Drugs Smuggling

হাইড্রোফোনিক গাঁজার চাহিদার সূচক উর্ধ্বমুখী! মাদক পাচারের ট্রানজিট রুটের হয়েছে পরিবর্তন, কীভাবে হবে নিয়ন্ত্রণ, চিন্তায় পুলিশ

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই গাছের বীজ বপনের সময় শুরু হয়। সেই দিকেই নজর রয়েছে। খবর পেলেই পুলিশ অভিযান চালাবে বলে জানা গিয়েছে। মাদকপাচার কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেই আরেক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬ ০৮:৩১

সাধারণ গাঁজা নয়। হাইড্রোফনিক গাঁজার চাহিদা বেড়েই চলেছে। চাহিদার সূচক এখন উর্ধ্বমুখী। দেশী গাঁজার পাত্তারি গুটিয়ে নিষিদ্ধ এই মাদকের রমরমা বাড়ছে। মূলত বিদেশ থেকে এই হাইড্রোফনিক গাঁজা আনা হয়। জানা গিয়েছে, আগে পাচারকারীরা যে রুট ব্যবহার করত তার পরিবর্তন হয়েছে। কীভাবে এই গাঁজার রমরমা ঠেকানো যায় তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগে রয়েছে পুলিশ।

এ রাজ্যে গাঁজা চাষের হটস্পট হিসেবে নদিয়া, কোচবিহার, পুরুলিয়া, বাঁকুড়াকে ধরা হয়। এই সমস্ত জায়গার বিভিন্ন কোণায় লুকিয়ে গাঁজার চাষ হয়। তবে তা ‘দেশীয়’ পদ্ধতিতে। তবে এই দেশীয় জিনিসের রমরমা আগের তুলনায় কমেছে। বেড়েছে হাইড্রোফনিক উইড বা গাঁজার চাহিদা। এটি ‘হাইড্রো উইড’ নামেও পরিচিত। এই মাদকের চাষ করতে গেলে মাটির প্রয়োজন হয় না। জলভিত্তিক উপায় এই মাদকের চাষ করা যায়। কৃত্রিম আলোতেও এই মাদকের চাষ হতে পারে। সেক্ষেত্রে গাঁজা গাছের বৃদ্ধির প্রতিটি ধাপ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আর্দ্রতা, তাপমাত্রা এবং পুষ্টির প্রবাহের মাধ্যমে এই গাছ চাষ করা সম্ভব।

উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পদ্ধতি অবলম্বন করে উৎপাদিত গাঁজায় অনেক সময় টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল (টিএইচসি)-এর মাত্রা তুলনামূলক ভাবে বেশি থাকে। টিএইচসি-ই গাঁজার ‘সাইকোঅ্যাক্টিভ’ উপাদান। এই রসায়নিকই নেশার জন‍্য দায়ী। তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ গাঁজাতে তিন থেকে চার শতাংশ টিএইচসি থাকে। এই হাইড্রোফনিক গাঁজায় টিএইচসি-র পরিমাণ থাকে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ। তবে তা অবশ্যই গাছের প্রজাতি, চাষের পরিবেশ এবং প্রক্রিয়াকরণের পদ্ধতির ওপরে নির্ভর করে। টিএইচসি-র পরিমাণ যত বেশি হবে মাদক ততই উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন হবে। বাড়বে অনুভূতি।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই গাঁজা দেশে চাষ করা হয় না। দেশের আবহাওয়া এই ধরনের গাঁজা চাষের উপযোগী নয়। তাই তাইল‍্যান্ডে এই চাষ কম খরচে হয়। সেখান থেকে বিমানবন্দর হয়ে কলকাতায় ঢোকে। তবে বিমানবন্দরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলির খপ্পর থেকে বাঁচতে ট্রানজিট রুটের পরিবর্তন করছে পাচারকারীরা। তাঁরা জানতে পেরেছে, তাইল‍্যান্ড থেকে আকাশপথে নেপালে আসছে। নেপাল থেকে এই মাদক পানিট‍্যাঙ্কি হয়ে রাজ্যে প্রবেশ করছে। তার পরে রাজ্যের বিভিন্ন কোণে তা ছড়িয়ে পড়েছে। আবার এই রাজ‍্যকেই ব‍্যবহার করে বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মধ‍্যপ্রদেশে যাচ্ছে।

কিছু দিন আগে কলকাতার কসবা থেকে প্রায় আট কেজি হাইড্রোফনিক গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়। যার বাজারমূল্য দু’কোটি টাকা। অর্থাৎ এই বিদেশি মাদকের এক কেজির মূল্য প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা। অন‍্য দিকে, প্রতি কেজির দেশী গাঁজার বাজারমূল্য ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। হাইড্রোফনিক গাঁজার মূল‍্য ২০ শতাংশ বেশি। অল্প নিয়ে এলে লাভ বেশি। বিক্রি হবে চড়া দামে। তাই এক সাথে বিপুল সামগ্রী আনা হয় না। অল্প করে এনে মজুত করা হয়। চাহিদা বুঝে তা বাজারে ছাড়া হয়। পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে সহজেই এই হাইড্রোফনিক গাঁজা পাচার করা হয়।

তদন্তকারীদের বক্তব্য, দেশী গাঁজার ২০ কেজি ওজনকে মাদক আইন মেনে তা ‘বাণিজ্যিক পরিমাণ’ হিসেবে গণ‍্য করা হয়। কিন্তু হাইড্রোফনিক গাঁজার একই ওজনই ‘বাণিজ্যিক পরিমাণ’ হিসেবে গণ‍্য করা হয়। সে ক্ষেত্রে দু’টি নিষিদ্ধ মাদক বিক্রি করে অবৈধ ভাবে উপার্জিত অর্থের পরিমাণ এক নয়। হাইড্রোফনিক গাঁজার ক্ষেত্রে তা আরও বেশি। তাই এই হাইড্রোফনিক গাঁজার বাণিজ্যিক পরিমাণকে আরও কমিয়ে ধরার বিষয়টি যাতে বিবেচনা করা হয় তার জন্য নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরোকে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।


তদন্তকারীরা মনে করছেন, উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মাদক বেশি দামে বিক্রি করার খোদ্দেরও বেড়ে চলেছে। তাই চাহিদা উর্ধ্বমুখী। পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায় নিরাপত্তার ফাঁকফোকর দিয়ে পাচারকারীরা বেরিয়ে যাচ্ছে। অল্প পরিমাণ মাদক উদ্ধার কিন্তু বিপুল টাকা কীভাবে আটকানো সম্ভব হবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করেন ওই পুলিশকর্তা।

পুলিশ সূত্রের খবর, এই সেপ্টেম্বর মাসে গাঁজা চাষের সময় শুরু হয়। মাদকপাচার রুখতে পুলিশ বিভিন্ন জেলার হটস্পট চিহ্নিত করেছে। তার মধ‍্যে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, নদিয়া, হুগলি (গ্রামীণ), কোচবিহার রয়েছে বলে সূত্রের খবর। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই গাছের বীজ বপনের সময় শুরু হয়। সেই দিকেই নজর রয়েছে। খবর পেলেই পুলিশ অভিযান চালাবে বলে জানা গিয়েছে। মাদকপাচার কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলেই আরেক পুলিশকর্তা জানিয়েছেন।


Share