Police Force

অপরাধের খবর মিলতেই দ্রুত অ্যাকশন, ‘১০০ ডায়াল’ পরিষেবাকে ঢেলে সাজাতে প্রযুক্তির ব্যবহার, নতুন পিসিআর ভ্যান ও জনবল বাড়ানোর পরিকল্পনা লালবাজারের

লালবাজারের লক্ষ্য, এই সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে প্রায় পাঁচ থেকে ছ'মিনিটের মধ্যে পুলিশকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেওয়া।

১০০ ডায়াল করলেই মিলবে পরিষেবা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ ১১:৩২

অপরাধ এবং কোনও ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশের ‘১০০ ডায়াল’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নাগরিক পরিষেবাকে সুরক্ষিত করতে আরও ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছে লালবাজার। অপরাধ বা জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকদের কাছে আরও কম সময়ে পুলিশি সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

লালবাজারের দাবি, বর্তমানে কলকাতা পুলিশের এলাকায় ‘১০০ ডায়ালে’ ফোন আসার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছোতে গড়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে। তাই পুলিশ কর্তাদের লক্ষ্য, এই সময়টাকে উল্লেখযোগ্য ভাবে কমিয়ে আনা। অনভিপ্রেত ঘটনা এড়াতে প্পাঁচ থেকে ছ'মিনিটের মধ্যে পুলিশ যাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছোতে পারে সেই দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে এই ব্যবস্থায় নাগরিকেরা যে ফোন করেন তা প্রথমে লালবাজারের কন্ট্রোল রুমে আসে। সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার পিসিআর ভ্যানের কাছে বার্তাটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যিনি ফোন করে সাহায্য চাইছেন জিপিএস লোকেশন-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য পিসিআর ভ্যানের কাছে পৌঁছে যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই দ্রুত ঘটনাস্থল চিহ্নিত করে পুলিশ পৌঁছোয়।

লালবাজার সূত্রের খবর, বিপদগ্রস্ত নাগরিকের লোকেশন চিহ্নিত করতে স্মার্ট ট‍্যাব দেওয়া হয়েছে। তবে লালবাজারের কর্তাদের মতে, সব পুলিশকর্মী এখনও ট্যাব ব‍্যবহার বা ডিজিটাল নেভিগেশন চিহ্নিত করতে সমান দক্ষ নন। তাই প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পুলিশকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

এ ছাড়াও, ‘১০০ ডায়ালে’ শুধু কলকাতা পুলিশের আওতাধীন এলাকা থেকেই নয়, অনেক সময় রাজ্য পুলিশের এলাকার জরুরি কলও আসে। সেক্ষেত্রে ঠিকানা শনাক্ত করে সেই তথ্য ভবানী ভবনের কন্ট্রোল রুমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় রাজ্য পুলিশ।

কলকাতা পুলিশের ‘১০০ ডায়াল’ পরিষেবায় বর্তমানে পর্যাপ্ত লোকবল ও পিসিআর ভ্যানের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। সূত্রের খবর, থানাভিত্তিক দু’টি করে এমন গাড়ি রয়েছে। সেই ঘাটতি মেটাতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ এবং আরও পিসিআর ভ্যান যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সূত্রের দাবি, এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও অর্থ বরাদ্দে কোনও সমস্যা হবে না বলে আশ্বাস মিলেছে। লক্ষ্য একটাই— ১০০ ডায়ালে ফোন এলেই যাতে দ্রুততার সঙ্গে সময় মতো পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য নতুন পিসিআর ভ্যানের পাশাপাশি সেগুলি পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত চালক ও পুলিশকর্মীও প্রয়োজন। বর্তমানে প্রতিটি পিসিআর ভ্যানের নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকা রয়েছে। তাঁদের বেধে দেওয়া এলাকার বাইরের কোথাও যাওয়ার অনুমতি থাকে না। কোনও ভ্যান নিজের নির্ধারিত এক্তিয়ারের বাইরে চলে গেলে কন্ট্রোল রুমে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা পৌঁছে যায়। এরপর বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পিসিআর কর্মীদের শোকজও করা হয়।

লালবাজারের মতে, প্রযুক্তি, পর্যাপ্ত লোকবল এবং আধুনিক পরিকাঠামোর সমন্বয় ঘটাতে পারলেই ‘১০০ ডায়াল’ পরিষেবা আরও দ্রুত, নির্ভুল ও কার্যকর হয়ে উঠবে।


Share