New Market Fire

নিউ মার্কেটে হোটেল বন্ধে বড় অভিযান, ১১টিতে ঝুলল তালা, আরও ১৭ হোটেলকে শোকজ, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব না দিলে বন্ধের হুঁশিয়ারি

কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে হোটেল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবাসিকদেরও বার করে দেওয়া হয়েছে। পুরো হোটেল খালি করতে প্রশাসনের তরফে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে।

নিউ মার্কেট এলাকায় ১১টি হোটেল বন্ধ করে দিল পুরসভা ও দমকলের যৌথ কমিটি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৬ ০৪:৪৭

নিউ মার্কেট এলাকায় ১১টি হোটেল বন্ধ করে দিল পুরসভা ও দমকলের যৌথ কমিটি। শুক্রবার সকাল থেকেই ওই এলাকায় পুরসভা, দমকল ও পুলিশের যৌথ অভিযান চলছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, অভিযান চলাকালীন বন্ধ হওয়া হোটেলের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পুরপ্রতিনিধিদের সঙ্গে পুলিশও অভিযানে রয়েছে। হোটেলগুলি পরিদর্শনের পর নির্দিষ্ট জায়গায় বন্ধের নোটিস সাঁটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে হোটেল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবাসিকদেরও বার করে দেওয়া হয়েছে। পুরো হোটেল খালি করতে প্রশাসনের তরফে ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে।

পুরসভা, দমকল ও পুলিশের যৌথ অভিযানে সকাল থেকেই নিউ মার্কেট এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, অধিকাংশ হোটেলেই অগ্নিনিরাপত্তা-সহ বিভিন্ন নিয়ম মানা হয়নি। এমনকি লাইসেন্স ছাড়াই কয়েকটি হোটেল চলছিল বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারই সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিকদের শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। সেই নোটিসের সন্তোষজনক জবাব না মেলায় শুক্রবার সরেজমিনে অভিযান চালানো হয়। অভিযানকারী দল হোটেলগুলিতে ঢুকে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা-সহ সামগ্রিক পরিকাঠামো খতিয়ে দেখছে। পরিদর্শনের পর নিয়মভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া গেলে হোটেলের নির্দিষ্ট জায়গায় বন্ধের নোটিশ সাঁটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আপাতত ২৩ নম্বর মার্কুইস স্ট্রিটের সাতটি এবং ২৫ নম্বর মার্কুইস স্ট্রিটের তিনটি হোটেল এই তালিকায় রয়েছে। অভিযানের পর আরও হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।

তেমনই এক হোটেলের রিসেপশনের দায়িত্বে থাকা কর্মী বলেন, ‘‘আমাদের এখানে নোটিশ লাগিয়ে দিয়ে গিয়েছে। বলেছে খালি করতে হবে। আমাদের অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র আছে। তবে ফায়ার অ্যালার্ম নেই। আগুনের আর কোনও ব্যবস্থা নেই। আমাদের ফায়ার লাইসেন্স রয়েছে। ২০২৪ সালের পর আর তা রিনিউ করা হয়নি। এখন এখানে পাঁচ-ছ’জন আবাসিক রয়েছেন। খালি করে দেব।’’

বাংলাদেশ থেকে শুক্রবার দুপুরেই কলকাতায় এসেছিলেন ফাহিমরা। আগে থেকেই একটি হোটেলে তাঁদের ঘর বুক করা ছিল। কিন্তু হোটেলে পৌঁছোনোর পর জানতে পারেন, প্রশাসনের নির্দেশে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে তাঁরা হোটেলে থাকার সুযোগ পাননি।

নিউ মার্কেট এলাকার যে সমস্ত হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধেই লাইসেন্স এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকার অভিযোগ উঠেছে। হোটেলগুলিতে ছোটখাটো আগুন নেভানোর মতো কিছু ব্যবস্থা থাকলেও বড়সড় অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলার জন্য কেন্দ্রীয় কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। কোথাও জলের পাম্প খারাপ, কোথাও আবার পাইপই নেই। আবার কোথাও জলের লাইন থাকলেও তা ব্যবহারের উপযুক্ত নয়। শুক্রবার অভিযানের সময় দমকল আধিকারিকেরা হোটেলগুলিতে ঘুরে এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখেন।

এর মধ্যেই নতুন করে নিউ মার্কেট এলাকার আরও ১৭টি হোটেলকে শুক্রবার শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট হোটেল কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ওই সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না মিললে সংশ্লিষ্ট হোটেলগুলিতেও ব্যবসা বন্ধের নোটিশ সাঁটিয়ে দেওয়া হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।


Share