Raj Bhawan

আর মুখ‍্যমন্ত্রী নন মমতা, রাজভবনের সিলমোহরে ভাঙল সপ্তদশ বিধানসভা, ৯ মে নতুন সরকারের শপথে নজর রাজ্যের

সংবিধান মেনেই এদিন প্রথাগতভাবে বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করলেন রাজ্যপাল আর এন রবি।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ০৯:০৯

অবশেষে রাজভবনের সিলমোহর পড়ল। আর মুখ্যমন্ত্রী নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরাজয়ের পরেও পদ ছাড়তে নারাজ মমতা। বৃহস্পতিবার ছিল পশ্চিমবঙ্গের সপ্তদশ বিধানসভার মেয়াদের শেষ দিন। সংবিধান মেনেই এ দিন বর্তমান বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আর এন রবি। পরিষদীয় দফতরের তরফে জারি হওয়া গেজেট নোটিফিকেশনে জানানো হয়েছে, সংবিধানের ১৭৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ক্লজের (বি) উপধারায় প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দিক। সাধারণত বিধানসভা ভেঙে গেলে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। কিন্তু নবান্ন সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করেননি। কারণ, এটি শুধুমাত্র বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া। অন্তর্বর্তী পর্ব কাটিয়ে আগামী ৯ মে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বার প্রশ্ন, নতুন বিধানসভার অধিবেশন কবে? সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন মন্ত্রিসভার শপথের পরেই ডাকা হবে অষ্টাদশ বিধানসভার প্রথম অধিবেশন। তবে তার আগে রয়েছে একাধিক প্রথাগত প্রক্রিয়া।

প্রথমে রাজ্যপাল নবনির্বাচিত বিধায়কদের মধ্য থেকে একজনকে প্রোটেম স্পিকার হিসেবে নিয়োগ করবেন। তাঁকেই রাজ্যপাল অথবা বিধানসভার সচিব শপথবাক্য পাঠ করাবেন। এরপর শাসকদল বিজেপির মনোনীত প্রার্থীকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রোটেম স্পিকার। পরে নতুন স্পিকারই নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। তার পরেই আনুষ্ঠানিক ভাবে কাজ শুরু করবে পশ্চিমবঙ্গের অষ্টাদশ বিধানসভা।

এ দিকে দিল্লির নির্বাচন সদন থেকেও এসেছে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। আন্ডার সেক্রেটারি প্রফুল্ল অবস্থি জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে আদর্শ আচরণবিধি বা মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৪৪-ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ থাকায় আপাতত সেখানে আচরণবিধি বহাল থাকবে।

রাজভবনের এই গেজেট বিজ্ঞপ্তির পর এখন নজর ৯ মে-র দিকে। ওইদিন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়েই রাজ্যের প্রশাসনিক ও বিধানসভা কাঠামো ফের পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় হয়ে উঠবে।


Share