Calcutta High Court

টিন্ডার থেকে প্রেম, তারপর ধর্ষণের মামলা! সেনা অফিসারকে বেকসুর খালাস দিল কলকাতা হাই কোর্ট

বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, এটি ছিল দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক এবং শুরু থেকেই বিয়ের কোনও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছিল এমন প্রমাণ আদালতের সামনে আসেনি।

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ০৩:০০

টিন্ডার অ্যাপে আলাপ থেকে শুরু হয়েছিল সম্পর্ক। সেই সম্পর্ক টানা সাড়ে তিন বছর চলার পর তা ভেঙে যেতে শুরু করলে এক সেনা অফিসারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন এক তরুণী। সেই মামলায় দায়রা আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করলেও, সম্প্রতি তাকে বেকসুর খালাস দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, এটি ছিল দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পারস্পরিক সম্মতিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ক এবং শুরু থেকেই বিয়ের কোনও মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছিল এমন প্রমাণ আদালতের সামনে আসেনি।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মে মাসে টিন্ডার অ্যাপে অভিযুক্ত সেনা অফিসার ও অভিযোগকারিণীর পরিচয় হয়। অভিযোগ ছিল, অভিযুক্ত নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দিয়েছিলেন এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই আশ্বাসেই অভিযোগকারিণী শারীরিক সম্পর্কে সম্মতি দেন বলে দাবি। তবে শুনানিতে উঠে আসে, ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরেই তরুণী জানতে পারেন যে অভিযুক্ত ইতিমধ্যেই বিবাহিত। তা সত্ত্বেও তাঁদের সম্পর্ক বজায় ছিল। আদালতে পেশ হওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে দু’জনে একসঙ্গে মুম্বই, বেঙ্গালুরু-সহ বিভিন্ন শহরে ভ্রমণ করেন এবং সহবাসও করেন। এর মধ্যেই অভিযুক্তের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। কিন্তু ২০২১ সালে সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হতেই তরুণী হাওড়ার ডোমজুড় থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন।

হাই কোর্ট রায়ে স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ’ এবং ‘শুরু থেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া’ এই দুইয়ের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। আদালতের মতে, কেবলমাত্র সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কারণে ধর্ষণের অভিযোগ প্রতিষ্ঠা করা যায় না। ডিভিশন বেঞ্চ আরও জানায়, অভিযোগকারিণী যখন জানতেন অভিযুক্ত বিবাহিত এবং ভবিষ্যতে বিয়ে হবে কি না তা অনিশ্চিত, তখন শুধুমাত্র বিয়ের আশ্বাসের ভিত্তিতে সম্পর্ক হয়েছিল এই দাবি গ্রহণযোগ্য নয়।

এ ছাড়াও গর্ভধারণ ও গর্ভপাত সংক্রান্ত অভিযোগকারিণীর বক্তব্যে অসঙ্গতির কথাও উল্লেখ করেছে আদালত। লিখিত অভিযোগ এবং আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে ভিন্নতা রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ ডিভিশন বেঞ্চের। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত কোনও চিকিৎসা-নথিও আদালতে জমা পড়েনি। সব দিক বিচার করে হাই কোর্টের মত, দীর্ঘ সময় ধরে পারস্পরিক সম্মতিতে চলা একটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে ধর্ষণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।


Share