Dharmatala Incident

কোনও অনুমতি ছিল না, ধর্মতলায় আন্দোলনের নামে হয়েছে গুন্ডামি, স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করল লালবাজার

অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা হয়েছে। মোট ছ’টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে আক্রান্ত সাংবাদিকেরা পাঁচটি মামলা দায়ের করেছেন।

ধর্মতলায় আন্দোলন নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করল লালবাজার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১১:১৮

ধর্মতলায় আন্দোলনের নামে গুন্ডামি, মারধর, পুলিশ পেটানোর ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করল পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, মিছিল বা জমায়েতের কোনও অনুমতি ছিল না। মিছিল থেকে ক্রমাগত উস্কানি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে দুষ্কৃতীরা পুলিশের ওপরে হামলা চালিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের ওপরেও হামলা হয়েছে। এর ফলে একাকার শান্তি বিঘ্নিত হয়েছে।

গতকাল দুপুর প্রায় ২টা নাগাদ কমিউনিস্টদের ছাত্রসংগঠন— ডিএসও, ডিওয়াইও, সিপিআই (এমএল), ডিওয়াইএফআই, আইসা, পিডিএসএফ, আফসা, ডিএসএফ, আইএসআই, এপিডিআর শিয়ালদহ থেকে মিছিল করে। সেই মিছিল ধর্মতলায় এসে শেষ হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, মিছিলে প্রায় আট হাজারের লোক ছিল বলে অনুমান করা হচ্ছে। এর পরেই পতাকা, ব্যানার ও মাইক সমেত বিপুল সংখ্যক সমর্থকেরা ডোরিনা ক্রসিংয়ে ঢুকে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, পূর্বে এই কর্মসূচির জন‍্য কোনও অনুমতি ছিল না। এই জমায়েত সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে করা হয়েছিল।

সমস্ত তথ‍্যপ্রমাণ আসার পরেই শুক্রবার রাতেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর দায়ের করে পুলিশ। পুলিশের অভিযোগ, ওই এলাকায় আসার পর থেকেই মাইকে ব‍্যবহার করে ক্রমাগত উস্কানিমূলক বক্তব্য নেতারা রেখেছেন। তাঁরা সেখানে উপস্থিত বাকি আন্দোলনকারীদের পুরো ডোরিনা ক্রসিং দখল করতে প্ররোচিত করেছেন। এর ফলে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পুলিশের পক্ষ থেকে এই জনসমাবেশকে বারবার বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও নির্দেশ উপেক্ষা করা হয়েছে।

শুধু নির্দেশ উপেক্ষাই নয়, মাইক বাজিয়ে ক্রমাগত আন্দোলনকারীদের প্ররোচনা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, নেতৃত্বের নির্দেশে বিক্ষোভকারীদের একাংশ পুলিশ, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের এবং পথচারীদের লক্ষ্য করে জলের বোতল, জুতো, লাঠি ও পাথর ছুঁড়তে শুরু করে। পুলিশকে ক্রমাগত প্ররোচনা দেওয়া হয়। এই ঘটনায় কয়েক জন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন। ঘটনার সময় পুলিশ সংযমের পরিচয় দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে। পরবর্তীতে বিক্ষোভকারীদের নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে।

এই বিক্ষোভের জেরে দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। জনজীবন সম্পূর্ণ ভাবে ব্যাহত হয়। ভোগান্তি শিকার হন সাধারণ মানুষ। সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ১৫ মিনিটে বিক্ষোভকারীরা এলাকা ত্যাগ করেন। খুলে দেওয়া হয় ডোরিনা ক্রসিং।

লালবাজার জানিয়েছে, ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার বেআইনি সমাবেশ, বেআইনি সমাবেশ তুলে নেওয়ার করার নির্দেশ অমান্য করা, সমাবেশ থেকে হিংসা ছড়ানো, দাঙ্গা সংঘিত করা, অস্ত্র নিয়ে দাঙ্গায় অংশগ্রহণ করা, সরকারি কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বাধা ও মারধর, সরকারি কর্মচারীকে দায়িত্ব পালনে বাধা দিতে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ। জনসাধারণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা, শান্তিভঙ্গ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা,  সরকারি নির্দেশ অমান্য করা, একাধিক ব্যক্তি অভিন্ন উদ্দেশ্যে অপরাধ সংঘটিত করা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র করার ধারা দেওয়া হয়েছে।

অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়েছে। একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা হয়েছে। মোট ছ’টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে আক্রান্ত সাংবাদিকেরা পাঁচটি মামলা দায়ের করেছেন।


Share