতা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হলেও তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে।

অন্য দিকে, শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম পর্বে মমতার পা ভাঙার দাবি নিয়ে সিআইডি তদন্ত করছে। নির্বাচনী বিধি উঠে গেলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তদন্তের কথাও বলেন তিনি। পাল্টা শান্তনু সেনের বক্তব্য, মমতা আইনগত নোটিস পাঠাতেই পারেন। একইসঙ্গে সিআইডি তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, শান্তনু সেনও মমতার পায়ের ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন।


Share