New Market Fire

নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার লিজ হোল্ডার, খোঁজ মিলছে না হোটেল মালিকের

এ ছাড়াও, ঘটনার তদন্তে পুলিশ হোটেলের ম্যানেজার এবং এক কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, হোটেলের মালিক হিসেবে বীরেশ্বর মিত্রের নাম উঠে এসেছে। তাঁরও খোঁজ চলছে।

নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ ১১:৫২

নিউ মার্কেট থানা এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বুধবার গভীর রাতে হোটেলের লিজ হোল্ডারকে গ্রেফতার করল লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ। ধৃতের নাম আবু জাফর। এন্টালি মেন মার্কেট এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। এ ছাড়াও, ঘটনার তদন্তে পুলিশ হোটেলের ম্যানেজার এবং এক কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, হোটেলের মালিক হিসেবে বীরেশ্বর মিত্রের নাম উঠে এসেছে। তাঁরও খোঁজ চলছে।

মঙ্গলবার রাত দেড়টা থেকে দু’টোর মধ্যে মির্জা গালিব স্ট্রিটে দমকলের সদর দফতর থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে একটি ছ’তলা বাড়ির তৃতীয় তলায় ভয়াবহ আগুন লাগে। ওই তলাতেই ‘শিখা ইন’ নামে একটি হোটেল চলত। মাত্র এক হাজার ১০০ বর্গফুটের জায়গায় ঘুপচি ঘর ও শৌচালয় ছিল। ছিল না পর্যাপ্ত ঢোকা-বেরোনোর পথও। আবাসিক ভবনের মধ্যেই নিয়মনীতি উপেক্ষা করে হোটেল ব্যবসা চলছিল। অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে গিয়ে উঠে এসেছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পরিস্থিতি দেখে ‘শিখা ইন’-কে হোটেলের চেয়ে ‘জতুগৃহ’ বলাই যেন বেশি যুক্তিযুক্ত। সেই জতুগৃহেই মঙ্গলবার রাতে অসহায় অবস্থায় এক শিশু-সহ নয় জনের আগুনে পুড়ে মৃত্যু হয়। মৃতদের মধ্যে পাঁচ জনই বাংলাদেশি। মৃত শিশু-সহ তিন জন একই পরিবারের সদস্য। কেউ দেশে ফেরার আগে কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে রাত কাটানোর জন্য ‘শিখা ইন’-কে বেছে নিয়েছিলেন। আবার কেউ সুদূর বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন। তাঁদেরই মধ্যে কেউ কেউ ওই হোটেলে কাজও করতেন।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর অনিয়মের তথ্য। জানা গিয়েছে, ওই হোটেলগুলিতে কোনও জরুরি নির্গমন পথ বা ইমার্জেন্সি গেট ছিল না। যাতায়াতের জন্য ছিল মাত্র একটি অত্যন্ত সরু সিঁড়ি। অধিকাংশ ঘরেই পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থাও ছিল না। এমনকি আগুন নেভানোর ন্যূনতম পরিকাঠামোটুকুও সেখানে মজুত ছিল না বলে তদন্তকারীরা দাবি করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার রাত পর্যন্ত হোটেল কর্তৃপক্ষ ফায়ার লাইসেন্স বা ট্রেড লাইসেন্সও দেখাতে পারেননি। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর প্রশাসন আপাতত ওই বহুতলের সমস্ত হোটেল ও রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিয়েছে।

মির্জা গালিব স্ট্রিটের বহুতলের উল্টো দিকে থাকা একটি হোটেলের কর্মী ইন্দ্রদেব হালদার জানান, মঙ্গলবার রাত সওয়া দু'টো নাগাদ তাঁরাই প্রথম ‘শিখা ইন’-এ আগুন দেখতে পান। সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে তাঁর মোবাইল ফোনও সুইচড অফ হয়ে যায়। বুধবার রাত পর্যন্ত বীরেশ্বরের কোনও সন্ধান মেলেনি। কলকাতায় তাঁর দু’টি এবং দিঘায় আরও দু’টি হোটেল রয়েছে। বেহালায় তাঁর বাড়িতেও পুলিশ গিয়ে তাঁর খোঁজ পায়নি। তবে বীরেশ্বরের স্ত্রী লিপি মিত্রের দাবি, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর ‘হোটেলে যাচ্ছি’ বলে বুধবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তাঁর স্বামী। এর পর তাঁর সম্পর্কে আর কোনও তথ্য তাঁর জানা নেই।


Share