Metro Railway

ময়দান মার্কেট খালি করার নির্দেশ! ২৬ অগস্টের ডেডলাইন, এসপ্ল্যানেড মেট্রোর কাজেই ৫২৮ ব্যবসায়ীর সাময়িক স্থানান্তর

পূর্ত দফতরের মাধ্যমে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (আরভিএনএল)-এর নোটিশ ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ীদের হাতে পৌঁছে গিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এটি কোনও উচ্ছেদ অভিযান নয়, মেট্রো প্রকল্পের স্বার্থে সাময়িক স্থানান্তরের পদক্ষেপ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৪ আগস্ট ২০২৬ ০৯:০৮

জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করল কর্তৃপক্ষ। এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনের নির্মাণকাজ শুরু করার লক্ষ্যে ময়দান মার্কেটের ৫২৮ জন ব্যবসায়ীকে আগামী ২৬ অগস্টের মধ্যে তাঁদের দোকান সাময়িকভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূর্ত দফতরের মাধ্যমে রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (আরভিএনএল)-এর নোটিশ ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ীদের হাতে পৌঁছে গিয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এটি কোনও উচ্ছেদ অভিযান নয়, মেট্রো প্রকল্পের স্বার্থে সাময়িক স্থানান্তরের পদক্ষেপ। তবে এই সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বহু নিয়মিত ক্রেতার মনেও উদ্বেগ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো করিডরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এসপ্ল্যানেড স্টেশনটি গড়ে তোলা হবে বর্তমান ময়দান মার্কেটের নীচে। সেই কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো এলাকা খালি করার ওপর জোর দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই ভিক্টোরিয়া স্টেশনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে এবং টানেল বোরিং মেশিন (টিবিএম) ওই অংশে পৌঁছে গিয়েছে। ফলে প্রকল্পের পরবর্তী ধাপের কাজও দ্রুত শুরু করতে তৎপর মেট্রো কর্তৃপক্ষ।

প্রশাসন সূত্রে খবর, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য কলকাতা পুলিশের মাউন্টেড প্যারেড গ্রাউন্ডে অস্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেখানে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলে ব্যবসায়ীদের দোকান স্থানান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই স্থানান্তরকে কেন্দ্র করে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। ব্যবসায়ীদের আপত্তি এবং রাজনৈতিক টানাপড়েনের কারণে বারবার থমকে যায় প্রকল্পের কাজ। তবে সম্প্রতি সেই অচলাবস্থা কাটতে শুরু করায় জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো প্রকল্পের নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অন্য দিকে, হকার সমস্যার সমাধানে নতুন উদ্যোগের ইঙ্গিত দিয়েছে নবান্ন। শনিবার পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের সঙ্গে ‘হকার্স জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি’র ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে হকারদের জন্য একটি রাজ্যস্তরের মনিটরিং কমিটি গঠনের আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রশাসনের দাবি, এই কমিটি পুরো রাজ্যে হকারদের সমীক্ষার কাজ পরিচালনা করবে। পাশাপাশি, সমীক্ষা প্রক্রিয়ায় হকার সংগঠনের প্রতিনিধিদেরও অন্তর্ভুক্ত রাখা হবে, যাতে তাঁদের মতামত ও স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া যায়।

এ দিনের বৈঠকে কলকাতা পুরসভার ২০১৫ সাল পর্যন্ত নথিভুক্ত ৫৯ হাজার ৫৯ জন হকারের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত, ওই তালিকাভুক্ত হকারদের স্বার্থ রক্ষায় ইতিবাচক পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ২০১৫ সালের পর যাঁরা রাস্তা বা ফুটপাথ দখল করে ব্যবসা শুরু করেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আপাতত কোনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত বা আশ্বাস দেয়নি প্রশাসন।

ময়দান মার্কেটে নিয়মিত কেনাকাটা করা বহু ক্রেতার আশঙ্কা, বাজারটি সাময়িকভাবে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলে কম দামে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সুযোগে প্রভাব পড়তে পারে। তবে ব্যবসায়ীরা আপাতত এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাননি। তাঁদের প্রধান চিন্তা, বিকল্প স্থানে যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন। এ দিকে প্রশাসনের লক্ষ্য, পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনের নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করা।


Share